আরবের ত্বীনফল এখন নবাবগঞ্জে (ভিডিও)
jugantor
আরবের ত্বীনফল এখন নবাবগঞ্জে (ভিডিও)

  মশিহুর রহমান, বিরামপুর (দিনাজপুর)  

০১ মার্চ ২০২১, ১৭:২৭:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সৌদি আরবের জনপ্রিয় ত্বীনফল এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটি একটি নতুন ও অপরিচিত নাম।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে ত্বীনফলের তাৎপর্য নিয়ে। স্বাদে আর পুষ্টি-গুণে সমৃদ্ধ সেই ত্বীনফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছে নবাবগঞ্জের উদ্যোক্তা মতিউল মান্নান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

করোনাকালে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে বসে থাকেননি মতিউল মান্নান। ছোট বোন মনিরা আখতারের পরামর্শে গাজীপুর থেকে চারাগাছ সংগ্রহ করে বাগান করেন ত্বীনফলের। প্রতিটি চারাগাছ ৫২০ টাকা করে কিনে ১৩২ শতাংশ জমিতে ৯০০ চারাগাছ লাগান। বর্তমানে তার বিস্তীর্ণ বাগানে শোভা পাচ্ছে আরব দেশের জনপ্রিয় এই ত্বীনফল।

মতিউল মান্নান জানান- স্বাদে সুমিষ্ট, অত্যধিক সুস্বাদু এবং রসালো এই ত্বীনফল। চারাগাছ লাগানোর সময় থেকে ৩ মাসেই ফল ধরা শুরু করেছে। যার একেকটির ওজন হবে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত। আর ফল ধরে ৭০-৮০টির মত। পবিত্র কোরআনের আতত্বীন সূরায় বর্ণিত আছে ত্বীনফল ডায়াবেটিক, হাঁপানি, ক্যান্সারসহ নানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া জ্যাম, জেলি, পুডিন ও আচারেও ব্যবহার করা হয়।

ত্বীনফলে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, আইরন। ত্বীনফলের একেকটি গাছ ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত একটানা ফল দেয়। মরুভূমির গরম আবহাওয়ায় চাষ হলেও বাংলাদেশে আবহাওয়াতেও দেখা দিয়েছে এর উজ্জ্বল সম্ভাবনা।

মতিউল মান্নান জানান, আর কয়েক দিনের মধ্যে তিনি বাগান থেকে ত্বীনফল বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করবেন। ত্বীনফল প্রতি কেজি ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করেন উদ্যোক্তা মতিউল মান্নান ।

এদিকে সৌদি আরব ও বাংলাদেশে ত্বীনফল নামে ডাকলেও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, তুরস্ক, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্জির নামে খুবই পরিচিত। আর এর বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস ক্যারাইকা বলে জানান গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভেষজ গুণসমৃদ্ধ এই ত্বীনফল বহু রোগ-প্রতিরোধে ব্যবহার হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক উৎপাদনের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা। তাই বাংলাদেশের মধ্যে নবাবগঞ্জে দ্বিতীয় চাষ হওয়ায় মানুষদের উদ্বুদ্ধ করতে এ নিয়ে কাজ করছেন তারা।

আরবের ত্বীনফল এখন নবাবগঞ্জে (ভিডিও)

 মশিহুর রহমান, বিরামপুর (দিনাজপুর) 
০১ মার্চ ২০২১, ০৫:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সৌদি আরবের জনপ্রিয় ত্বীনফল এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটি একটি নতুন ও অপরিচিত নাম।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে ত্বীনফলের তাৎপর্য নিয়ে। স্বাদে আর পুষ্টি-গুণে সমৃদ্ধ সেই ত্বীনফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছে নবাবগঞ্জের উদ্যোক্তা মতিউল মান্নান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

করোনাকালে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে বসে থাকেননি মতিউল মান্নান। ছোট বোন মনিরা আখতারের পরামর্শে গাজীপুর থেকে চারাগাছ সংগ্রহ করে বাগান করেন ত্বীনফলের। প্রতিটি চারাগাছ ৫২০ টাকা করে কিনে ১৩২ শতাংশ জমিতে ৯০০ চারাগাছ লাগান। বর্তমানে তার বিস্তীর্ণ বাগানে শোভা পাচ্ছে আরব দেশের জনপ্রিয় এই ত্বীনফল।

মতিউল মান্নান জানান- স্বাদে সুমিষ্ট, অত্যধিক সুস্বাদু এবং রসালো এই ত্বীনফল। চারাগাছ লাগানোর সময় থেকে ৩ মাসেই ফল ধরা শুরু করেছে। যার একেকটির ওজন হবে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত। আর ফল ধরে ৭০-৮০টির মত। পবিত্র কোরআনের আতত্বীন সূরায় বর্ণিত আছে ত্বীনফল ডায়াবেটিক, হাঁপানি, ক্যান্সারসহ নানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া জ্যাম, জেলি, পুডিন ও আচারেও ব্যবহার করা হয়।

ত্বীনফলে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, আইরন। ত্বীনফলের একেকটি গাছ ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত একটানা ফল দেয়। মরুভূমির গরম আবহাওয়ায় চাষ হলেও বাংলাদেশে আবহাওয়াতেও দেখা দিয়েছে এর উজ্জ্বল সম্ভাবনা।

মতিউল মান্নান জানান, আর কয়েক দিনের মধ্যে তিনি বাগান থেকে ত্বীনফল বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করবেন। ত্বীনফল প্রতি কেজি ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করেন উদ্যোক্তা মতিউল মান্নান ।

এদিকে সৌদি আরব ও বাংলাদেশে ত্বীনফল নামে ডাকলেও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, তুরস্ক, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্জির নামে খুবই পরিচিত। আর এর বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস ক্যারাইকা বলে জানান গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভেষজ গুণসমৃদ্ধ এই ত্বীনফল বহু রোগ-প্রতিরোধে ব্যবহার হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক উৎপাদনের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা। তাই বাংলাদেশের মধ্যে নবাবগঞ্জে দ্বিতীয় চাষ হওয়ায় মানুষদের উদ্বুদ্ধ করতে এ নিয়ে কাজ করছেন তারা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন