‘চেয়ারম্যান-মেম্বাররা সরকারি ঘরের জন্য ৩০-৩৫ হাজার টাকা দাবি করে’
jugantor
‘চেয়ারম্যান-মেম্বাররা সরকারি ঘরের জন্য ৩০-৩৫ হাজার টাকা দাবি করে’

  উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:২২:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

ভূমিহীন ও গৃহহীন আলেয়া বেওয়া (৫৫)

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর জোটেনি ভূমিহীন ও গৃহহীন আলেয়া বেওয়া (৫৫), আব্দুল গফুর (৮৫) ও সবুর আলীর (৫০) ভাগ্যে। কেউ থাকেন অন্যের বাড়িতে, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ও মসজিদের পাশে ঝুপড়ি ঘরে। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। হতাশ হয়ে তারা বলতে বাধ্য হন- গরিব মানুষের আল্লাহ ছাড়া দেখার কেউ নাই।

উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে হাতিয়ার মেলা এলাকায় বুধবার সরেজমিন গেলে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে আলেয়া বেওয়া শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছেলেকে (১৪) নিয়ে ওই এলাকার মোজাম আলীর বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। আলেয়া বেওয়ার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। দেড় বছর ধরে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে শেষ পর্যন্ত মোজাম আলীর বাড়িতে আশ্রয় হয়েছে তার।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছেলের ভাতার কার্ডের জন্য এলাকার মেম্বারকে ভিক্ষাবৃত্তি করে তিন হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এরপর দুই মাস পূর্বে কার্ড হলে ভাতার প্রথম নয় হাজার টাকার মধ্যে ছয় হাজার টাকাই কেটে নেয় ওই মেম্বার। একটি ভাতার কার্ড করে দিতেই মেম্বার নয় হাজার টাকা নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শুনেছি যার ঘর নাই, তাদের ঘর করে দিচ্ছে সরকার। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে সরকারি ঘর চাইতে গেলে তারা ৩০-৩৫ হাজার টাকা দাবি করে। এত টাকা কোথায় পাব। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় ঘরও পাইনি। গরিব মানুষের আল্লাহ ছাড়া দেখার কেউ নাই।

একই এলাকার আব্দুল গফুরের এক সময় বাড়িঘর জমি-জমা সব ছিল। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন হাতিয়া ভবেশ বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে। সেখানে স্ত্রী জামেনা বেগম (৭৫), দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে জাহাঙ্গীর (৪০), দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি নাতনিকে (১১) নিয়ে এক বছর থেকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের এক কোনায় ছোট একটু জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এলাকার কিছু প্রভাবশালী তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে তার অভিযোগ। ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চলে আব্দুল গফুরের। বর্তমানে বয়সের ভারে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। তাই ভিক্ষাও জোটে না কপালে। স্থানীয়রা দয়া করে কিছু দিলে তবেই খাবার জোটে তাদের।

এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, এত কষ্ট করে থাকি তবুও কপালে সরকারি ঘর জোটে না।

ওই এলাকার অপর এক গৃহহীন সবুর আলী ওরফে চিতু পাগলা। তিনিও নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় মসজিদের পাশে ঝুপড়ি ঘরে।
এলাকাবাসী আব্দুল খালেক (৬৫), মুকুল মিয়া (৩৮), আবদুল হাকিম (৫০), লিটন মিয়াসহ (৩০) অনেকেই জানান, এ তিনটি পরিবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার যোগ্য।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, এ তিনটি পরিবার খুবই অসহায়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের জন্য সুপারিশ করেছিলাম, একজনও পায়নি। চেয়ারম্যানের সহযোগিতা না পাওয়ায় আমি দুস্থ মানুষের সহযোগিতা করতে পারছি না। তিনি আলেয়া বেওয়ার প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতার টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, ওই তিন পরিবারের নাম তালিকায় দেয়া হয়েছে। প্রাপ্তিসাপেক্ষে তাদের ঘর প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু ওই তিনটি পরিবারই নয়, এই ইউনিয়নে ওয়াপদা বাঁধ থেকে উচ্ছেদ ও নদী ভাঙনে প্রায় ১২শ' পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তারা নানাভাবে সরকারি খাস জায়গাসহ অন্যের বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, ওই তিনটি পরিবারের আবেদন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তহশিলদারের কাছে জমা দিলে পরবর্তীতে নতুন ঘর বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাদের প্রদান করা হবে।

‘চেয়ারম্যান-মেম্বাররা সরকারি ঘরের জন্য ৩০-৩৫ হাজার টাকা দাবি করে’

 উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ভূমিহীন ও গৃহহীন আলেয়া বেওয়া (৫৫)
ভূমিহীন ও গৃহহীন আলেয়া বেওয়া (৫৫)

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর জোটেনি ভূমিহীন ও গৃহহীন আলেয়া বেওয়া (৫৫), আব্দুল গফুর (৮৫) ও সবুর আলীর (৫০) ভাগ্যে। কেউ থাকেন অন্যের বাড়িতে, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ও মসজিদের পাশে ঝুপড়ি ঘরে। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। হতাশ হয়ে তারা বলতে বাধ্য হন- গরিব মানুষের আল্লাহ ছাড়া দেখার কেউ নাই।

উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে হাতিয়ার মেলা এলাকায় বুধবার সরেজমিন গেলে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে আলেয়া বেওয়া শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছেলেকে (১৪) নিয়ে ওই এলাকার মোজাম আলীর বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। আলেয়া বেওয়ার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। দেড় বছর ধরে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে শেষ পর্যন্ত মোজাম আলীর বাড়িতে আশ্রয় হয়েছে তার।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছেলের ভাতার কার্ডের জন্য এলাকার মেম্বারকে ভিক্ষাবৃত্তি করে তিন হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এরপর দুই মাস পূর্বে কার্ড হলে ভাতার প্রথম নয় হাজার টাকার মধ্যে ছয় হাজার টাকাই কেটে নেয় ওই মেম্বার। একটি ভাতার কার্ড করে দিতেই মেম্বার নয় হাজার টাকা নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শুনেছি যার ঘর নাই, তাদের ঘর করে দিচ্ছে সরকার। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে সরকারি ঘর চাইতে গেলে তারা ৩০-৩৫ হাজার টাকা দাবি করে। এত টাকা কোথায় পাব। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় ঘরও পাইনি। গরিব মানুষের আল্লাহ ছাড়া দেখার কেউ নাই। 

একই এলাকার আব্দুল গফুরের এক সময় বাড়িঘর জমি-জমা সব ছিল। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন হাতিয়া ভবেশ বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে। সেখানে স্ত্রী জামেনা বেগম (৭৫), দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে জাহাঙ্গীর (৪০), দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি নাতনিকে (১১) নিয়ে এক বছর থেকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের এক কোনায় ছোট একটু জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এলাকার কিছু প্রভাবশালী তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে তার অভিযোগ। ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চলে আব্দুল গফুরের। বর্তমানে বয়সের ভারে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। তাই ভিক্ষাও জোটে না কপালে। স্থানীয়রা দয়া করে কিছু দিলে তবেই খাবার জোটে তাদের।  

এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, এত কষ্ট করে থাকি তবুও কপালে সরকারি ঘর জোটে না। 
 
ওই এলাকার অপর এক গৃহহীন সবুর আলী ওরফে চিতু পাগলা। তিনিও নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় মসজিদের পাশে ঝুপড়ি ঘরে। 
এলাকাবাসী আব্দুল খালেক (৬৫), মুকুল মিয়া (৩৮), আবদুল হাকিম (৫০), লিটন মিয়াসহ (৩০) অনেকেই জানান, এ তিনটি পরিবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার যোগ্য। 

ওই এলাকার ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, এ তিনটি পরিবার খুবই অসহায়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের জন্য সুপারিশ করেছিলাম, একজনও পায়নি। চেয়ারম্যানের সহযোগিতা না পাওয়ায় আমি দুস্থ মানুষের সহযোগিতা করতে পারছি না। তিনি আলেয়া বেওয়ার প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতার টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
 
হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, ওই তিন পরিবারের নাম তালিকায় দেয়া হয়েছে। প্রাপ্তিসাপেক্ষে তাদের ঘর প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু ওই তিনটি পরিবারই নয়, এই ইউনিয়নে ওয়াপদা বাঁধ থেকে উচ্ছেদ ও নদী ভাঙনে প্রায় ১২শ' পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তারা নানাভাবে সরকারি খাস জায়গাসহ অন্যের বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, ওই তিনটি পরিবারের আবেদন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তহশিলদারের কাছে জমা দিলে পরবর্তীতে নতুন ঘর বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাদের প্রদান করা হবে।  
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন