সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে বর্তমান অধ্যক্ষের কোটি টাকার বাণিজ্য!
jugantor
সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে বর্তমান অধ্যক্ষের কোটি টাকার বাণিজ্য!

  বগুড়া ব্যুরো  

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৩:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শাজাহানপুরে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও নিয়োগবঞ্চিতরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেখানে অধ্যক্ষসহ আটজন শিক্ষক নিয়োগ ও বিভিন্ন দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মহাপরিচালকের নির্দেশে মাউশির দুই সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। তবে অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দৃঢতার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেছেন, এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল ২০০২ সালে এখানে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। অধ্যক্ষ আবদুল জোব্বার অবসরে গেলে গত ২০১০ সালে মোতাহার হোসেন মুকুল তৎকালীন গভর্নিং বডির সহযোগিতায় ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক দেলোয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন।

এরপর লোক দেখানো নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে মোতাহার হোসেন মুকুল ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক দেলোয়ার হোসেন অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে গেলে অধ্যক্ষ মুকুল পত্রিকায় দুইবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন।

এরপর সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে সেখানে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাখাওয়াত হোসেন নামে একজনকে নিয়োগ দেন। ওই প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আফজাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব না দিয়ে টাকার বিনিময়ে জুনিয়র শিক্ষক বাদশা আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিষয়টি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমান উদ্দিন মণ্ডলকে অবহিত করলে তিনি সরেজমিন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।

অধ্যক্ষের স্ত্রী পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের প্রভাষক লাভলী আকতারের নিয়োগ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। ২০১১ সালে বিষয় খোলার আগে শিক্ষক তালিকায় তার নাম ছিল না। বর্তমান অধ্যক্ষ মুকুল সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল জোব্বারের স্বাক্ষর জাল করে তাকে নিয়োগ দেন।

অথচ সেখানে নিয়োগরত আছেন সাবেক অধ্যক্ষের মেয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রুখশাইনা জেসমিন জাহান। তাকে অনুপস্থিতির অজুহাতে বরখাস্ত করা হয়। আজ পর্যন্ত তাকে এ ব্যাপারে চিঠি ইস্যু করা হয়নি।

জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রদর্শক ফার্জিনা আকতারকেও সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলা বিভাগের প্রভাষক হাওয়া খাতুনের পদ কখন শূন্য হয়েছে তা কেউ জানে না।

তার স্থলে আম্বিয়া খাতুন নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শাহজাহান সিরাজ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই আবদুল হান্নানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে কম্পিউটার শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আজিজুর রহমান ২০১৯ সালে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। তার স্থলে সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে কামাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০০৪ সাল।

গণিত বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রভাষক (সৃষ্টপদ) উদয় কুমার রায় বিষয় অনুমোদনের শর্তে গত ২০১১ সালে যোগদান করেন। তাকে বেতন ও এমপিওর আশ্বাস দিয়েও তা দিতে ব্যর্থ হন। তাকে নিয়োগের বিনিময়ে উন্নয়নের জন্য চেকের মাধ্যমে ৫০ হাজারসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিন লাখ হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এই টাকা অধ্যক্ষ মুকুল ও গভর্নিং বডির সদস্য মোকসেদ পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছেন। প্রভাষক উদয় কুমার রায় আরও টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে অনুপস্থিতি দেখিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলেও আজ পর্যন্ত তাকে সেই চিঠি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি টাকাগুলো ফেরত চাইলে তাকে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অথচ এ প্রতিষ্ঠানে গণিত বিভাগের প্রভাষক তানভীর আহম্মদ আজও সারিয়াকান্দি উপজেলার ছাগলধরা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত ও বিজ্ঞান বিভাগে ইনডেক্সধারী সহকারী শিক্ষক। তিনি দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলন করছেন।

এদিকে মজনু সরকার নামে একজন অভিযোগ করেন, তাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য অধ্যক্ষ মুকুল আট লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে আরও পাঁচ লাখ টাকা না দেওয়ায় অন্যজনকে মোটা অংকের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা আজও ফেরত দেয়া হয়নি। টাকা চাইলেই হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।

আবদুল মতিন নামে একজন জানান, কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে চাকরির জন্য হামিম নামে এক চাকরিপ্রার্থী তার মাধ্যমে অধ্যক্ষকে ছয় লাখ টাকা দেন। ১২ লাখ টাকা চুক্তি হলেও অপরজনকে ১৮ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এভাবে অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন।

গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী তদন্তসাপেক্ষে বর্তমান অধ্যক্ষ, তার স্ত্রীসহ আটজন শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের পদ বাতিল, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রদেয় বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরতসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের প্রতি সুবিচার করতে দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল জানান, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। প্রতিষ্ঠান এমপিও হওয়াতে প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি আরও জানান, মিথ্যা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি থেকে দুই সদস্যের টিম তদন্ত করে গেছেন।

এদিকে মাউশির মহাপরিচালকের নির্দেশে রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদ গত ৬ ফেব্রুয়ারি গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে তদন্তে আসেন। সেখানে অধ্যক্ষ, শিক্ষক, গভর্নিং বডি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে প্রফেসর ড. কামাল হোসেন জানান, তদন্ত শেষ হয়েছে। এর রিপোর্ট মাউশির মহাপরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি তদন্তের ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি।

সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে বর্তমান অধ্যক্ষের কোটি টাকার বাণিজ্য!

 বগুড়া ব্যুরো 
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শাজাহানপুরে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও নিয়োগবঞ্চিতরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেখানে অধ্যক্ষসহ আটজন শিক্ষক নিয়োগ ও বিভিন্ন দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

মহাপরিচালকের নির্দেশে মাউশির দুই সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। তবে অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দৃঢতার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেছেন, এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল ২০০২ সালে এখানে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। অধ্যক্ষ আবদুল জোব্বার অবসরে গেলে গত ২০১০ সালে মোতাহার হোসেন মুকুল তৎকালীন গভর্নিং বডির সহযোগিতায় ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক দেলোয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। 

এরপর লোক দেখানো নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে মোতাহার হোসেন মুকুল ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক দেলোয়ার হোসেন অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে গেলে অধ্যক্ষ মুকুল পত্রিকায় দুইবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। 

এরপর সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে সেখানে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাখাওয়াত হোসেন নামে একজনকে নিয়োগ দেন। ওই প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আফজাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব না দিয়ে টাকার বিনিময়ে জুনিয়র শিক্ষক বাদশা আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিষয়টি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমান উদ্দিন মণ্ডলকে অবহিত করলে তিনি সরেজমিন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।

অধ্যক্ষের স্ত্রী পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের প্রভাষক লাভলী আকতারের নিয়োগ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। ২০১১ সালে বিষয় খোলার আগে শিক্ষক তালিকায় তার নাম ছিল না। বর্তমান অধ্যক্ষ মুকুল সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল জোব্বারের স্বাক্ষর জাল করে তাকে নিয়োগ দেন। 

অথচ সেখানে নিয়োগরত আছেন সাবেক অধ্যক্ষের মেয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রুখশাইনা জেসমিন জাহান। তাকে অনুপস্থিতির অজুহাতে বরখাস্ত করা হয়। আজ পর্যন্ত তাকে এ ব্যাপারে চিঠি ইস্যু করা হয়নি। 

জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রদর্শক ফার্জিনা আকতারকেও সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলা বিভাগের প্রভাষক হাওয়া খাতুনের পদ কখন শূন্য হয়েছে তা কেউ জানে না। 

তার স্থলে আম্বিয়া খাতুন নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শাহজাহান সিরাজ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই আবদুল হান্নানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে কম্পিউটার শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আজিজুর রহমান ২০১৯ সালে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। তার স্থলে সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে কামাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০০৪ সাল।

গণিত বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রভাষক (সৃষ্টপদ) উদয় কুমার রায় বিষয় অনুমোদনের শর্তে গত ২০১১ সালে যোগদান করেন। তাকে বেতন ও এমপিওর আশ্বাস দিয়েও তা দিতে ব্যর্থ হন। তাকে নিয়োগের বিনিময়ে উন্নয়নের জন্য চেকের মাধ্যমে ৫০ হাজারসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিন লাখ হাতিয়ে নেওয়া হয়। 

এই টাকা অধ্যক্ষ মুকুল ও গভর্নিং বডির সদস্য মোকসেদ পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছেন। প্রভাষক উদয় কুমার রায় আরও টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে অনুপস্থিতি দেখিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। 

চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলেও আজ পর্যন্ত তাকে সেই চিঠি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি টাকাগুলো ফেরত চাইলে তাকে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অথচ এ প্রতিষ্ঠানে গণিত বিভাগের প্রভাষক তানভীর আহম্মদ আজও সারিয়াকান্দি উপজেলার ছাগলধরা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত ও বিজ্ঞান বিভাগে ইনডেক্সধারী সহকারী শিক্ষক। তিনি দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলন করছেন।

এদিকে মজনু সরকার নামে একজন অভিযোগ করেন, তাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য অধ্যক্ষ মুকুল আট লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে আরও পাঁচ লাখ টাকা না দেওয়ায় অন্যজনকে মোটা অংকের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা আজও ফেরত দেয়া হয়নি। টাকা চাইলেই হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন। 

আবদুল মতিন নামে একজন জানান, কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে চাকরির জন্য হামিম নামে এক চাকরিপ্রার্থী তার মাধ্যমে অধ্যক্ষকে ছয় লাখ টাকা দেন। ১২ লাখ টাকা চুক্তি হলেও অপরজনকে ১৮ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এভাবে অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন।

গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী তদন্তসাপেক্ষে বর্তমান অধ্যক্ষ, তার স্ত্রীসহ আটজন শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের পদ বাতিল, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রদেয় বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরতসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের প্রতি সুবিচার করতে দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল জানান, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। প্রতিষ্ঠান এমপিও হওয়াতে প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করছেন। 

তিনি আরও জানান, মিথ্যা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি থেকে দুই সদস্যের টিম তদন্ত করে গেছেন।

এদিকে মাউশির মহাপরিচালকের নির্দেশে রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদ গত ৬ ফেব্রুয়ারি গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে তদন্তে আসেন। সেখানে অধ্যক্ষ, শিক্ষক, গভর্নিং বডি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। 

এ ব্যাপারে প্রফেসর ড. কামাল হোসেন জানান, তদন্ত শেষ হয়েছে। এর রিপোর্ট মাউশির মহাপরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি তদন্তের ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন