শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার রায় বৃহস্পতিবার
jugantor
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৩৯:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার।

সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ূন কবির এ রায় ঘোষণা করবেন বলে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি এ মামলার ৫০ আসামির মধ্যে কাঠগড়ায় উপস্থিত তালা-কলারোয়া আসনের সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৩৪ জনের জামিন বাতিল করেন আদালত। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জামিন বাতিল হওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- কলারোয়ার দুইবারের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা গাজী আক্তারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন ও আবদুর রকিব মোল্লা, বিএনপি নেতা তামিম আজাদ মেরিন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

এ মামলায় অভিযুক্ত ৫০ জন আসামির একজন টাইগার খোকন অন্য মামলায় জেলহাজতে আটক রয়েছে। পলাতক রয়েছে সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ ১৫ জন। সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির তাদের জামিন বাতিল করেন।

গত ৪ ডিসেম্বর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এতে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

সরকারপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি, একই পদমর্যাদার সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, শাহিন মৃধা এবং সাতক্ষীরার পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ।

আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট শাহানারা আক্তার বকুল, অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাডভোকেট তোজাম্মেল হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুস সেলিম প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ সাক্ষীদের জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এসএম মুনীর আদালতে ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে সব আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি সাক্ষীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রাণে বেঁচে যাওয়া তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ওপর বারবার প্রাণনাশ চেষ্টায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। কলারোয়ার ঘটনা তারই অংশবিশেষ বলে উল্লেখ করেন। ন্যায়বিচার হলে সব আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন। বিচারে আসামিদের সর্বোচ্চ ২৬ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহানারা আক্তার বকুল ও আব্দুল মজিদ মামলার এজাহার, পুলিশের অভিযোগপত্র এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির মধ্যে তথ্যগত ব্যাপক গরমিল ও অসংলগ্নতা রয়েছে জানিয়ে বলেন, সাক্ষীরা কোনোভাবেই আসামিদের দোষী প্রমাণ করতে পারেননি। ঘটনার দিন সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব কলারোয়ায় উপস্থিত ছিলেন- এমন কোনো প্রমাণও তারা দেখাতে পারেননি। সাক্ষীরা বলেছেন- হাবিবুল ইসলামের পরামর্শ ও নির্দেশে তার অনুসারীরা এ হামলা চালায়।

হামলার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি জানিয়ে তারা আরও বলেন, ন্যায়বিচার হলে সব আসামি খালাস পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরায় একজন মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখে মাগুরায় ফিরে যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কলারোয়ায় পৌঁছতেই সড়কে একটি বাস আড় করে দিয়ে তার পথরোধ করা হয়।

এ সময় জটলার সৃষ্টি হলে সেই সুযোগে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে, বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনার ব্যবহৃত গাড়ি ভাংচুর করা হয়। তার গাড়ির পতাকার স্ট্যান্ড ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা ইটপাটকেল ও জুতা স্যান্ডেল ছুড়ে সহিংসতার সৃষ্টি করে।

এতে শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও তার সফরসঙ্গী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফাতেমা জামান সাথী, আব্দুল মতিন, জোবায়দুল হক রাসেল এবং শহীদুল হক জীবনসহ অনেকেই আহত হন। একই সময় সাতক্ষীরার বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।

এ ঘটনায় কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোসলেম উদ্দিন ২৭ জনকে আসামি করে কলারোয়া থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু থানায় রেকর্ড না হওয়ায় তিনি নালিশি আদালত সাতক্ষীরায় মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এ মামলা খারিজ হয়ে গেলে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে ফের মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সফিকুর রহমান সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন।

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার।

সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ূন কবির এ রায় ঘোষণা করবেন বলে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি এ মামলার ৫০ আসামির মধ্যে কাঠগড়ায় উপস্থিত তালা-কলারোয়া আসনের সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৩৪ জনের জামিন বাতিল করেন  আদালত। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জামিন বাতিল হওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- কলারোয়ার দুইবারের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা গাজী আক্তারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন ও আবদুর রকিব মোল্লা, বিএনপি নেতা তামিম আজাদ মেরিন এবং  বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

এ মামলায় অভিযুক্ত ৫০ জন আসামির একজন টাইগার খোকন অন্য মামলায় জেলহাজতে আটক রয়েছে। পলাতক রয়েছে সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ ১৫ জন। সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির তাদের জামিন বাতিল করেন।

গত ৪ ডিসেম্বর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এতে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

সরকারপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি, একই পদমর্যাদার সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, শাহিন মৃধা এবং সাতক্ষীরার পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ।

আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট শাহানারা আক্তার বকুল, অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাডভোকেট তোজাম্মেল হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুস সেলিম প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ সাক্ষীদের জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এসএম মুনীর আদালতে ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে সব আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি সাক্ষীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রাণে বেঁচে যাওয়া তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ওপর বারবার প্রাণনাশ চেষ্টায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। কলারোয়ার ঘটনা তারই অংশবিশেষ বলে উল্লেখ করেন। ন্যায়বিচার হলে সব আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন। বিচারে আসামিদের সর্বোচ্চ ২৬ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহানারা আক্তার বকুল ও আব্দুল মজিদ মামলার এজাহার, পুলিশের অভিযোগপত্র এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির মধ্যে তথ্যগত ব্যাপক গরমিল ও অসংলগ্নতা রয়েছে জানিয়ে বলেন, সাক্ষীরা কোনোভাবেই আসামিদের দোষী প্রমাণ করতে পারেননি। ঘটনার দিন সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব কলারোয়ায় উপস্থিত ছিলেন- এমন কোনো প্রমাণও তারা দেখাতে পারেননি। সাক্ষীরা বলেছেন- হাবিবুল ইসলামের পরামর্শ ও নির্দেশে তার অনুসারীরা এ হামলা চালায়।

হামলার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি জানিয়ে তারা আরও বলেন, ন্যায়বিচার হলে সব আসামি খালাস পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরায় একজন মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখে মাগুরায় ফিরে যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কলারোয়ায় পৌঁছতেই সড়কে একটি বাস আড় করে দিয়ে তার পথরোধ করা হয়।

এ সময় জটলার সৃষ্টি হলে সেই সুযোগে শেখ হাসিনার  গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে, বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনার ব্যবহৃত গাড়ি ভাংচুর করা হয়। তার গাড়ির পতাকার স্ট্যান্ড ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা ইটপাটকেল ও জুতা স্যান্ডেল ছুড়ে সহিংসতার সৃষ্টি করে।

এতে শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও তার সফরসঙ্গী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফাতেমা জামান সাথী, আব্দুল মতিন, জোবায়দুল হক রাসেল এবং শহীদুল হক জীবনসহ অনেকেই আহত হন। একই সময় সাতক্ষীরার বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।

এ ঘটনায় কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোসলেম উদ্দিন ২৭ জনকে আসামি করে কলারোয়া থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু থানায় রেকর্ড না হওয়ায় তিনি নালিশি আদালত সাতক্ষীরায় মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এ মামলা খারিজ হয়ে গেলে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে ফের মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সফিকুর রহমান সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন