মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ওলামাদের ফতোয়া
jugantor
মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ওলামাদের ফতোয়া

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩৪:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

মসজিদ ভেঙে শপিংমল ও মাদ্রাসা উচ্ছেদ করে পার্ক করার অভিযোগ এনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদ।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের চাষাঢ়া এলাকার বাগে জান্নাত মসজিদের সামনে কয়েক হাজার মুসল্লি ও শত শত আলেম-ওলামা এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। মুসল্লিদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী প্রায় অর্ধশত বছরের প্রাচীন বাগে জান্নাত মসজিদ ও মাদ্রাসা ভেঙে ফেলতে চিঠি দিয়েছেন।

এদিকে সমাবেশ থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের প্রায় অর্ধশত ওলামা। তারা এ সময় শহরের কয়েকটি মসজিদ ও মাদ্রাসা দখল ও ভাঙার প্রতিবাদ জানিয়ে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি ফেরদাউসুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদানীনগর মাদ্রসারা মোহতামিম ও নারায়ণগঞ্জ হেফাজত ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশীরউল্লাহ।
উল্লেখ্য, শহরের কয়েকশ' বছরের প্রাচীন একটি মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কর্তৃক আন্দোলনের ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এ সমাবেশ করলেন।

সমাবেশের প্রধান অতিথি মুফতি বশীরউল্লাহ বলেন, ফতুল্লার মাসদাইর সিটি কবরস্থানের বহু পুরনো একটি মাদ্রাসা গত ২ বছর আগেই মেয়র আইভী উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। কিন্তু কথা দিয়েও সেই মাদ্রাসা আজও করে দেয়া হয়নি।

শহরের বাগে জান্নাত মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসা উচ্ছেদে চিঠি দিয়েছেন, এমনকি মেয়র আইভী নিজে এসেই মাদ্রাসাটি উচ্ছেদে কঠোর ভাষায় তাগিদ দিয়েছেন। তিনি মসজিদটি ভেঙে সেখানে বহুতল শপিং কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসা ভেঙে পার্ক করতে চাচ্ছেন।

অথচ তিনি পাশের রামকৃষ্ণ মিশনে প্রায় অর্ধকোটি টাকা দিয়ে প্রধান ফটক বানিয়ে দিচ্ছেন, মাজারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন। আবার মন্দিরের সম্পত্তি গ্রাস করতে চাচ্ছেন। মেয়র আইভীর এসব দ্বৈতনীতি আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করছে।

এ সময় উপস্থিত ওলামারা ফতোয়া চাইলে মুফতি বশীরউল্লাহ বলেন, কিতাবের পরিষ্কার নির্দেশনা মতে- একজন মুসলমান হয়ে মেয়র আইভী মন্দিরে গিয়ে সিঁদুর এঁটে প্রতীমার সামনে কড়জোরে নমস্কার করে ও মাজারে কপাল ঠেকিয়ে শিরক করে ইসলামের বিধান ভঙ্গ করেছেন। তাই মেয়র আইভী এখন মুসলমানের কাতারে নেই, তিনি একজন মুশরিকের কাজ করেছেন। তিনি মুসলমান হিসেবে নিজেকে দাবি করতে পারেন না। তার উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় কালেমা পাঠ করা অথবা ঘোষণা দিতে হবে তিনি কোন ধর্মে থাকবেন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান এ সময় মেয়র আইভীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই মাদ্রাসাকে তথা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সম্মাননা দিয়েছেন। আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবান নন। আর আপনি আসছেন মাদ্রাসা উচ্ছেদ করতে।

তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি তথা অসাম্প্রদায়িক নারায়ণগঞ্জে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করেন। ভোটের জন্য কখনো হিন্দু সেজে সিঁদুর দিয়ে প্রণাম করে কালীমন্দিরে সিজদা দেন; আবার মাজারে গিয়েও ঢোল-তবলা বাজিয়ে নাচানাচি করে মাজারে সেজদা করেন। আপনি এখনো মুসলমান আছেন নাকি হিন্দু হয়ে গেছেন- সেটি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। মাদ্রাসা ও মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করতে আসলে আমরা উচিত জবাব দিয়ে দেব।

সেখানে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, প্রয়োজনে কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করব, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেব; কিন্তু মসজিদ মাদ্রাসা ভেঙে শপিংমল আর পার্ক করতে দেব না। আল্লাহর ঘর মসজিদ আর পবিত্র কোরআন হাদিস যেখানে পড়ানো হয় সেই মাদ্রাসার প্রশ্নে আমরা ছাড় দেব না।

মসজিদ কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু বলেন, ছোটবেলায় দেখেছি এখানে টিনের ঘরে নামাজ হতো। সম্পূর্ণ মুসল্লিদের অনুদানে সেই মসজিদ এখন তিনতলা। সিটি করপোরেশনের মেয়র এখানে মসজিদ ভেঙে শপিংমল আর মাদ্রাসা ভেঙে পার্ক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এ উদ্যোগ কখনই বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। মসজিদের উন্নয়ন করতে চাইলে উপরে পিলার দিয়ে করেন, কিন্তু শপিংমল করে দোকান বাণিজ্য করবেন সেটা হবে না।

মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ওলামাদের ফতোয়া

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৩৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মসজিদ ভেঙে শপিংমল ও মাদ্রাসা উচ্ছেদ করে পার্ক করার অভিযোগ এনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদ।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের চাষাঢ়া এলাকার বাগে জান্নাত মসজিদের সামনে কয়েক হাজার মুসল্লি ও শত শত আলেম-ওলামা এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। মুসল্লিদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী প্রায় অর্ধশত বছরের প্রাচীন বাগে জান্নাত মসজিদ ও মাদ্রাসা ভেঙে ফেলতে চিঠি দিয়েছেন। 

এদিকে সমাবেশ থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের প্রায় অর্ধশত ওলামা। তারা এ সময় শহরের কয়েকটি মসজিদ ও মাদ্রাসা দখল ও ভাঙার প্রতিবাদ জানিয়ে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি ফেরদাউসুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদানীনগর মাদ্রসারা মোহতামিম ও নারায়ণগঞ্জ হেফাজত ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশীরউল্লাহ। 
উল্লেখ্য, শহরের কয়েকশ' বছরের প্রাচীন একটি মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কর্তৃক আন্দোলনের ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এ সমাবেশ করলেন। 

সমাবেশের প্রধান অতিথি মুফতি বশীরউল্লাহ বলেন, ফতুল্লার মাসদাইর সিটি কবরস্থানের বহু পুরনো একটি মাদ্রাসা গত ২ বছর আগেই মেয়র আইভী উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। কিন্তু কথা দিয়েও সেই মাদ্রাসা আজও করে দেয়া হয়নি। 

শহরের বাগে জান্নাত মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসা উচ্ছেদে চিঠি দিয়েছেন, এমনকি মেয়র আইভী নিজে এসেই মাদ্রাসাটি উচ্ছেদে কঠোর ভাষায় তাগিদ দিয়েছেন। তিনি মসজিদটি ভেঙে সেখানে বহুতল শপিং কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসা ভেঙে পার্ক করতে চাচ্ছেন। 

অথচ তিনি পাশের রামকৃষ্ণ মিশনে প্রায় অর্ধকোটি টাকা দিয়ে প্রধান ফটক বানিয়ে দিচ্ছেন, মাজারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন। আবার মন্দিরের সম্পত্তি গ্রাস করতে চাচ্ছেন। মেয়র আইভীর এসব দ্বৈতনীতি আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করছে।

এ সময় উপস্থিত ওলামারা ফতোয়া চাইলে মুফতি বশীরউল্লাহ বলেন, কিতাবের পরিষ্কার নির্দেশনা মতে- একজন মুসলমান হয়ে মেয়র আইভী মন্দিরে গিয়ে সিঁদুর এঁটে প্রতীমার সামনে কড়জোরে নমস্কার করে ও মাজারে কপাল ঠেকিয়ে শিরক করে ইসলামের বিধান ভঙ্গ করেছেন। তাই মেয়র আইভী এখন মুসলমানের কাতারে নেই, তিনি একজন মুশরিকের কাজ করেছেন। তিনি মুসলমান হিসেবে নিজেকে দাবি করতে পারেন না। তার উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় কালেমা পাঠ করা অথবা ঘোষণা দিতে হবে তিনি কোন ধর্মে থাকবেন। 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান এ সময় মেয়র আইভীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই মাদ্রাসাকে তথা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সম্মাননা দিয়েছেন। আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবান নন। আর আপনি আসছেন মাদ্রাসা উচ্ছেদ করতে। 

তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি তথা অসাম্প্রদায়িক নারায়ণগঞ্জে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করেন। ভোটের জন্য কখনো হিন্দু সেজে সিঁদুর দিয়ে প্রণাম করে কালীমন্দিরে সিজদা দেন; আবার মাজারে গিয়েও ঢোল-তবলা বাজিয়ে নাচানাচি করে মাজারে সেজদা করেন। আপনি এখনো মুসলমান আছেন নাকি হিন্দু হয়ে গেছেন- সেটি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। মাদ্রাসা ও মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করতে আসলে আমরা উচিত জবাব দিয়ে দেব। 

সেখানে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, প্রয়োজনে কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করব, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেব; কিন্তু মসজিদ মাদ্রাসা ভেঙে শপিংমল আর পার্ক করতে দেব না। আল্লাহর ঘর মসজিদ আর পবিত্র কোরআন হাদিস যেখানে পড়ানো হয় সেই মাদ্রাসার প্রশ্নে আমরা ছাড় দেব না। 

মসজিদ কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু বলেন, ছোটবেলায় দেখেছি এখানে টিনের ঘরে নামাজ হতো। সম্পূর্ণ মুসল্লিদের অনুদানে সেই মসজিদ এখন তিনতলা। সিটি করপোরেশনের মেয়র এখানে মসজিদ ভেঙে শপিংমল আর মাদ্রাসা ভেঙে পার্ক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এ উদ্যোগ কখনই বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। মসজিদের উন্নয়ন করতে চাইলে উপরে পিলার দিয়ে করেন, কিন্তু শপিংমল করে দোকান বাণিজ্য করবেন সেটা হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন