মুজাক্কির হত্যার বিচার চায় পরিবার
jugantor
মুজাক্কির হত্যার বিচার চায় পরিবার

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:২৫:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নোয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বড়ভাই নূরউদ্দিন মুহাদ্দিস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বাবা মাওলানা নুরুল হুদা মো. নোয়াব আলী, মা মমতাজ বেগম, ভাই ফখরুদ্দিন, বোন জান্নাতুল ফেরদাউস, গোলশান, গোলনাহার, ভগ্নিপতি আবদুস সাত্তার, মাওলানা আবু ছায়েদসহ স্বজনরা।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী জেলা ও সারা দেশের সাংবাদিকরা মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদ প্রচার ও জনমত সৃষ্টি অব্যাহত রাখায় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

এ সময় নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বড়ভাই নূরউদ্দিন মুহাদ্দিস বলেন, নিহত মুজাক্কির সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি রোগীদের প্রয়োজনে এ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৬ জনকে দিয়েছেন। করোনাকালীন নিজ এলাকার অসহায় ও গরিব মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ঈদে দুস্থ ও এতিমদের গোপনে সহযোগিতা করতেন।

নূরউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, গত শুক্রবার উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ববাজারে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মুজাক্কির। এ সময় আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বারবার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘসময় বাজারে পড়ে থাকার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুজাক্কির মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছেন ঢামেকের চিকিৎসক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুজাক্কির পড়ালেখার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করত। কিন্তু সে কোনো দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পিতা মাওলানা নূরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার বলেন, ওই দিন ঘটনাস্থলে তিনি বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাই কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা দেখিনি। তবে যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি করেন। খুনিদের ফাঁসির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।

নিহতের মা মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আদরের ছোটছেলে মারা যাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে গতকাল (বুধবার) একটি ভিডিও দেখেছিলাম। ভিডিওতে দেখা যায় গত কয়েক মাস আগে একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে মারধর করে।

তিনি বলেন, ওই হামলাকারী তাকে বলে- ‘তোর কোন বাবা আছে?' আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সত্যতার ভিত্তিতে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের স্বজনরা।

মুজাক্কির হত্যার বিচার চায় পরিবার

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নোয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বড়ভাই নূরউদ্দিন মুহাদ্দিস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বাবা মাওলানা নুরুল হুদা মো. নোয়াব আলী, মা মমতাজ বেগম, ভাই ফখরুদ্দিন, বোন জান্নাতুল ফেরদাউস, গোলশান, গোলনাহার, ভগ্নিপতি আবদুস সাত্তার, মাওলানা আবু ছায়েদসহ স্বজনরা। 

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী জেলা ও সারা দেশের সাংবাদিকরা মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদ প্রচার ও জনমত সৃষ্টি অব্যাহত রাখায় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা। 

এ সময় নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বড়ভাই নূরউদ্দিন মুহাদ্দিস বলেন, নিহত মুজাক্কির সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি রোগীদের প্রয়োজনে এ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৬ জনকে দিয়েছেন। করোনাকালীন নিজ এলাকার অসহায় ও গরিব মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ঈদে দুস্থ ও এতিমদের গোপনে সহযোগিতা করতেন। 

নূরউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, গত শুক্রবার উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ববাজারে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মুজাক্কির। এ সময় আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বারবার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘসময় বাজারে পড়ে থাকার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুজাক্কির মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছেন ঢামেকের চিকিৎসক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুজাক্কির পড়ালেখার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করত। কিন্তু সে কোনো দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পিতা মাওলানা নূরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার বলেন, ওই দিন ঘটনাস্থলে তিনি বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাই কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা দেখিনি। তবে যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি করেন। খুনিদের ফাঁসির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।

নিহতের মা মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আদরের ছোটছেলে মারা যাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে গতকাল (বুধবার) একটি ভিডিও দেখেছিলাম। ভিডিওতে দেখা যায় গত কয়েক মাস আগে একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে মারধর করে।

তিনি বলেন, ওই হামলাকারী তাকে বলে- ‘তোর কোন বাবা আছে?' আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সত্যতার ভিত্তিতে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের স্বজনরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন