পূবাইলে জাল দলিলে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ 
jugantor
জজকোর্টে মামলা চলমান 
পূবাইলে জাল দলিলে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ 

  পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:১৫:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

পূবাইলে জাল দলিলে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ 

গাজীপুর মহানগরীর ৪১নং ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকায় জাল দলিল করে কোটি টাকার জমি নিজের নামে করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওই জমির প্রকৃত মালিক স্থানীয় শেখ মুক্তার হোসেন। জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মফিজউদ্দিন, রানা মোল্লাসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র এসএ, আরএস পর্চা জাল করে গাজীপুরের চতর মৌজার ওসমানের সাড়ে তিন শতাংশ জমির দলিল জাল করে ২৭ শতাংশ দেখিয়ে দলিল করে নেয় ওই অসাধু চক্র। পরে ২৪ শতাংশ পূবাইলের খিলগাঁওমৌজার জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটির নেতা মফিজ ও তার সহযোগীরা, যেটির দলিল ও পূর্বের ওসমানের দলিল নম্বর একই (নং-৮৩৫৬/৭৭)।

এই দলিলের নকল তুলে দেখা গেছে, চতর মৌজার সাড়ে তিন শতাংশ জমির মালিক ওসমান, জমিটি বিক্রীত। অভিযুক্তরা পরে জাল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল করে গাজীপুর সদর সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস থেকে নামজারিও করে নেয় সুকৌশলে।

ভুক্তভোগী শেখ মোক্তার বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জালিয়াতি করে নামজারি ও খারিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় খারিজ বাতিল করে একটি আদেশ ৫৯৬৮(৩)/১৮ জারি করেন আদালত। পাশাপাশি জাল দলিল বাতিলের জন্য গাজীপুর দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন, যার নম্বর ২৮৫/১৯। মামলাটি এখনও চলমান।

জানা যায়, অভিযুক্ত মফিজউদ্দিন একই এলাকার আপন ভুবন রিসোর্টের কেয়ারটেকার রানা মোল্লার নামে একটি আমমোক্তার নামা দলিল (নং১৭৮৫৭/১৭) করে দিলে রানা মোল্লা দলবল নিয়ে জমিটি গত বছর দখলে নেন। ইতোমধ্যে ২-৩ বার বায়না সূত্রে জমির মালিক দেখিয়ে সাইনবোর্ড ২/ ৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছে।

আমমোক্তারনামা দলিল মালিক রানা মোল্লা এ বিষয়ে জানান, দলিল জাল কিনা সেটি বলবেন আমার দলিলদাতা মফিজ।

জাল ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্রের দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ৪১ নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর বজলুর রহমান বাছির যুগান্তরকে জানান, আমার স্বাক্ষর জাল করে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে চক্রটি শেখ মোক্তারের কোটি টাকার জমিটি দখলে নিয়েছে। স্থানীয় ও সামাজিকভাবে পূবাইল মেট্রো থানাসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে মীমাংসের জন্য একাধিকবার বসা হলেও সুরাহা হয়নি। উপরন্তু কুচক্রটি প্রায় কোটি টাকার ২৪ শতাংশ জমিটি দখলে নিয়ে নেয়।

স্থানীয়রা জানান, আপন ভুবন রিসোর্ট রানা মোল্লার সহযোগিতায় অনেকের জমি কিনতে গিয়ে টাকা দিয়ে না দিয়ে দখলে নিয়েছে, যা নিরেপক্ষ তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। আপন ভুবন রিসোর্টের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা লায়লা কানিজ লাকির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি যুগান্তরকে জানান, বিতর্কিত ২৪ শতাংশ জমিতে আমি যাইনি। আমি পাশের ২৫ শতাংশ কিনেছি, সেটিতে প্রাচীর করা হয়েছে। এটি রানা মোল্লা, আমিনুল, মোক্তারদের বিষয়। ওরা মীমাংসা করে আসুক তার পর দেখা যাবে।

দখলের বিষয়ে অভিযুক্ত মফিজউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এই জমি পৈতৃক সূত্রে আমি মালিক। কোনো প্রকার জাল-জালিয়াতের সঙ্গে আমি জড়িত নই।

অন্যদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন জয়দেবপুর থানা এলাকায় বসে ছয় সাক্ষীর সামনে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা দিয়েছিলেন দখলদাররা। সেখানে তারা লেখেন যে, তারা ওই জমির ৮৩৫৬/৭৭ নং দলিল সৃজিত করে জাল দলিল করেননি। ভবিষ্যতে কোনো প্রকার সমস্যা করবেন না।

দলিল লেখক নিরঞ্জন চন্দ্র দাসকে দলিল কীভাবে মফিজউদ্দিনের নামে রেজিস্ট্রি হলো জানতে চাইলে বলেন, তখন আমার মনে হয়েছিল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো টেম্পারিং করা। আমার করার কিছুই ছিল না। সাবমিট করেছি দলিল হয়ে গেছে।


জজকোর্টে মামলা চলমান 

পূবাইলে জাল দলিলে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ 

 পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি  
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পূবাইলে জাল দলিলে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ 
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর ৪১নং ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকায় জাল দলিল করে কোটি টাকার জমি নিজের নামে করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

ওই জমির প্রকৃত মালিক স্থানীয় শেখ মুক্তার হোসেন। জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মফিজউদ্দিন, রানা মোল্লাসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র এসএ, আরএস পর্চা জাল করে গাজীপুরের চতর মৌজার ওসমানের সাড়ে তিন শতাংশ জমির দলিল জাল করে ২৭ শতাংশ দেখিয়ে দলিল করে নেয় ওই অসাধু চক্র। পরে ২৪ শতাংশ পূবাইলের খিলগাঁও মৌজার জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটির নেতা মফিজ ও তার সহযোগীরা, যেটির দলিল ও পূর্বের ওসমানের দলিল নম্বর একই (নং-৮৩৫৬/৭৭)।  

এই দলিলের নকল তুলে দেখা গেছে, চতর মৌজার সাড়ে তিন শতাংশ জমির মালিক ওসমান, জমিটি বিক্রীত। অভিযুক্তরা পরে জাল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল করে গাজীপুর সদর সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস থেকে নামজারিও করে নেয় সুকৌশলে। 

ভুক্তভোগী শেখ মোক্তার বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জালিয়াতি করে নামজারি ও খারিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন।  এ মামলায় খারিজ বাতিল করে একটি আদেশ ৫৯৬৮(৩)/১৮ জারি করেন আদালত। পাশাপাশি জাল দলিল বাতিলের জন্য গাজীপুর দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন, যার নম্বর ২৮৫/১৯। মামলাটি এখনও চলমান। 

জানা যায়, অভিযুক্ত মফিজউদ্দিন একই এলাকার আপন ভুবন রিসোর্টের কেয়ারটেকার রানা মোল্লার নামে একটি আমমোক্তার নামা দলিল (নং১৭৮৫৭/১৭) করে দিলে রানা মোল্লা দলবল নিয়ে  জমিটি গত বছর দখলে নেন।  ইতোমধ্যে ২-৩ বার বায়না সূত্রে জমির মালিক দেখিয়ে সাইনবোর্ড ২/ ৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছে।  

আমমোক্তারনামা দলিল মালিক রানা মোল্লা এ বিষয়ে জানান, দলিল জাল কিনা সেটি বলবেন আমার দলিলদাতা মফিজ।  

জাল ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্রের দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ৪১ নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর বজলুর রহমান বাছির যুগান্তরকে জানান, আমার স্বাক্ষর জাল করে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে চক্রটি শেখ মোক্তারের কোটি টাকার জমিটি দখলে নিয়েছে। স্থানীয় ও সামাজিকভাবে পূবাইল মেট্রো থানাসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে মীমাংসের জন্য একাধিকবার বসা হলেও সুরাহা হয়নি।  উপরন্তু কুচক্রটি প্রায় কোটি টাকার ২৪ শতাংশ জমিটি দখলে নিয়ে নেয়। 

স্থানীয়রা জানান, আপন ভুবন রিসোর্ট রানা মোল্লার সহযোগিতায় অনেকের জমি কিনতে গিয়ে টাকা দিয়ে না দিয়ে দখলে নিয়েছে, যা নিরেপক্ষ তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। আপন ভুবন রিসোর্টের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা লায়লা কানিজ লাকির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি যুগান্তরকে জানান, বিতর্কিত ২৪ শতাংশ জমিতে আমি যাইনি। আমি পাশের ২৫ শতাংশ কিনেছি, সেটিতে প্রাচীর করা হয়েছে। এটি রানা মোল্লা, আমিনুল, মোক্তারদের বিষয়। ওরা মীমাংসা করে আসুক তার পর দেখা যাবে।  

দখলের বিষয়ে অভিযুক্ত মফিজউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এই জমি পৈতৃক সূত্রে আমি মালিক। কোনো প্রকার জাল-জালিয়াতের সঙ্গে আমি জড়িত নই।  

অন্যদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন জয়দেবপুর থানা এলাকায় বসে ছয় সাক্ষীর সামনে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা দিয়েছিলেন দখলদাররা। সেখানে তারা লেখেন যে, তারা ওই জমির ৮৩৫৬/৭৭ নং দলিল সৃজিত করে জাল দলিল করেননি। ভবিষ্যতে কোনো প্রকার সমস্যা করবেন না। 

দলিল লেখক নিরঞ্জন চন্দ্র দাসকে দলিল কীভাবে মফিজউদ্দিনের নামে রেজিস্ট্রি হলো জানতে চাইলে বলেন, তখন আমার মনে হয়েছিল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো টেম্পারিং করা। আমার করার কিছুই ছিল না।  সাবমিট করেছি দলিল হয়ে গেছে। 


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন