এক নবজাতক চুরির পর মারা যাওয়ায় আরেক নবজাতক চুরি (ভিডিও)
jugantor
এক নবজাতক চুরির পর মারা যাওয়ায় আরেক নবজাতক চুরি (ভিডিও)

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:১৭:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

আসামি কল্পনা খাতুন

নিজের সন্তান না হওয়ায় লালন-পালনের জন্য প্রথম একজনকে চুরির পর মারা যাওয়ায় আরেক নবজাতককে চুরি করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন আটক আল্পনা খাতুন।

এ দুটি নবজাতক চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলম (বিপিএম) এ তথ্য জানান।

আটকরা হলেন- সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সোলায়মান হোসেনের স্ত্রী সয়রন বিবি, তার মেয়ে আল্পনা খাতুন, ছেলে রবিউল ইসলাম, রবিউলের স্ত্রী ময়না খাতুন, একই গ্রামের মৃত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মিনা খাতুন, রেজাউলের স্ত্রী খাদিজা খাতুন, গ্রাম্য ডাক্তার শরিফুল ইসলামসহ ৮ জন। সংবাদ সম্মেলন শেষে আটকদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ৭ বছর আগে আল্পনা খাতুনের বিয়ে হলেও তাদের কোনো সন্তান হচ্ছিল না। এজন্য স্বামীর সংসারে নানা নির্যাতন সহ্য করতে হতো। যে কারণে তিনি সন্তানসম্ভবা বলে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যান।

সেখান থেকে শিশু চুরির উদ্দেশে মাঝে মধ্যে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে আসা-যাওয়া করতেন। এরই সুবাদে হাসপাতালের এক কর্মচারীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে মোবাইলে বিভিন্ন সময় কথা বলতেন।

এরই একপর্যায়ে শিশু চুরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টাকা-পয়সাও লেনদেন করেন। ওই পরিকল্পনামাফিক গত মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে ২৩ দিনের শিশু মাহিমকে চুরি করেন।

পরদিন শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্পনা ও তার স্বজনরা পার্শ্ববর্তী পল্লী চিকিৎসক মো. শরিফুলের কাছে নিয়ে যান। এ সময় শরিফুল শিশুটির দেহে ইনজেকশন পুশ করলে কিছুক্ষণ পরই বাচ্চাটি মারা যায়। পরে আল্পনা মাহিমের লাশ তার বাড়ির ধানের গোলার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন।

এরপর শনিবার বিকালে আল্পনা বোরকা পড়ে আবারও শিশু চুরির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে শিশু সামিউলকে চুরি করে নিয়ে যান।

পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। ওই সব ফুটেজের নমুনা দেখে শনিবার রাতে সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে মাহিমকে মৃত এবং সামিউলকে জীবিত উদ্ধার করি। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরচক্রের ৫ নারী ও ৩ পুরুষ সদস্যকে আটক করা হয়।

এক নবজাতক চুরির পর মারা যাওয়ায় আরেক নবজাতক চুরি (ভিডিও)

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আসামি কল্পনা খাতুন
আসামি কল্পনা খাতুন

নিজের সন্তান না হওয়ায় লালন-পালনের জন্য প্রথম একজনকে চুরির পর মারা যাওয়ায় আরেক নবজাতককে চুরি করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন আটক আল্পনা খাতুন।

এ দুটি নবজাতক চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলম (বিপিএম) এ তথ্য জানান।

আটকরা হলেন- সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সোলায়মান হোসেনের স্ত্রী সয়রন বিবি, তার মেয়ে আল্পনা খাতুন, ছেলে রবিউল ইসলাম, রবিউলের স্ত্রী ময়না খাতুন, একই গ্রামের মৃত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মিনা খাতুন, রেজাউলের স্ত্রী খাদিজা খাতুন, গ্রাম্য ডাক্তার শরিফুল ইসলামসহ ৮ জন। সংবাদ সম্মেলন শেষে আটকদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ৭ বছর আগে আল্পনা খাতুনের বিয়ে হলেও তাদের কোনো সন্তান হচ্ছিল না। এজন্য স্বামীর সংসারে নানা নির্যাতন সহ্য করতে হতো। যে কারণে তিনি সন্তানসম্ভবা বলে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যান। 

সেখান থেকে শিশু চুরির উদ্দেশে মাঝে মধ্যে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে আসা-যাওয়া করতেন। এরই সুবাদে হাসপাতালের এক কর্মচারীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে মোবাইলে বিভিন্ন সময় কথা বলতেন। 

এরই একপর্যায়ে শিশু চুরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টাকা-পয়সাও লেনদেন করেন। ওই পরিকল্পনামাফিক গত মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে ২৩ দিনের শিশু মাহিমকে চুরি করেন।

পরদিন শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্পনা ও তার স্বজনরা পার্শ্ববর্তী পল্লী চিকিৎসক মো. শরিফুলের কাছে নিয়ে যান। এ সময় শরিফুল শিশুটির দেহে ইনজেকশন পুশ করলে কিছুক্ষণ পরই বাচ্চাটি মারা যায়। পরে আল্পনা মাহিমের লাশ তার বাড়ির ধানের গোলার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। 

এরপর শনিবার বিকালে আল্পনা বোরকা পড়ে আবারও শিশু চুরির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে শিশু সামিউলকে চুরি করে নিয়ে যান।

পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। ওই সব ফুটেজের নমুনা দেখে শনিবার রাতে সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে মাহিমকে মৃত এবং সামিউলকে জীবিত উদ্ধার করি। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরচক্রের ৫ নারী ও ৩ পুরুষ সদস্যকে আটক করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন