চিকিৎসকের স্ত্রীর নির্যাতনে মৃত্যুশয্যায় গৃহকর্মী
jugantor
চিকিৎসকের স্ত্রীর নির্যাতনে মৃত্যুশয্যায় গৃহকর্মী

  উজিরপুর প্রতিনিধি  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫৩:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

চিকিৎসক দম্পতি ও নির্যাতিত শিশু

ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. সিএইচ রবিনের স্ত্রী রাখির অমানুষিক নির্যাতনে গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈ (১১) হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়। উজিরপুর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

নির্যাতিত শিশু ও তার পরিবার জানায়, বরিশালেরউজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামে ডা. সিএইচ রবিনের বাড়ি। চাকরি করেন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে, বাসা শ্যামলীতে। পিতা প্রতিবন্ধী হওয়ায় মা ছোটবেলায় সংসার ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অর্ধাহারে-অনাহারের চলে সংসার।

করোনার কারণে অভাবের তাড়নায় ৬ মাস আগে স্থানীয় বাসুদেবের মাধ্যমে হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি গ্রামের ননী বাড়ৈর মেয়ে নিপা বাড়ৈ ডাক্তার রবিনের বাসায় গৃহকর্মীর কাজে যায়।

গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈ জানায়, কাজের শুরু থেকেই সামান্য ভুলত্রুটি হলেই ডাক্তার সাহেবের স্ত্রী রাখি তার শরীরে কখনো খুন্তি দিয়ে আঘাত, কখনো বা ধারালো চাকু দিয়ে কোপ মারত। এমনকি চিৎকার দিলে গলা চেপে ধরে দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করত। এতে তার দুই হাত, হাতের আঙ্গুল, মাথা, গলা, মুখমণ্ডল ও পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে অগণিত ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে।

বাড়ি থেকে মাঝে মধ্যে বৃদ্ধ দাদু ও কাকারা ফোন দিলে ডাক্তারের স্ত্রী রাখি মারধরের কথা না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখাত। গত রোববার নিপা বাড়ৈর ওপর আবারও ডাক্তারের স্ত্রী অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মাথায় চাকু দিয়ে কোপ মারে। এতে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে সে।

কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে কাউকে কিছু না বলার হুমকি দিয়ে মঙ্গলবার ডাক্তারের কম্পাউন্ডার বাসুদেবের মাধ্যমে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলেই বাড়ির দাদু, কাকিমা, কাকারা মিলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে সবকিছু খুলে বলে।

পরে স্থানীয়রা উজিরপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে মডেল থানার এসআই মাহাতাব তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

মডেল থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, সংবাদ পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উজিরপুর হাসপাতালে দায়িত্বরত ডাক্তার নূসরাত জাহান সাকি জানান, শরীরে কিছু ক্ষত নতুন আর অনেক ক্ষত পুরাতন। তবে তার চিকিৎসা চলছে।

শিশু গৃহকর্মীর কাকা তপন বাড়ৈ জানান, নিপার শারীরিক অবস্থা দেখে ডাক্তারের স্ত্রী রাখির কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি মোবাইলে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নওয়াব আলী বাড়ৈ জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জঘন্য। তবে অভিযুক্ত রাখির স্বামী ডা. সিএইচ রবিন জানান, বিষয়টি সাজানো। তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করেননি।

চিকিৎসকের স্ত্রীর নির্যাতনে মৃত্যুশয্যায় গৃহকর্মী

 উজিরপুর প্রতিনিধি 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চিকিৎসক দম্পতি ও নির্যাতিত শিশু
চিকিৎসক দম্পতি ও নির্যাতিত শিশু

ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. সিএইচ রবিনের স্ত্রী রাখির অমানুষিক নির্যাতনে গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈ (১১) হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়। উজিরপুর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। 

নির্যাতিত শিশু ও তার পরিবার জানায়, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামে ডা. সিএইচ রবিনের বাড়ি। চাকরি করেন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে, বাসা শ্যামলীতে। পিতা প্রতিবন্ধী হওয়ায় মা ছোটবেলায় সংসার ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অর্ধাহারে-অনাহারের চলে সংসার। 

করোনার কারণে অভাবের তাড়নায় ৬ মাস আগে স্থানীয় বাসুদেবের মাধ্যমে হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি গ্রামের ননী বাড়ৈর মেয়ে নিপা বাড়ৈ ডাক্তার রবিনের বাসায় গৃহকর্মীর কাজে যায়।

গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈ জানায়, কাজের শুরু থেকেই সামান্য ভুলত্রুটি হলেই ডাক্তার সাহেবের স্ত্রী রাখি তার শরীরে কখনো খুন্তি দিয়ে আঘাত, কখনো বা ধারালো চাকু দিয়ে কোপ মারত। এমনকি চিৎকার দিলে গলা চেপে ধরে দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করত। এতে তার দুই হাত, হাতের আঙ্গুল, মাথা, গলা, মুখমণ্ডল ও পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে অগণিত ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। 

বাড়ি থেকে মাঝে মধ্যে বৃদ্ধ দাদু ও কাকারা ফোন দিলে ডাক্তারের স্ত্রী রাখি মারধরের কথা না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখাত। গত রোববার নিপা বাড়ৈর ওপর আবারও ডাক্তারের স্ত্রী অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মাথায় চাকু দিয়ে কোপ মারে। এতে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে সে। 

কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে কাউকে কিছু না বলার হুমকি দিয়ে মঙ্গলবার ডাক্তারের কম্পাউন্ডার বাসুদেবের মাধ্যমে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলেই বাড়ির দাদু, কাকিমা, কাকারা মিলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে সবকিছু খুলে বলে। 

পরে স্থানীয়রা উজিরপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে মডেল থানার এসআই মাহাতাব তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

মডেল থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, সংবাদ পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

উজিরপুর হাসপাতালে দায়িত্বরত ডাক্তার নূসরাত জাহান সাকি জানান, শরীরে কিছু ক্ষত নতুন আর অনেক ক্ষত পুরাতন। তবে তার চিকিৎসা চলছে। 

শিশু গৃহকর্মীর কাকা তপন বাড়ৈ জানান, নিপার শারীরিক অবস্থা দেখে ডাক্তারের স্ত্রী রাখির কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি মোবাইলে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছি। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য নওয়াব আলী বাড়ৈ জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জঘন্য। তবে অভিযুক্ত রাখির স্বামী ডা. সিএইচ রবিন জানান, বিষয়টি সাজানো। তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করেননি। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন