আয় বেশি আ’লীগ প্রার্থীর, সম্পদে এগিয়ে বিএনপি
jugantor
আয় বেশি আ’লীগ প্রার্থীর, সম্পদে এগিয়ে বিএনপি

  সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

২২ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:৪০:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের আয় বেশি, তবে সম্পদে এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী এজেডএম মঈনুল হক চৌধুরী খোকন।

ব্যবসা ও অন্যান্য খাত থেকে আওয়ামী প্রার্থী জোবায়েরের আয় ৫ লাখ ৯৮ হাজার ১৪০ টাকা। অন্যদিকে আইনজীবী এজেডএম মঈনুল হক চৌধুরী খোকনের আয় ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্যান্য কোনো খাতে আয় নেই তার। দুজনেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ পাশ।

নির্বাচন কমিশনে দুই প্রার্থীর জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফ নামার তথ্যানুযায়ী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের পেশা ব্যবসা। নগরের আন্দরিকল্লা সিরাজউদদৌল্লা রোডে মেসার্স গ্রিন ডট এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রিলায়েন্স কনস্ট্রাকশন নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। এ খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪০ টাকা। অন্যান্য খাত থেকে তার আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। নগদ, ব্যাংকে জমা সব মিলিয়ে তার আছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩১০ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া পৌর সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৪৪ বর্গফুট জায়গায় ৪ তলা বাড়ির অর্ধেকাংশের মালিক। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ এবং আসবাব পত্রের মধ্যে আছে চেয়ার টেবিল খাট ইত্যাদি।

অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী এজেডএম মঈনুল হক চৌধুরী খোকনের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী। আইন পেশা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্যান্য কোনো খাতে আয় নেই তার। তবে নগদ, ব্যাংকে জমা, ৪টি এফডিআর ও ১টি ডিপিএস সব মিলিয়ে ব্যাংকে গচ্ছিত আছে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮২ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে যৌথ মালিকানায় ৭০ হাজার টাকার ১০০ শতক কৃষি জমি এবং ১ লাখ টাকার ১০ শতক অকৃষি জমি, ৮ শতকের যৌথ দালান আছে।

আওয়ামী প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে বাৎসরিক আয় ২ লাখ ২০ হাজার ৮০০টাকা। পেশা থেকে আয় (শিক্ষকতা, আইন, চিকিৎসা ইত্যাদি) সাড়ে ৪ লাখ টাকা। বাস, ট্রাক, মটরগাড়ি, স্টিমার, বিমান ও মটর সাইকেল খাত থেকে বাৎসরিক আয় ৮ লাখ টাকা।

বিএনপি প্রার্থীর উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের কোনো আয় নেই। আর বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রীর নামে আছে ১০ ভরি স্বর্ণ, বিয়ের সময় দেয়া ১ লাখ টাকা। আছে টিভি, ফ্রিজ, খাট, পালং, সোফা।

এছাড়া আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের স্ত্রীর নামে স্ত্রীর নামে নগদ টাকা আছে ২৯ হাজার ১২০ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকা। স্বর্ণ ও অন্যান্য ও মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকার আছে ৫০ ভরি। ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে মোবাইল, আসবাবপত্র খাট ও সোফাসেট।

হলফনামার তথ্যানুযায়ী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো মামলা মোকদ্দমা নেই। আর বিএনপি প্রার্থী এজেডএম মঈনুল হক চৌধুরী খোকনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি অপরাধের কোনো মামলা মোকদ্দমা না থাকলেও অতীতে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় পল্টন থানায় একটি, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের (গ) ও (খ) ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৩ ও ৫ এ মামলা ছিল দুটি। তবে সবগুলো মামলা থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে দুইজন, কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ আছে।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৩৭ হাজার ৫৪০ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৬২২ জন পুরুষ ও ১৭ হাজার ৯১৮ জন মহিলা ভোটার রয়েছে।

আয় বেশি আ’লীগ প্রার্থীর, সম্পদে এগিয়ে বিএনপি

 সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
২২ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের আয় বেশি, তবে সম্পদে এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী এজেডএম মঈনুল হক চৌধুরী খোকন।

ব্যবসা ও অন্যান্য খাত থেকে আওয়ামী প্রার্থী জোবায়েরের আয় ৫ লাখ ৯৮ হাজার ১৪০ টাকা। অন্যদিকে আইনজীবী এজেডএম মঈনুল হক চৌধুরী খোকনের আয় ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্যান্য কোনো খাতে আয় নেই তার। দুজনেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ পাশ।

নির্বাচন কমিশনে দুই প্রার্থীর জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফ নামার তথ্যানুযায়ী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের পেশা ব্যবসা। নগরের আন্দরিকল্লা সিরাজউদদৌল্লা রোডে মেসার্স গ্রিন ডট এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রিলায়েন্স কনস্ট্রাকশন নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। এ খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪০ টাকা। অন্যান্য খাত থেকে তার আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। নগদ, ব্যাংকে জমা সব মিলিয়ে তার আছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩১০ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া পৌর সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৪৪ বর্গফুট জায়গায় ৪ তলা বাড়ির অর্ধেকাংশের মালিক। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ এবং আসবাব পত্রের মধ্যে আছে চেয়ার টেবিল খাট ইত্যাদি।

অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী এজেডএম মঈনুল হক চৌধুরী খোকনের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী। আইন পেশা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্যান্য কোনো খাতে আয় নেই তার। তবে নগদ, ব্যাংকে জমা, ৪টি এফডিআর ও ১টি ডিপিএস সব মিলিয়ে ব্যাংকে গচ্ছিত আছে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮২ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে যৌথ মালিকানায় ৭০ হাজার টাকার ১০০ শতক কৃষি জমি এবং ১ লাখ টাকার ১০ শতক অকৃষি জমি, ৮ শতকের যৌথ দালান আছে।

আওয়ামী প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে বাৎসরিক আয় ২ লাখ ২০ হাজার ৮০০টাকা। পেশা থেকে আয় (শিক্ষকতা, আইন, চিকিৎসা ইত্যাদি) সাড়ে ৪ লাখ টাকা। বাস, ট্রাক, মটরগাড়ি, স্টিমার, বিমান ও মটর সাইকেল খাত থেকে বাৎসরিক আয় ৮ লাখ টাকা।

বিএনপি প্রার্থীর উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের কোনো আয় নেই। আর বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রীর নামে আছে ১০ ভরি স্বর্ণ, বিয়ের সময় দেয়া ১ লাখ টাকা। আছে টিভি, ফ্রিজ, খাট, পালং, সোফা।

এছাড়া আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের স্ত্রীর নামে স্ত্রীর নামে নগদ টাকা আছে ২৯ হাজার ১২০ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকা। স্বর্ণ ও অন্যান্য ও মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকার আছে ৫০ ভরি। ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে মোবাইল, আসবাবপত্র খাট ও সোফাসেট।

হলফনামার তথ্যানুযায়ী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো মামলা মোকদ্দমা নেই। আর বিএনপি প্রার্থী এজেডএম মঈনুল হক চৌধুরী খোকনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি অপরাধের কোনো মামলা মোকদ্দমা না থাকলেও অতীতে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় পল্টন থানায় একটি, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের (গ) ও (খ) ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৩ ও ৫ এ মামলা ছিল দুটি। তবে সবগুলো মামলা থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে দুইজন, কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ আছে।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৩৭ হাজার ৫৪০ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৬২২ জন পুরুষ ও ১৭ হাজার ৯১৮ জন মহিলা ভোটার রয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন