আসবাবপত্র নিয়ে দলীয় কার্যালয় ছেড়ে দিলেন কাদের মির্জা
jugantor
আসবাবপত্র নিয়ে দলীয় কার্যালয় ছেড়ে দিলেন কাদের মির্জা

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

০১ মার্চ ২০২১, ২১:৩৫:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সব আসবাবপত্র গুটিয়ে নিয়ে ব্যক্তিগত অফিসে উঠেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসুরহাট রূপালী চত্বর সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সকল আসবাবপত্র গাড়িতে উঠিয়ে কয়েক গজ উত্তরে আলেয়া টাওয়ারের ৩য় ও ৪র্থ তলায় এবং পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যান মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যার পর মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, এটা কখনো দলীয় কার্যালয় ছিল না, এখানে একটি বীমা অফিস ছিল। আমি নিজ উদ্যোগে আসবাবপত্র সাজিয়ে সেখানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতাম। মাসে মাসে ঘর ভাড়াও পরিশোধ করতাম। ওই ঘরের মালিক বেশ কিছুদিন যাবত ঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য আমাকে বলে আসছিল। আওয়ামী লীগ নেতা খিজির হায়াতের ইন্ধনে ঘরের মালিককে দিয়ে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় ঘরটি ছেড়ে দেয়ার জন্য।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে দলীয় সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ আসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র ও নোয়াখালী জেলা থেকে। এ প্রেক্ষিতে ওই ঘরে থাকা আমার নিজস্ব আসবাবপত্র এবং একটি বীমা কোম্পানির মালামাল আমি সরিয়ে নেই। একই সময় ওই ঘরে তালা দিয়ে চাবি ঘরের মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য তার নিকটাত্মীয় হাসান ইমাম চৌধুরী বাদলের কাছে দিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত মালামালগুলো আলেয়া টাওয়ারে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে এসেছি।

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে কাদের মির্জা বলেন, অপরাজনীতির সঙ্গে আমি নেই। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস কোথায় হবে তা ওনারা জানেন।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান মোবাইল ফোনে জানান, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশে সোমবার সকালে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন বিষয়ক সভা হওয়ার কথা ছিল দলীয় ওই কার্যালয়ে। কিন্তু মেয়র আবদুল কাদের মির্জা কার্যালয়ের সব আসবাবপত্র নিয়ে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার কারণে সভাটি সেখানে করতে না পেরে সোমবারের সভাটি মঙ্গলবার সকালে চরকাঁকড়াস্থ আমার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে।

মেয়র আবদুল কাদের মির্জার দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত বলেন, দলীয় সভা যেন আমরা করতে না পারি, সেজন্য মেয়র কাদের মির্জা দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছেন।

মেয়র কাদের মির্জা ওই ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতেন দাবি করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত বলেন, চাঁদাও তিনি উঠাতেন, ভাড়াও তিনি পরিশোধ করতেন, দলীয় কার্যালয়ে তালাও তিনিই ঝুলিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী চৌধুরী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি কিছুই জানি না।

তবে তিনি দাবী করেন, ওই কার্যালয়ের সব আসবাবপত্র পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্সের কাছ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নামে ক্রয় করা। আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের দলীয় মালামাল ব্যক্তিগত ভাবে নিয়ে যেতে পারেন না।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বিগত দুই মাস যাবত দলের কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সমালোচনা করে আসছিলেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মেয়র কাদের মির্জা ও তার প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক মুজাক্কির খুন হবার ঘটনাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করে দেয়।

আসবাবপত্র নিয়ে দলীয় কার্যালয় ছেড়ে দিলেন কাদের মির্জা

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
০১ মার্চ ২০২১, ০৯:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সব আসবাবপত্র গুটিয়ে নিয়ে ব্যক্তিগত অফিসে উঠেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসুরহাট রূপালী চত্বর সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সকল আসবাবপত্র গাড়িতে উঠিয়ে কয়েক গজ উত্তরে আলেয়া টাওয়ারের ৩য় ও ৪র্থ তলায় এবং পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যান মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। 

এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যার পর মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, এটা কখনো দলীয় কার্যালয় ছিল না, এখানে একটি বীমা অফিস ছিল। আমি নিজ উদ্যোগে আসবাবপত্র সাজিয়ে সেখানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতাম। মাসে মাসে ঘর ভাড়াও পরিশোধ করতাম। ওই ঘরের মালিক বেশ কিছুদিন যাবত ঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য আমাকে বলে আসছিল। আওয়ামী লীগ নেতা খিজির হায়াতের ইন্ধনে ঘরের মালিককে দিয়ে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় ঘরটি ছেড়ে দেয়ার জন্য।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে দলীয় সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ আসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র ও নোয়াখালী জেলা থেকে। এ প্রেক্ষিতে ওই ঘরে থাকা আমার নিজস্ব আসবাবপত্র এবং একটি বীমা কোম্পানির মালামাল আমি সরিয়ে নেই। একই সময় ওই ঘরে তালা দিয়ে চাবি ঘরের মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য তার নিকটাত্মীয় হাসান ইমাম চৌধুরী বাদলের কাছে দিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত মালামালগুলো আলেয়া টাওয়ারে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে এসেছি।

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে কাদের মির্জা বলেন, অপরাজনীতির সঙ্গে আমি নেই। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস কোথায় হবে তা ওনারা জানেন। 

একই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান মোবাইল ফোনে জানান, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশে সোমবার সকালে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন বিষয়ক সভা হওয়ার কথা ছিল দলীয় ওই কার্যালয়ে। কিন্তু মেয়র আবদুল কাদের মির্জা কার্যালয়ের সব আসবাবপত্র নিয়ে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার কারণে সভাটি সেখানে করতে না পেরে সোমবারের সভাটি মঙ্গলবার সকালে চরকাঁকড়াস্থ আমার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে।

মেয়র আবদুল কাদের মির্জার দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত বলেন, দলীয় সভা যেন আমরা করতে না পারি, সেজন্য মেয়র কাদের মির্জা দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছেন।

মেয়র কাদের মির্জা ওই ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতেন দাবি করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত বলেন, চাঁদাও তিনি উঠাতেন, ভাড়াও তিনি পরিশোধ করতেন, দলীয় কার্যালয়ে তালাও তিনিই ঝুলিয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী চৌধুরী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি কিছুই জানি না।

তবে তিনি দাবী করেন, ওই কার্যালয়ের সব আসবাবপত্র পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্সের কাছ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নামে ক্রয় করা। আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের দলীয় মালামাল ব্যক্তিগত ভাবে নিয়ে যেতে পারেন না। 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বিগত দুই মাস যাবত দলের কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সমালোচনা করে আসছিলেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মেয়র কাদের মির্জা ও তার প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক মুজাক্কির খুন হবার ঘটনাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করে দেয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আবদুল কাদের মির্জা

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন