দুই কেটি ২০ লাখ টাকা লোপাট, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
jugantor
দুই কেটি ২০ লাখ টাকা লোপাট, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:৩৮:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুইজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামি করা হয় এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাশ সরকার আমিরুল ইসলাম (৩৪) ও দিনাজপুর জেলা একাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজুর রহমানসহ (৪২)অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আমিরুল ইসলাম দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাশ সরকার ছিলেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের বিল-বেতন উত্তোলন করতেন। এজন্য তাকে দিনাজপুরের জেলা জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসের যোগাযোগ করতে হতো।

অফিসে যাতায়াতের এক পর্যায়ে মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে আমিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সূত্র ধরেই আমিরুল ইসলাম ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে এবং নিজের পদবি ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স’ উল্লেখ করে হাসপাতালের বিলের সঙ্গে তার তৈরিকৃত ভুয়া-বিল ভাউচার জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসে জমা করে।

আর এতে অ্যাকাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজার রহমান তার ব্যক্তিগত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার ডিভাইসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ইলেক্ট্রনিক জালিয়াতি করে আসছিলেন।

উল্লেখিত দুইজনের যোগসাজশে এই অবস্থা চলতে থাকার পর সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারি আমিরুল ইসলাম ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে তার নামে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮০ টাকার একটি সরকারি চেক অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে সংগ্রহ করেন। কিন্তু চেক প্রদানের পর চেকের বিপরীতে দাখিলকৃত বিল-ভাউচার খুঁজে না পাওয়ায় সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার ম্যানেজারকে চেকের পেমেন্ট স্থগিত রাখার জন্য ফোন করে জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসার। ফলে সেই টাকা আমিরুল ইসলাম উত্তোলন করতে পারেনি।

এরপর প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়ে যে, একাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজুর রহমানের সহায়তায় গত ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হতে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দুই বছরে ক্যাশ সরকার আমিরুল ইসলাম হাসপাতালের ভুয়া-বিল ভাউচার তৈরি করে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে মোট দুই কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এই ঘটনায় দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ বাদী হয়ে গত শনিবার দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে দুই কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাশ সরকার আমিরুল ইসলাম (৩৪) ও দিনাজপুর জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজুর রহমান (৪২)।

এর আগে এ ঘটনায় দিনাজপুর জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার সাইফুল ইসলাম মণ্ডল বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

দুই কেটি ২০ লাখ টাকা লোপাট, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৬:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুইজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামি করা হয় এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাশ সরকার আমিরুল ইসলাম (৩৪) ও দিনাজপুর জেলা একাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজুর রহমানসহ (৪২)অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আমিরুল ইসলাম দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাশ সরকার ছিলেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের বিল-বেতন উত্তোলন করতেন। এজন্য তাকে দিনাজপুরের জেলা জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসের যোগাযোগ করতে হতো।

অফিসে যাতায়াতের এক পর্যায়ে মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে আমিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সূত্র ধরেই আমিরুল ইসলাম ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে এবং নিজের পদবি ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স’ উল্লেখ করে হাসপাতালের বিলের সঙ্গে তার তৈরিকৃত ভুয়া-বিল ভাউচার জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসে জমা করে।

আর এতে অ্যাকাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজার রহমান তার ব্যক্তিগত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার ডিভাইসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ইলেক্ট্রনিক জালিয়াতি করে আসছিলেন।

উল্লেখিত দুইজনের যোগসাজশে এই অবস্থা চলতে থাকার পর সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারি আমিরুল ইসলাম ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে তার নামে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮০ টাকার একটি সরকারি চেক অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে সংগ্রহ করেন। কিন্তু চেক প্রদানের পর চেকের বিপরীতে দাখিলকৃত বিল-ভাউচার খুঁজে না পাওয়ায় সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার ম্যানেজারকে চেকের পেমেন্ট স্থগিত রাখার জন্য ফোন করে জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসার। ফলে সেই টাকা আমিরুল ইসলাম উত্তোলন করতে পারেনি।

এরপর প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়ে যে, একাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজুর রহমানের সহায়তায় গত ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হতে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দুই বছরে ক্যাশ সরকার আমিরুল ইসলাম হাসপাতালের ভুয়া-বিল ভাউচার তৈরি করে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে মোট দুই কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 
এই ঘটনায় দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ বাদী হয়ে গত শনিবার দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে দুই কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাশ সরকার আমিরুল ইসলাম (৩৪) ও দিনাজপুর জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজুর রহমান (৪২)।

এর আগে এ ঘটনায় দিনাজপুর জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার সাইফুল ইসলাম মণ্ডল বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন