‘নৌকা ডোবালেন নেতারা’
jugantor
‘নৌকা ডোবালেন নেতারা’

  জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি  

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:২০:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে নামেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মোহসীন। নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৭৬৫। ৮১.৩ শতাংশ ভোট পড়লেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র তিন শতাংশ ভোট।

দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় কোন্দল আর দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা কাউন্সিল না হওয়ার কারণে এমন পরাজয় ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীর। ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপে নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপাসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ছয়জন।

১৪ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বাবলু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষ প্রতীকের ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী। তার প্রাপ্ত ভোট ১০ হাজার ৬০৮। সেখানে ১৫টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছে ৭৬৫।

তবে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী মো. মোহসীন দোষ দিচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। সোমবার পৌরসভার মাথাভাঙ্গায় তার বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি তার ক্ষোভের কথা জানান।

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বিভক্ত রাজনীতি, দীর্ঘদিন থেকে কাউন্সিল না হওয়াসহ নানা দিক নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে। সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার এমন বিপর্যয় কেন? জানতে চাইলে মো. মোহসীন বলেন, দলীয় নেতারা আমার নির্বাচন করলেও বিদ্রোহী ও ধানের শীষ প্রার্থীর সঙ্গে তাদের সখ্যতা ছিল, যার কারণে দলটির এমন বিপর্যয়।

তিনি আরও বলেন, নেতারা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে আমাকে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করেছেন। তিনি পৌর আওয়ামী লীগসহ সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বাবলুর পক্ষে কাজ করেন বলে অভিযোগ করেন।

অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার আলী মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন মো. মোহসীন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টির মাধ্যমে দলটিকে পুন:গঠন করার অনুরোধ জানান দলীয় হাইকমান্ডের কাছে।

সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে আমাদের ভুল ছিল; যার জন্য আমাদের এ বিপর্যয়।

বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, কেউ প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।

প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল বলেন, প্রার্থী তার মতো করে বলতেই পারেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রার্থী তার নিজ কেন্দ্রেই ভোট পেয়েছেন মাত্র ৬২টি। এ ব্যর্থতা কার? দীর্ঘদিনের বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে হলে কাউন্সিলের বিকল্প নেই বলে জানান তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, জলঢাকা উপজেলায় ২০০৪ সালে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

‘নৌকা ডোবালেন নেতারা’

 জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে নামেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মোহসীন। নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৭৬৫। ৮১.৩ শতাংশ ভোট পড়লেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র তিন শতাংশ ভোট।

দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় কোন্দল আর দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা কাউন্সিল না হওয়ার কারণে এমন পরাজয় ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীর। ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপে নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপাসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ছয়জন।

১৪ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বাবলু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষ প্রতীকের ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী। তার প্রাপ্ত ভোট ১০ হাজার ৬০৮। সেখানে ১৫টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছে ৭৬৫।

তবে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী মো. মোহসীন দোষ দিচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। সোমবার পৌরসভার মাথাভাঙ্গায় তার বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি তার ক্ষোভের কথা জানান।

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বিভক্ত রাজনীতি, দীর্ঘদিন থেকে কাউন্সিল না হওয়াসহ নানা দিক নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে। সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার এমন বিপর্যয় কেন? জানতে চাইলে মো. মোহসীন বলেন, দলীয় নেতারা আমার নির্বাচন করলেও বিদ্রোহী ও ধানের শীষ প্রার্থীর সঙ্গে তাদের সখ্যতা ছিল, যার কারণে দলটির এমন বিপর্যয়।

তিনি আরও বলেন, নেতারা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে আমাকে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করেছেন। তিনি পৌর আওয়ামী লীগসহ সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বাবলুর পক্ষে কাজ করেন বলে অভিযোগ করেন।

অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার আলী মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন মো. মোহসীন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টির মাধ্যমে দলটিকে পুন:গঠন করার অনুরোধ জানান দলীয় হাইকমান্ডের কাছে।

সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে আমাদের ভুল ছিল; যার জন্য আমাদের এ বিপর্যয়।

বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, কেউ প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।

প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল বলেন, প্রার্থী তার মতো করে বলতেই পারেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রার্থী তার নিজ কেন্দ্রেই ভোট পেয়েছেন মাত্র ৬২টি। এ ব্যর্থতা কার? দীর্ঘদিনের বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে হলে কাউন্সিলের বিকল্প নেই বলে জানান তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, জলঢাকা উপজেলায় ২০০৪ সালে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন