ধুনটে আ’লীগের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বুধবার
jugantor
ধুনটে আ’লীগের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বুধবার

  বগুড়া ব্যুরো  

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০২:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী বুধবার ধুনট পৌর এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক এএফএম ফজলুল হক এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মামলা প্রত্যাহারে মঙ্গলবার পর্যন্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধুনট উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সভাপতি টিএমআই নুরুন্নবী তারিকের পরাজয়, বিদ্রোহী প্রার্থী দল থেকে বহিষ্কৃত এজিএম বাদশাহের জয়লাভ, উপজেলা পরিষদের উন্নয়নে বরাদ্দ কোটি কোটি টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন।

একপক্ষে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, তার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি ও তার লোকজন এবং অপরপক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকন ও তার লোকজনের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। এর জের ধরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সড়কে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে চার পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হন।

এ ঘটনায় ধুনট থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান একই দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দৌলা রিপন, শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

অপরদিকে উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হারুন বাবু ধুনট পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ, আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম রেজা, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম রনিসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।

ঘটনার রাতে মামলা দায়েরের পর ধুনট থানা পুলিশ দুইপক্ষ থেকে ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপন (৩৮) ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদত হোসেনকে (৫৫) গ্রেফতার করে।

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এমপির ছেলে সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফি, যুগ্ম সম্পাদক মহসিন আলম ও সদস্য ইমরুল কাদের সেলিম রেজাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরোধ তুঙ্গে উঠে।

প্রতিবাদে মেয়র সমর্থকরা বিকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান মণ্ডল পাবলিক স্কুল মাঠে সমাবেশের আয়োজন করেন। পুলিশের বাধার মুখে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আকতারের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের সদস্য এএফএম ফজলুল হক, ধুনট পৌরসভার কাউন্সিলর রঞ্জু মল্লিক, ফরহাদ হোসেন ও ধুনট স্টুডেন্ট ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোমিন সোহেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে সমাবেশে উপস্থিত নারী-পুরুষরা মেয়র এজিএম বাদশাহের বাসভবনে যান।

সেখানে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলেন, পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

এএফএম ফজলুল হক জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তি স্বার্থে তাকে, তার ভাই মেয়র এজিএম বাদশাহ, আসিফ ইকবাল সনি, ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন আলম, শফিকুল ইসলাম, ইমরুল কাদের সেলিম, কৃষক লীগ নেতা আবদুল লতিফ পাখি, সেলিম গেলাট ও জাহিদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে মেয়র ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি ধুনট পৌর এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হবে।

ধুনটে আ’লীগের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বুধবার

 বগুড়া ব্যুরো 
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী বুধবার ধুনট পৌর এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক এএফএম  ফজলুল হক এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মামলা প্রত্যাহারে মঙ্গলবার পর্যন্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধুনট উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সভাপতি টিএমআই নুরুন্নবী তারিকের পরাজয়, বিদ্রোহী প্রার্থী দল থেকে বহিষ্কৃত এজিএম বাদশাহের জয়লাভ, উপজেলা পরিষদের উন্নয়নে বরাদ্দ কোটি কোটি টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন।

একপক্ষে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, তার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি ও তার লোকজন এবং অপরপক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকন ও তার লোকজনের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। এর জের ধরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সড়কে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে চার পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হন।

এ ঘটনায় ধুনট থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান একই দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দৌলা রিপন, শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

অপরদিকে উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হারুন বাবু ধুনট পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ, আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম রেজা, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম রনিসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।

ঘটনার রাতে মামলা দায়েরের পর ধুনট থানা পুলিশ দুইপক্ষ থেকে ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপন (৩৮) ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদত হোসেনকে (৫৫) গ্রেফতার করে।

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এমপির ছেলে সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফি, যুগ্ম সম্পাদক মহসিন আলম ও সদস্য ইমরুল কাদের সেলিম রেজাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরোধ তুঙ্গে উঠে।

প্রতিবাদে মেয়র সমর্থকরা বিকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান মণ্ডল পাবলিক স্কুল মাঠে সমাবেশের আয়োজন করেন। পুলিশের বাধার মুখে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আকতারের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের সদস্য এএফএম ফজলুল হক, ধুনট পৌরসভার কাউন্সিলর রঞ্জু মল্লিক, ফরহাদ হোসেন ও ধুনট স্টুডেন্ট ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোমিন সোহেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে সমাবেশে উপস্থিত নারী-পুরুষরা মেয়র এজিএম বাদশাহের বাসভবনে যান।

সেখানে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলেন, পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

এএফএম ফজলুল হক জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তি স্বার্থে তাকে, তার ভাই মেয়র এজিএম বাদশাহ, আসিফ ইকবাল সনি, ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন আলম, শফিকুল ইসলাম, ইমরুল কাদের সেলিম, কৃষক লীগ নেতা আবদুল লতিফ পাখি, সেলিম গেলাট ও জাহিদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে মেয়র ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি ধুনট পৌর এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন