কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ জানেন না কমিটির কেউ!
jugantor
কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ জানেন না কমিটির কেউ!

  মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:১৫:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

দায়সারা গোছের কাজ

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্যরা জানেন না প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ কত? এ নিয়েও চলছে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় নায়েকপুর ইউনিয়নে সোনাখালী হাবিব চেয়ারম্যানের বাড়ি হতে বারেক মাজনেরটেক পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ পায়।
এ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, দায়সারাভাবে কিছু মাটি কেটেছে। এ সময় কত টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন জানতে চাইলে প্রকল্পের সদস্য ওয়ারিশ মিয়া বলেন- বরাদ্দের ব্যাপারে কিছু জানা নেই তার।

প্রকল্পের মাটি কাটার তদারককারী আব্দুর রউফ বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব কাজ করানোর জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়ায় ১৮ জানুয়ারি সুন্দরভাবে প্রকল্পের মাটি কাটা শেষ করেছি। ঘণ্টায় ১৮শ' টাকা দরে ভেকু দিয়ে ৯০ ঘণ্টা ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার মাটি কাটিয়েছি। তবে প্রকল্পের বরাদ্দ কত তা জানি না।

প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য রিনা আক্তার মোবাইল ফোনে জানান, কাবিটা প্রকল্পের আওতায় সোনাখালী হাবিব চেয়ারম্যানের বাড়ি হতে বারেক মাজনেরটেক পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। তা দিয়ে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প এলাকার কৃষক সোহাগ, রমিজ, হেলাল জানান, জনগণের সাথে কোনো আলোচনা না করেই চেয়ারম্যান সাহেবের লোকজন দায়সারা গোছের কাজ করে সমুদয় বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা করছেন। যেভাবে প্রকল্পে মাটি ফেলা হয়েছে হাওর থেকে নতুন ধান ঘরে উত্তোলনের সময় গাড়ি চলাচলে আরো সমস্যায় পড়তে হবে। রাস্তাটি জনগণের খুবই প্রয়োজন। প্রকল্প এলাকায় আরো মাটি ফেলে রাস্তাটি যুগোপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রোমান জানান, প্রকল্প এলাকায় ৩ হাজার ফুট মাটি কাটার কথা। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৪ হাজার ফুট মাটি কেটেছি। দুর্ভোগ হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্যরা বরাদ্দের ব্যাপারে জানেন না- বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সবাই প্রকল্পরের কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। না জানার কোনো কারণ নেই।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল জানান, সোনাখালীর হাবিব চেয়ারম্যানের বাড়ি হতে বারেক মাজনেরটেক পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মান প্রকল্পে মোট বরাদ্দের ৩ ভাগের ১ ভাগ টাকা দেয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিদর্শন শেষে বাকি টাকা দেয়া হবে। কাজ না করলে টাকা ফেরত যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, প্রকল্প পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ জানেন না কমিটির কেউ!

 মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দায়সারা গোছের কাজ
দায়সারা গোছের কাজ

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্যরা জানেন না প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ কত? এ নিয়েও চলছে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।  

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় নায়েকপুর ইউনিয়নে সোনাখালী হাবিব চেয়ারম্যানের বাড়ি হতে বারেক মাজনেরটেক পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ পায়।
এ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, দায়সারাভাবে কিছু মাটি কেটেছে। এ সময় কত টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন জানতে চাইলে প্রকল্পের সদস্য ওয়ারিশ মিয়া বলেন- বরাদ্দের ব্যাপারে কিছু জানা নেই তার। 

প্রকল্পের মাটি কাটার তদারককারী আব্দুর রউফ বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব কাজ করানোর জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়ায় ১৮ জানুয়ারি সুন্দরভাবে প্রকল্পের মাটি কাটা শেষ করেছি। ঘণ্টায় ১৮শ' টাকা দরে ভেকু দিয়ে ৯০ ঘণ্টা ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার মাটি কাটিয়েছি। তবে প্রকল্পের বরাদ্দ কত তা জানি না।

প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য রিনা আক্তার মোবাইল ফোনে জানান, কাবিটা প্রকল্পের আওতায় সোনাখালী হাবিব চেয়ারম্যানের বাড়ি হতে বারেক মাজনেরটেক পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। তা দিয়ে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

প্রকল্প এলাকার কৃষক সোহাগ, রমিজ, হেলাল জানান, জনগণের সাথে কোনো আলোচনা না করেই চেয়ারম্যান সাহেবের লোকজন দায়সারা গোছের কাজ করে সমুদয় বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা করছেন। যেভাবে প্রকল্পে মাটি ফেলা হয়েছে হাওর থেকে নতুন ধান ঘরে উত্তোলনের সময় গাড়ি চলাচলে আরো সমস্যায় পড়তে হবে। রাস্তাটি জনগণের খুবই প্রয়োজন। প্রকল্প এলাকায় আরো মাটি ফেলে রাস্তাটি যুগোপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
 
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রোমান জানান, প্রকল্প এলাকায় ৩ হাজার ফুট মাটি কাটার কথা। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৪ হাজার ফুট মাটি কেটেছি। দুর্ভোগ হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্যরা বরাদ্দের ব্যাপারে জানেন না- বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সবাই প্রকল্পরের কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। না জানার কোনো কারণ নেই।    

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল জানান, সোনাখালীর হাবিব চেয়ারম্যানের বাড়ি হতে বারেক মাজনেরটেক পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মান প্রকল্পে মোট বরাদ্দের ৩ ভাগের ১ ভাগ টাকা দেয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিদর্শন শেষে বাকি টাকা দেয়া হবে। কাজ না করলে টাকা ফেরত যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, প্রকল্প পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন