বোরহানউদ্দিনে পানদোকানির ঘরে ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকাণ্ড
jugantor
বোরহানউদ্দিনে পানদোকানির ঘরে ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকাণ্ড

  বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি  

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫৩:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বোরহানউদ্দিন

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট মানিকা গ্রামের খুচরা পান বিক্রেতা উজ্জল রায়ের ভাড়া বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার দুপুরে পোড়া ভিটায় দাঁড়িয়ে উজ্জল রায় ও তার স্বজনরা এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঘর মালিক লিটন চন্দ্র দাসের দিকে অভিযোগ তুলেছেন। তবে লিটন দাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে উজ্জল রায়ের ভাড়া বসত ঘরে আগুন লাগে। ওই সময় ঘরে কেউ ছিল না। উজ্জল রায়ের স্ত্রী আঁখি রানী, মেয়ে পুনম রায় ও ছেলে প্রিতম রায় ১ কিলোমিটার দূরবর্তী কীর্ত্তনীয় বাড়িতে স্বরসতি পুঁজার অনুষ্ঠানে ছিলেন। উজ্জল রায় পৌর শহরের পশ্চিম বাজারে পান বিক্রি করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী পাশের ঘরের গৃহবধূ পারভিন আক্তার, হাসনা বেগম, ইয়ানুর বেগম জানান, তারা রাত ৮ টার দিকে উজ্জল রায়ের বসত ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোন দিয়ে প্রথমে আগুন দেখতে পান। দশ মিনিটের মধ্যে ওই আগুন সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তারা মোবাইল ফোনে ওই পরিবারের সদস্যদের জানানোর চেষ্টার পাশাপাশি আগুন আগুন বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে ফায়ার সার্ভিস আসলেও ততক্ষণে আগুনে পুড়ে সব শেষ।

তারা আরো জানান, সকাল ১১ টার দিকে ওই ঘরে সাগু রান্না করা হয়। এছাড়া দুপুরে আর রান্না হয়নি। ওই ঘরে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ আনেনি। কীভাবে আগুন লাগলো এটা একটা রহস্য।

ঘরের বাসিন্দা উজ্জল রায় জানান, তারা পৌর শহর ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা লিটন চন্দ্র দাসের মালিকানাধীন ওই ঘরে গত ৮-৯ বছর ধরে পাহারাদার হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। গত ৬-৭ মাস ধরে ১ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় থাকছেন। ২ মাসের ভাড়াও বাকি আছে। লিটন বিভিন্ন সময়ে ঘর ছেড়ে যেতে বলছিলেন। নদী ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে যাবার পর কোথাও যাবার উপায় ছিল না। এছাড়া দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে পুনমকে বিয়ে দেয়া পর্যন্ত সময়টুকু চেয়েছিলাম। কিন্তু সে কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না; বরং চলে যেতে চাপ, হুমকি দিচ্ছিল। উজ্জল রায় দাবি করেন তাকে ঘর ছাড়া করতেই লিটন দাস এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

লিটন চন্দ্র দাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রথম থেকেই উজ্জল রায় ৫শ’ টাকা মাসিক ভাড়ায় ওই ঘরে থাকে। পরবর্তীতে এক হাজার টাকা ভাড়া চুক্তি করে। যা একমাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমার ঘরে আমি আগুন দেব কেন! চুক্তি শেষ, তারতো এমনিতেই নেমে যাওয়ার কথা।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ঘর পুড়ে যায়। তবে আগুনের সুত্রপাত হিসেবে প্রাথমিকভাবে চুলার আগুনকে মনে করা হচ্ছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মাজহারুল আমিন জানান, ঘরমালিক লিটন চন্দ্র দাস একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত চলছে।

বোরহানউদ্দিনে পানদোকানির ঘরে ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকাণ্ড

 বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি 
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বোরহানউদ্দিন
ছবি:ধ যুগান্তর

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট মানিকা গ্রামের খুচরা পান বিক্রেতা উজ্জল রায়ের ভাড়া বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার দুপুরে পোড়া ভিটায় দাঁড়িয়ে উজ্জল রায় ও তার স্বজনরা এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঘর মালিক লিটন চন্দ্র দাসের দিকে অভিযোগ তুলেছেন।  তবে লিটন দাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে উজ্জল রায়ের ভাড়া বসত ঘরে আগুন লাগে। ওই সময় ঘরে কেউ ছিল না। উজ্জল রায়ের স্ত্রী আঁখি রানী, মেয়ে পুনম রায় ও ছেলে প্রিতম রায় ১ কিলোমিটার দূরবর্তী কীর্ত্তনীয় বাড়িতে স্বরসতি পুঁজার অনুষ্ঠানে ছিলেন। উজ্জল রায় পৌর শহরের পশ্চিম বাজারে পান বিক্রি করছিল। 

প্রত্যক্ষদর্শী পাশের ঘরের গৃহবধূ পারভিন আক্তার, হাসনা বেগম, ইয়ানুর বেগম জানান, তারা রাত ৮ টার দিকে উজ্জল রায়ের বসত ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোন দিয়ে প্রথমে আগুন দেখতে পান। দশ মিনিটের মধ্যে ওই আগুন সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তারা মোবাইল ফোনে ওই পরিবারের সদস্যদের জানানোর চেষ্টার পাশাপাশি আগুন আগুন বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে ফায়ার সার্ভিস আসলেও ততক্ষণে আগুনে পুড়ে সব শেষ। 

তারা আরো জানান, সকাল ১১ টার দিকে ওই ঘরে সাগু রান্না করা হয়। এছাড়া দুপুরে আর রান্না হয়নি। ওই ঘরে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ আনেনি। কীভাবে আগুন লাগলো এটা একটা রহস্য। 

ঘরের বাসিন্দা উজ্জল রায় জানান, তারা পৌর শহর ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা লিটন চন্দ্র দাসের মালিকানাধীন ওই ঘরে গত ৮-৯ বছর ধরে পাহারাদার হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। গত ৬-৭ মাস ধরে ১ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় থাকছেন। ২ মাসের ভাড়াও বাকি আছে। লিটন বিভিন্ন সময়ে ঘর ছেড়ে যেতে বলছিলেন। নদী ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে যাবার পর কোথাও যাবার উপায় ছিল না। এছাড়া দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে পুনমকে বিয়ে দেয়া পর্যন্ত সময়টুকু চেয়েছিলাম। কিন্তু সে কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না; বরং চলে যেতে চাপ, হুমকি দিচ্ছিল। উজ্জল রায় দাবি করেন তাকে ঘর ছাড়া করতেই লিটন দাস এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। 

লিটন চন্দ্র দাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রথম থেকেই উজ্জল রায় ৫শ’ টাকা মাসিক ভাড়ায় ওই ঘরে থাকে। পরবর্তীতে এক হাজার টাকা ভাড়া চুক্তি করে। যা একমাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমার ঘরে আমি আগুন দেব কেন! চুক্তি শেষ, তারতো এমনিতেই নেমে যাওয়ার কথা। 

উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ঘর পুড়ে যায়। তবে আগুনের সুত্রপাত হিসেবে প্রাথমিকভাবে চুলার আগুনকে মনে করা হচ্ছে। 

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মাজহারুল আমিন জানান, ঘরমালিক লিটন চন্দ্র দাস একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন