ছোটভাইকে অপহরণ করে কিডনি বিক্রির চেষ্টা, অতঃপর...
jugantor
ছোটভাইকে অপহরণ করে কিডনি বিক্রির চেষ্টা, অতঃপর...

  হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি  

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৬:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আপন ছোটভাই রায়হান এহসান রিহানকে (৫) অপহরণ করে কিডনি বিক্রয়ের চেষ্টার অভিযোগে বড়ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকালে তাকে আটক করা হয়।

অপহরণকারী ফাহাদ বিন ইহসান তারেক অপহৃত রায়হান এহসান রিহানের আপন বড়ভাই।

এ ঘটনায় ছেলের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন বাবা মো. আবু তাহের। তিনি বলেন, আমি আমার ছেলের যাবজ্জীবন চাই।

রিহানকে অপহরণের পর বাসায় একটি চিঠি লিখে যায় তারেক। চিঠিতে তারেক উল্লেখ করেন, ‘আমি শুধু এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আমি সেদিন কিডনি বিক্রি করেছিলাম। ঠিক এদিন থেকে আপনারা আমার অবহেলা করা শুরু করছেন। অথচ আপনাদের অত্যাচারে আমি বাধ্য হয়েছি, নিজের অঙ্গ বিক্রি করতে। আপনারা আমার জীবনের সব শেষ করে দিয়েছেন।

আমার সন্তানের মুখ পর্যন্ত আমি আজও দেখি নাই। আমার জীবন নষ্ট করে আপনারা শান্তিতে থাকবেন। ভাবলেন কীভাবে। আমি এতদিন অপেক্ষা করেছি। আপনাদের হাতে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনারা আমার কোনো ব্যবস্থা করে দেন নাই। আপনার সন্তান যেখানে বেকার সেখানে আপনারা হিন্দুর সন্তানকে ২০ লাখ টাকা দেন ব্যবসা করার জন্য। আপনাদের টাকা-পয়সা মানুষের জন্য।

এতদিন কোনো বাচ্চা পেশেন্ট পাই নাই। তাই আপনাদের সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেছি। আমার মতো এবার আপনাদের ছোট ছেলে কিডনি দিবে। আপনারা আমার ব্যবস্থা করেন নাই তাই এটা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না। আপনারা আপনাদের টাকা-পয়সা নিয়েই থাকেন। আর মানুষের ছেলেদেরই বড় বানান। আমার কিডনি বিক্রির সময় যেমন কিছু করতে পারেন নাই। এবারও পারবেন না, আপনাদের ছোট ছেলের সময়।’

চিঠির সূত্র ধরেই হাজীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তারেকের বাবা। পরে কৌশলে তারেককে ৫ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে হাজীগঞ্জে নিয়ে এলে গোপনে হাজীগঞ্জ থানার এসআই মোশারফ তারেককে আটক করেন এবং ছোটভাইকে উদ্ধার করে বাবা মায়ের কাছে হস্তান্তর করেন।

আটক তারেকের মা ফরিদা সুলতানা শিখা যুগান্তরকে জানান, আমার বড় ছেলে ছোটভাইয়ের সঙ্গে এমন করবে এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।

পুলিশের হাতে আটক তারেক জানান, মায়ের কারণে আমার স্ত্রী আজ অন্যের শয্যায় যাচ্ছে। আমি আমার কিডনি বিক্রয় করে ব্যবসা শুরু করেছি। তবুও আমার গর্ভধারিণী মা আমাকে ব্যবসার জন্য টাকা না দিয়ে আরেকজনকে আমার সামনে ২০ লাখ টাকা হাওলাত দেয় ব্যবসা করার জন্য। আমি স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে আমার মায়ের জন্য আজ পথে পথে হাঁটছি। তারা আমাকে বাধ্য করেছে এমন ঘটনা ঘটাতে।

তারেক বলেন, আমি আমার ছোটভাইকে অপহরণ করেছি শুধুমাত্র টাকার জন্য। কিডনি বিক্রয়ের কথাটি চিঠিতে লিখে আমার মা-বাবাকে ভয় দেখিয়ে ছিলাম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশারফ জানান, অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। অপহৃত রিহানও আমাদের জিম্মায় রয়েছে। মঙ্গলবার অপহরণকারীকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

ছোটভাইকে অপহরণ করে কিডনি বিক্রির চেষ্টা, অতঃপর...

 হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি 
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আপন ছোটভাই রায়হান এহসান রিহানকে (৫) অপহরণ করে কিডনি বিক্রয়ের চেষ্টার অভিযোগে বড়ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকালে তাকে আটক করা হয়।

অপহরণকারী ফাহাদ বিন ইহসান তারেক অপহৃত রায়হান এহসান রিহানের আপন  বড়ভাই।

এ ঘটনায় ছেলের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন বাবা মো. আবু তাহের। তিনি বলেন, আমি আমার ছেলের যাবজ্জীবন চাই।

রিহানকে অপহরণের পর বাসায় একটি চিঠি লিখে যায় তারেক। চিঠিতে তারেক উল্লেখ করেন, ‘আমি শুধু এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আমি সেদিন কিডনি বিক্রি করেছিলাম। ঠিক এদিন থেকে আপনারা আমার অবহেলা করা শুরু করছেন। অথচ আপনাদের অত্যাচারে আমি বাধ্য হয়েছি, নিজের অঙ্গ বিক্রি করতে। আপনারা আমার জীবনের সব শেষ করে দিয়েছেন।

আমার সন্তানের মুখ পর্যন্ত আমি আজও দেখি নাই। আমার জীবন নষ্ট করে আপনারা শান্তিতে থাকবেন। ভাবলেন কীভাবে। আমি এতদিন অপেক্ষা করেছি। আপনাদের হাতে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনারা আমার কোনো ব্যবস্থা করে দেন নাই। আপনার সন্তান যেখানে বেকার সেখানে আপনারা হিন্দুর সন্তানকে ২০ লাখ টাকা দেন ব্যবসা করার জন্য। আপনাদের টাকা-পয়সা মানুষের জন্য।

এতদিন কোনো বাচ্চা পেশেন্ট পাই নাই। তাই আপনাদের সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেছি। আমার মতো এবার আপনাদের ছোট ছেলে কিডনি দিবে। আপনারা আমার ব্যবস্থা করেন নাই তাই এটা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না। আপনারা আপনাদের টাকা-পয়সা নিয়েই থাকেন। আর মানুষের ছেলেদেরই বড় বানান। আমার কিডনি বিক্রির সময় যেমন কিছু করতে পারেন নাই। এবারও পারবেন না, আপনাদের ছোট ছেলের সময়।’
 
চিঠির সূত্র ধরেই হাজীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তারেকের বাবা। পরে কৌশলে তারেককে ৫ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে হাজীগঞ্জে নিয়ে এলে গোপনে হাজীগঞ্জ থানার এসআই মোশারফ তারেককে আটক করেন এবং ছোটভাইকে উদ্ধার করে বাবা মায়ের কাছে হস্তান্তর করেন। 

আটক তারেকের মা ফরিদা সুলতানা শিখা যুগান্তরকে জানান, আমার বড় ছেলে ছোটভাইয়ের সঙ্গে এমন করবে এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।

পুলিশের হাতে আটক তারেক জানান, মায়ের কারণে আমার স্ত্রী আজ  অন্যের শয্যায় যাচ্ছে। আমি আমার কিডনি বিক্রয় করে ব্যবসা শুরু করেছি। তবুও আমার গর্ভধারিণী মা আমাকে ব্যবসার জন্য টাকা না দিয়ে আরেকজনকে আমার সামনে ২০ লাখ টাকা হাওলাত দেয় ব্যবসা করার জন্য। আমি স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে আমার মায়ের জন্য আজ  পথে পথে হাঁটছি। তারা আমাকে বাধ্য করেছে এমন ঘটনা ঘটাতে।

তারেক বলেন, আমি আমার ছোটভাইকে অপহরণ করেছি শুধুমাত্র টাকার জন্য। কিডনি বিক্রয়ের কথাটি চিঠিতে লিখে আমার মা-বাবাকে ভয় দেখিয়ে ছিলাম।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশারফ জানান, অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। অপহৃত রিহানও আমাদের জিম্মায় রয়েছে। মঙ্গলবার অপহরণকারীকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন