শ্রমিককে হত্যায় পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন আদালত
jugantor
শ্রমিককে হত্যায় পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন আদালত

  লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:০১:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরে ইটভাটা শ্রমিক কাশেম আলীকে (২৮) হত্যার ঘটনায় আদালতে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সদর থানা পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চলের (সদর) বিচারক তারেক আজিজ এ নির্দেশনা দেন।

বাদীর আইনজীবী লুৎফুর রহমান রহিম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত কাশেম আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অচেনা ৪ জনের নামে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চলে (সদর) মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলো- সদর উপজেলা তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের আন্ধারমানিক এলাকার জসিম ব্রিক ফিল্ডের মাঝি মো. সবুজ, তার ভাই মো. মঞ্জু, মো. স্বপন, একই এলাকার ইব্রাহিম ও অচেনা ৪ জন।

বাদীর আইনজীবী লুৎফুর রহমান রহিম গাজী বলেন, কাশেম হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি আদালতের বিচারক তারেক আজিজ আমলে নিয়েছেন। হত্যার ঘটনায় সদর থানা পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপসহ আগামী ৫ দিনের মধ্যে ওসিকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। প্রতিবেদন অনুযায়ী আদালত পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

এজাহার সূত্র জানায়, ইটভাটার মাঝি সবুজ এক লাখ ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কাশেমকে কাজে নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কাজে যোগদানের আগে সব টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সবুজ তা করেনি। কাশেমকে তিনি ৯৪ হাজার টাকা দেয়। বাকি ২১ হাজার টাকার জন্য কাশেম একাধিকবার সবুজকে বলে কিন্তু সবুজ কর্ণপাত করছিল না।

এ নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি কাশেম টাকার জন্য সবুজের বিরুদ্ধে সালিশ বৈঠক বসানোর হুশিয়ারি দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজ তার সঙ্গে অকথ্য ভাষায় খারাপ ব্যবহার করে। এতে কাশেমও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সবুজ অন্য আসামিদের নিয়ে ইটভাটায় কাশেমের ওপর হামলা করে। আশপাশের লোকজন এসে কাশেমকে উদ্ধার করে। উপস্থিত সবার সামনে কাশেমকে হত্যার হুশিয়ারি দেয় সবুজ। বিষয়টি কাশেম তার স্ত্রী ও মামলার বাদী নুরজাহানকে জানিয়েছেন।

১৫ জানুয়ারি সকালে কাশেম ইটভাটায় কাজের উদ্দেশ্যে চলে যায়। ১৮ জানুয়ারি সকালে কাশেম বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়। পথে আবদুর রহিমের দোকানে চা খেয়ে বাড়ি ফেরার পথেই আসামিরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

বাদী নুরজাহান বেগম জানান, কাশেমকে পরিকল্পিতভাবে সবুজ মাঝিসহ আসামিরা হত্যা করেছে। ঘটনাটিকে অন্যদিকে নিতে আসামিরাই পুলিশকে ফোন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা সাজিয়েছে। আসামি স্বপন তাকে থানায় নিয়ে সাদা কাগজে সই নিয়ে অপমৃত্যু মামলা করিয়েছে। স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে তিনি আদালতে সবুজসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এদিকে ঘটনার দিন পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে ইটভাটার মাঝি মো. সবুজ নিজেকে কাশেমের চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে বক্তব্য দেন। তখন তিনি জানান, ইটভাটা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে কে বা কারা কাশেমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সবুজ।

শ্রমিককে হত্যায় পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন আদালত

 লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরে ইটভাটা শ্রমিক কাশেম আলীকে (২৮) হত্যার ঘটনায় আদালতে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সদর থানা পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চলের (সদর) বিচারক তারেক আজিজ এ নির্দেশনা দেন।

বাদীর আইনজীবী লুৎফুর রহমান রহিম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত কাশেম আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অচেনা ৪ জনের নামে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চলে (সদর) মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলো- সদর উপজেলা তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের আন্ধারমানিক এলাকার জসিম ব্রিক ফিল্ডের মাঝি মো. সবুজ, তার ভাই মো. মঞ্জু, মো. স্বপন, একই এলাকার ইব্রাহিম ও অচেনা ৪ জন। 
 
বাদীর আইনজীবী লুৎফুর রহমান রহিম গাজী বলেন, কাশেম হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি আদালতের বিচারক তারেক আজিজ আমলে নিয়েছেন। হত্যার ঘটনায় সদর থানা পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপসহ আগামী ৫ দিনের মধ্যে ওসিকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। প্রতিবেদন অনুযায়ী আদালত পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
 
এজাহার সূত্র জানায়, ইটভাটার মাঝি সবুজ এক লাখ ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কাশেমকে কাজে নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কাজে যোগদানের আগে সব টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সবুজ তা করেনি। কাশেমকে তিনি ৯৪ হাজার টাকা দেয়। বাকি ২১ হাজার টাকার জন্য কাশেম একাধিকবার সবুজকে বলে কিন্তু সবুজ কর্ণপাত করছিল না।

এ নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি কাশেম টাকার জন্য সবুজের বিরুদ্ধে সালিশ বৈঠক বসানোর হুশিয়ারি দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজ তার সঙ্গে অকথ্য ভাষায় খারাপ ব্যবহার করে। এতে কাশেমও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সবুজ অন্য আসামিদের নিয়ে ইটভাটায় কাশেমের ওপর হামলা করে। আশপাশের লোকজন এসে কাশেমকে উদ্ধার করে। উপস্থিত সবার সামনে কাশেমকে হত্যার হুশিয়ারি দেয় সবুজ। বিষয়টি কাশেম তার স্ত্রী ও মামলার বাদী নুরজাহানকে জানিয়েছেন।

১৫ জানুয়ারি সকালে কাশেম ইটভাটায় কাজের উদ্দেশ্যে চলে যায়। ১৮ জানুয়ারি সকালে কাশেম বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়। পথে আবদুর রহিমের দোকানে চা খেয়ে বাড়ি ফেরার পথেই আসামিরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। 

বাদী নুরজাহান বেগম জানান, কাশেমকে পরিকল্পিতভাবে সবুজ মাঝিসহ আসামিরা হত্যা করেছে। ঘটনাটিকে অন্যদিকে নিতে আসামিরাই পুলিশকে ফোন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা সাজিয়েছে। আসামি স্বপন তাকে থানায় নিয়ে সাদা কাগজে সই নিয়ে অপমৃত্যু মামলা করিয়েছে। স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে তিনি আদালতে সবুজসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এদিকে ঘটনার দিন পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে ইটভাটার মাঝি মো. সবুজ নিজেকে কাশেমের চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে বক্তব্য দেন। তখন তিনি জানান, ইটভাটা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে কে বা কারা কাশেমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সবুজ।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন