বরখাস্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাকডেটে চেক-ফাইলে স্বাক্ষরের অভিযোগ

  বগুড়া ব্যুরো ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যান জামায়াত আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম মণ্ডলের বিরুদ্ধে অফিসে এসে ব্যাকডেটে ফাইলপত্র ও চেকে স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পুরো উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার সকালে মাওলানা নুরুল ইসলাম মণ্ডল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতারের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে আসেন। তবে স্বাক্ষরের বিষয়টি দুজনই অস্বীকার করেছেন।

তারা বলেন, এটা তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। চেক ও ফাইলপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়টি জানাজানি হলে তা চাপা দিতে ব্যাপক তদবির করা হয়েছে।

জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণ্ডলের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ রাতে সাঈদীকে চাঁদে দেখানোর নামে উপজেলা পরিষদ জ্বালিয়ে দেয়াসহ বগুড়া সদর, শাজাহানপুর ও নন্দীগ্রাম থানায় হত্যা ও বিভিন্ন ধারায় ১০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. জুলিয়া মঈন ৪ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে সাময়িক বরখাস্ত উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণ্ডল পরিষদে আসেন। চেয়ারম্যান কক্ষে কিছুক্ষণ থাকার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে যান। তিনি নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতারে সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট কথা বলার পর চলে যান।

এর আগে নুরুল ইসলাম মণ্ডল ‘ব্যাকডেটে’ চেক ও বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করেন। সোনালী ব্যাংক নন্দীগ্রাম শাখায় চেকটি জমাও হয়েছে বলে তারা জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ জালাল উদ্দিন ও চেয়ারম্যানের সিএ আবদুল মালেক পরিষদে সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণ্ডলের কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করলেও ফাইল বা চেকে স্বাক্ষরের বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

তবে ব্যাংক ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান একে আজাদের কাছে চেক জমা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, তিনি জানতেন না উপজেলা চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত।

এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংক নন্দীগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, উপজেলা পরিষদের ব্যাংক হিসাব চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়। চেয়ারম্যান বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়নি। এছাড়া চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত (৪ এপ্রিল) হওয়ার পরের কোনো তারিখের চেক জমা হয়নি। আগের তারিখের জমা হলেও হতে পারে।

সাময়িক বরখাস্ত উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, তাকে বরখাস্তের আদেশ যে কোনো সময় প্রত্যাহার হতে পারে। তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তাকে সবাই পরিষদে যেতে বলেন। তাই তিনি সোমবার সকালে নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলেন। কোনো ফাইলপত্র বা চেকে স্বাক্ষর করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার বলেন, সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যান তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তিনি কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেননি।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter