গর্ভেই নবজাতকের মাথা ছিঁড়ে ফেললেন আয়া!
jugantor
গর্ভেই নবজাতকের মাথা ছিঁড়ে ফেললেন আয়া!

  যশোর ব্যুরো  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:২২:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সের অনুপস্থিতিতে আয়ার টানাটানিতে গর্ভেই নবজাতকের গলা ছিঁড়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ আন্না (২৫) ডেলিভারি করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে– নবজাতকটি মৃত ছিল। শরীরে পচন ধরেছিল। যার জন্য আয়ারা নবজাতকের পা ধরে টান দিতেই মাথা ছিঁড়ে মায়ের পেটের ভেতর থেকে গেছে।

গৃহবধূ আন্না যশোরের বেনাপোলের গাজীপুরের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী। আন্না ও ইয়াকুব দম্পতি প্রথম সন্তানের বাবা-মা হতে যাচ্ছিলেন।

স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে শার্শা উপজেলার বেনাপোল গাজীপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা আন্না বেগম (২৫) টয়লেটে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মধ্যরাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

শনিবার সকালে ওয়ার্ডের চিকিৎসক তানজিলা ইয়াসমিন একবার দেখে যান। ওই ওয়ার্ডের নার্সদের চিকিৎসক তানজিলা রোগীর জরায়ুর মুখ খোলার ওষুধ দিতে বলেন। চিকিৎসকের কথামতো আন্নাকে ওষুধ দেওয়া হয়।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আন্নার গর্ভে থাকা ছেলের দুই পা বেরিয়ে এলে ওই ওয়ার্ডের আয়া মোমেনা আন্নাকে ওটিতে নিয়ে বেরিয়ে পড়া পা ধরে টানাটানি করার একপর্যায়ে বাচ্চাটির মাথা মায়ের পেটের মধ্যে থেকে যায়। ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে বাচ্চার গলার নিচ থেকে বাকি অংশ।

প্রসূতি আন্নাকে ওটিতে ফেলেই পালিয়ে যায় আয়া মোমেনা।

ওই নবজাতকের বাবা ইয়াকুব আলী বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর শরীর থেকে নবজাতকের পা বেরিয়ে আসে। প্রথমে ওয়ার্ডের সেবিকারা রোগী দেখে জানান, নরমাল ডেলিভারি হবে। এর পর দুপুরে চিকিৎসক তানজিলা ইয়াসমিন চেকআপ করে বলেন, নরমাল ডেলিভারিতেই বাচ্চা হবে।

এর কিছু সময় পর সেবিকা আবারও জানায় সিজার লাগবে। সিজারের জন্য মেডিসিন আনতে একটা স্লিপ দেন। এর পর হাসপাতালের এক ব্যক্তিকে আমার সঙ্গে দিলেন মেডিসিন আনার জন্য। আমি ওর সঙ্গে না গিয়ে অন্য একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে নিয়ে আসি।

এর কিছুক্ষণ পরে সেবিকারা এসে জানান, আপনার বাচ্চা আর বেঁচে নেই। মায়ের অবস্থাও ভালো না।

রোগীর কাছে যখন ভেতরে গেলাম, তখন জনতে পারেন ওয়ার্ডের বেডের ওপরেই আয়া মোমেনা তার স্ত্রীর নরমাল ভেলেভারি করতে গিয়ে নবজাতকের পা ধরে টান দিতেই শরীর বেরিয়ে আসে; তবে মাথা ছিঁড়ে মায়ের পেটের ভেতর থেকে যায়।

আমি দৌড়ে সেবিকাদের আনার জন্য এসে দেখি একটাও সেবিকা নেই, সবাই পালিয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক তানজিলা ইয়াসমিন জানান, বাচ্চাটি আগেই মায়ের গর্ভে মারা যায়। তবে আয়ার ত্রুটি ছিল।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখেছি। গাইনি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেছেন– শিশুটি আগেই মায়ের গর্ভে মারা গেছে।

রোববার সকালে মায়ের গর্ভ থেকে শিশুটি বের করেছে। ওই মা এখন সুস্থ রয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো অবহেলা হয়নি।

গর্ভেই নবজাতকের মাথা ছিঁড়ে ফেললেন আয়া!

 যশোর ব্যুরো 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সের অনুপস্থিতিতে আয়ার টানাটানিতে গর্ভেই নবজাতকের গলা ছিঁড়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ আন্না (২৫) ডেলিভারি করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে– নবজাতকটি মৃত ছিল। শরীরে পচন ধরেছিল। যার জন্য আয়ারা নবজাতকের পা ধরে টান দিতেই মাথা ছিঁড়ে মায়ের পেটের ভেতর থেকে গেছে।

গৃহবধূ আন্না যশোরের বেনাপোলের গাজীপুরের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী। আন্না ও ইয়াকুব দম্পতি প্রথম সন্তানের বাবা-মা হতে যাচ্ছিলেন।  

স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে শার্শা উপজেলার বেনাপোল গাজীপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা আন্না বেগম (২৫) টয়লেটে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মধ্যরাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

শনিবার সকালে ওয়ার্ডের চিকিৎসক তানজিলা ইয়াসমিন একবার দেখে যান। ওই ওয়ার্ডের নার্সদের চিকিৎসক তানজিলা রোগীর জরায়ুর মুখ খোলার ওষুধ দিতে বলেন। চিকিৎসকের কথামতো আন্নাকে ওষুধ দেওয়া হয়।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আন্নার গর্ভে থাকা ছেলের দুই পা বেরিয়ে এলে ওই ওয়ার্ডের আয়া মোমেনা আন্নাকে ওটিতে নিয়ে বেরিয়ে পড়া পা ধরে টানাটানি করার একপর্যায়ে বাচ্চাটির মাথা মায়ের পেটের মধ্যে থেকে যায়। ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে বাচ্চার গলার নিচ থেকে বাকি অংশ।

প্রসূতি আন্নাকে ওটিতে ফেলেই পালিয়ে যায় আয়া মোমেনা।

ওই নবজাতকের বাবা ইয়াকুব আলী বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর শরীর থেকে নবজাতকের পা বেরিয়ে আসে। প্রথমে ওয়ার্ডের সেবিকারা রোগী দেখে জানান, নরমাল ডেলিভারি হবে। এর পর দুপুরে চিকিৎসক তানজিলা ইয়াসমিন চেকআপ করে বলেন, নরমাল ডেলিভারিতেই বাচ্চা হবে।

এর কিছু সময় পর সেবিকা আবারও জানায় সিজার লাগবে। সিজারের জন্য মেডিসিন আনতে একটা স্লিপ দেন। এর পর হাসপাতালের এক ব্যক্তিকে আমার সঙ্গে দিলেন মেডিসিন আনার জন্য। আমি ওর সঙ্গে না গিয়ে অন্য একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে নিয়ে আসি।

এর কিছুক্ষণ পরে সেবিকারা এসে জানান, আপনার বাচ্চা আর বেঁচে নেই। মায়ের অবস্থাও ভালো না।

রোগীর কাছে যখন ভেতরে গেলাম, তখন জনতে পারেন ওয়ার্ডের বেডের ওপরেই আয়া মোমেনা তার স্ত্রীর নরমাল ভেলেভারি করতে গিয়ে নবজাতকের পা ধরে টান দিতেই শরীর বেরিয়ে আসে; তবে মাথা ছিঁড়ে মায়ের পেটের ভেতর থেকে যায়।

আমি দৌড়ে সেবিকাদের আনার জন্য এসে দেখি একটাও সেবিকা নেই, সবাই পালিয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক তানজিলা ইয়াসমিন জানান, বাচ্চাটি আগেই মায়ের গর্ভে মারা যায়। তবে আয়ার ত্রুটি ছিল।
 
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখেছি। গাইনি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেছেন– শিশুটি আগেই মায়ের গর্ভে মারা গেছে।

রোববার সকালে মায়ের গর্ভ থেকে শিশুটি বের করেছে। ওই মা এখন সুস্থ রয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো অবহেলা হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন