আমতলীতে মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা
jugantor
আমতলীতে মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:০২:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

মো. অলিউল্লাহ হাওলাদার।

বরগুনার আমতলী উপজেলায় মেয়ের সামনেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করলেন স্বামী মো. অলিউল্লাহ হাওলাদার। ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী পৌর শহরের সিকদারবাড়ি সড়কে সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে।

নিহত গৃহবধূর নাম রাবেয়া বেগম (৩৫)। তিনি আমতলী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অলিউল্লাহর স্ত্রী।

স্বামী অলিউল্লাহ বেসরকারি সংস্থা কোডেক বরগুনার পুরাকাটা শাখায় ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের আবদুস ছত্তার হাওলাদারের ছেলে মো. অলিউল্লাহ সঙ্গে চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের আবদুল আজিজ মোল্লার মেয়ে রাবেয়া আক্তারের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই রাবেয়াকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে স্বামী অলিউল্লাহ। ঠুনকো ঘটনায় অলিউল্লাহ তার মায়ের প্ররোচনায় স্ত্রী রাবেয়াকে মারধর করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েকবার বাবার বাড়িতে চলে যায় রাবেয়া। বিয়ের দুই বছরের মাথায় শিশুকন্যা সানজিদার জন্ম হয়।

স্বামী অলিউল্লাহ বেসরকারি সংস্থা কোডেক বরগুনার পুরাকাটা শাখায় ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করের। বর্তমানে আমতলী পৌরশহরে শিকদারবাড়ি সড়কে জমি কিনে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। ওই বাসাসংলগ্ন আরও জমি ক্রয়ের জন্য দুই লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। ওই টাকা স্ত্রী রাবেয়াকে তার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে বলে।

কিন্তু রায়েবা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকার করে।

রোববার রাতে স্ত্রী রাবেয়াকে তার ভাই বশির উদ্দিনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিতে বলে। এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায় স্বামী অলিউল্লাহ স্ত্রী রাবেয়াকে বেধড়ক মারধর করে। সোমবার সকালে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে অলিউল্লাহ লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে শিশুকন্যা সানজিদা ও ছেলে সাজিদের সামনে স্ত্রী রাবেয়াকে পিটিয়ে বাম হাত ভেঙে দেয়।

এ সময় শিশুকন্যার সামনেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করে। এর পর শ্যালক বশির উদ্দিন মোল্লাকে মোবাইল ফোনে জানায়, তোর বোনকে আমি পিটিয়ে হত্যা করেছি। তুই এসে মরদেহ নিয়ে যা। শিশুকন্যার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ঘাতক স্বামী অলিউল্লাহকে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসে এবং ওই সময়েই ঘাতক স্বামী অলিউল্লাহকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বশিরউদ্দিন বাদী হয়ে ওই দিন দুপুরে অলিউল্লাহ ও তার মা রাবেয়া বেগমকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের শিশুকন্যা সানজিদা (১০) জানায়, বাবার অত্যাচারে মা সকালের খাবার খেতে পারেনি। বাবা দাদির সহযোগিতায় মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি বাবার হাত থেকে লোহার অ্যাঙ্গেল নিয়ে গেলে দাদি বাবার হাতে ইট তুলে দেয়। ওই ইট দিয়েই পিটিয়ে মায়ের মাথা থেঁতলে দিয়েছে। এর পর মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

নিহত রাবেয়া আক্তারের ভাই স্কুলশিক্ষক মো. বশিরউদ্দিন বলেন, সোমবার খুব সকালে আমার বোন আমাকে ফোনে জানায়, ভাইয়া দুই লাখ টাকা দিতে আমি অস্বীকার করায় আমাকে অলি রাতে মারধর করেছে। আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। আমাকে রক্ষা কর।

তিনি আরও বলেন, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমার ভগ্নিপতি অলিউল্লাহ আমাকে মোবাইল ফোনে বলেন, তোর বোনকে আমি পিটিয়ে হত্যা করেছি। তুই এসে তোর বোনের মরদেহ নিয়ে যা।

আমতলী থানায় এসআই নাসরিন আক্তার বলেন, নিহত রাবেয়া আক্তারের বাম হাত ভাঙা, ডান হাতের আঙুল থেঁতলানো, বাম চোখ রক্তাক্ত, মাথা থেঁতলানো, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ঘাতক স্বামী অলিউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

আমতলীতে মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মো. অলিউল্লাহ হাওলাদার।
মো. অলিউল্লাহ হাওলাদার। ছবি: যুগান্তর

বরগুনার আমতলী উপজেলায় মেয়ের সামনেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করলেন স্বামী মো. অলিউল্লাহ হাওলাদার। ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী পৌর শহরের সিকদারবাড়ি সড়কে সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে।

নিহত গৃহবধূর নাম রাবেয়া বেগম (৩৫)। তিনি আমতলী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অলিউল্লাহর স্ত্রী।

স্বামী অলিউল্লাহ বেসরকারি সংস্থা কোডেক বরগুনার পুরাকাটা শাখায় ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের আবদুস ছত্তার হাওলাদারের ছেলে মো. অলিউল্লাহ সঙ্গে চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের আবদুল আজিজ মোল্লার মেয়ে রাবেয়া আক্তারের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই রাবেয়াকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে স্বামী অলিউল্লাহ। ঠুনকো ঘটনায় অলিউল্লাহ তার মায়ের প্ররোচনায় স্ত্রী রাবেয়াকে মারধর করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েকবার বাবার বাড়িতে চলে যায় রাবেয়া। বিয়ের দুই বছরের মাথায় শিশুকন্যা সানজিদার জন্ম হয়।

স্বামী অলিউল্লাহ বেসরকারি সংস্থা কোডেক বরগুনার পুরাকাটা শাখায় ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করের। বর্তমানে আমতলী পৌরশহরে শিকদারবাড়ি সড়কে জমি কিনে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। ওই বাসাসংলগ্ন আরও জমি ক্রয়ের জন্য দুই লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। ওই টাকা স্ত্রী রাবেয়াকে তার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে বলে।

কিন্তু রায়েবা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকার করে।
 
রোববার রাতে স্ত্রী রাবেয়াকে তার ভাই বশির উদ্দিনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিতে বলে। এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায় স্বামী অলিউল্লাহ স্ত্রী রাবেয়াকে বেধড়ক মারধর করে। সোমবার সকালে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে অলিউল্লাহ লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে শিশুকন্যা সানজিদা ও ছেলে সাজিদের সামনে স্ত্রী রাবেয়াকে পিটিয়ে বাম হাত ভেঙে দেয়।

এ সময় শিশুকন্যার সামনেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করে। এর পর শ্যালক বশির উদ্দিন মোল্লাকে মোবাইল ফোনে জানায়, তোর বোনকে আমি পিটিয়ে হত্যা করেছি। তুই এসে মরদেহ নিয়ে যা। শিশুকন্যার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ঘাতক স্বামী অলিউল্লাহকে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসে এবং ওই সময়েই ঘাতক স্বামী অলিউল্লাহকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বশিরউদ্দিন বাদী হয়ে ওই দিন দুপুরে অলিউল্লাহ ও তার মা রাবেয়া বেগমকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের শিশুকন্যা সানজিদা (১০) জানায়, বাবার অত্যাচারে মা সকালের খাবার খেতে পারেনি। বাবা দাদির সহযোগিতায় মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি বাবার হাত থেকে লোহার অ্যাঙ্গেল নিয়ে গেলে দাদি বাবার হাতে ইট তুলে দেয়। ওই ইট দিয়েই পিটিয়ে মায়ের মাথা থেঁতলে দিয়েছে। এর পর মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

নিহত রাবেয়া আক্তারের ভাই স্কুলশিক্ষক মো. বশিরউদ্দিন বলেন, সোমবার খুব সকালে আমার বোন আমাকে ফোনে জানায়, ভাইয়া দুই লাখ টাকা দিতে আমি অস্বীকার করায় আমাকে অলি রাতে মারধর করেছে। আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। আমাকে রক্ষা কর।

তিনি আরও বলেন, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমার ভগ্নিপতি অলিউল্লাহ আমাকে মোবাইল ফোনে বলেন, তোর বোনকে আমি পিটিয়ে হত্যা করেছি। তুই এসে তোর বোনের মরদেহ নিয়ে যা।

আমতলী থানায় এসআই নাসরিন আক্তার বলেন, নিহত রাবেয়া আক্তারের বাম হাত ভাঙা, ডান হাতের আঙুল থেঁতলানো, বাম চোখ রক্তাক্ত, মাথা থেঁতলানো, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ঘাতক স্বামী অলিউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন