রাজশাহীতেও বন্ধ পরিবহন, যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করবে বিএনপি (ভিডিও)
jugantor
রাজশাহীতেও বন্ধ পরিবহন, যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করবে বিএনপি (ভিডিও)

  রাজশাহী ব্যুরো  

০১ মার্চ ২০২১, ২১:৪৭:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের সময় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন। তেমনি রাজশাহীতে বিভাগীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে সব রুটের পরিবহন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে উন্মুক্ত তিনটি স্থানের যে কোনো একটিতে যে কোনো মূল্যে বিভাগীয় সমাবেশ করার কথা ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার দুপুরে রাজশাহীর একটি কনভেনশান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ নগরীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন নাইস কনভেনশান হল নামের একটি কমিউনিটি হলে বিএনপি রাজশাহী বিভাগীয় বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে।

বিএনপির সমাবেশের আগেরদিন রাজশাহী থেকে বিভিন্ন আন্ত:জেলা রুটে আকস্মিকভাবে গণপরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বিএনপি বলছে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের চলাচল বন্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে পরিবহন বন্ধ করা হয়েছে।

বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রূহুল কুদ্দুশ তালুকদার দুলুসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ বক্তব্য তুলে ধরেন।

বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বিএনপি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাছে বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। পুলিশ নানা টালবাহানা করে একটি কমিউনিটি হলে সোমবার দুপুরে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে যা বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি পূর্ব পরিকল্পনা ও ঘোষণা অনুযায়ী নগরীর মনি চত্বর, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট অথবা গণকপাড়া এলাকায় সমাবেশ করবে। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাবেশ স্থলে বাধা দিলে প্রতিরোধ করা হবে।

মিনু আরও বলেন, বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেওয়া স্বৈরাচারী আচরণ ছাড়া আর কিছু নয়। এখনো রাজশাহী বিএনপির ঘাঁটি। হাজার হাজার নেতাকর্মী সব বাঁধা উপেক্ষা করে সমাবেশে যোগ দেবেন বলে ঘোষণা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রূহুল কুদ্দুশ তালুকদার দুলু বলেন, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ পণ্ড করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন আন্ত:জেলা রুটে গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে যাতে কেউ সমাবেশে অংশ নিতে না পারেন। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদেরকে বাস ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না বলে আমরা জানতে পেরেছি। স্বৈরাচারী কায়দায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার সব চেষ্টা সরকার নিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। একইসঙ্গে দ্রুত গণপরিবহন খুলে দেওয়ার দাবি করছি।

বিএনপি নেতা দুলু আরও বলেন, গণপরিবহণ বন্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি পূর্বঘোষিত তিনটি স্থানের যে কোনো একটি স্থানে যে কোনো মূল্যে বিভাগীয় সমাবেশ করবে। বাধা দেওয়া হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা উপেক্ষা করেই সমাবেশস্থলে হাজির হবেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ছাড়াও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এডিসি গোলাম রূহুল কুদ্দুশ যুগান্তরকে জানিয়েছেন শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই বিএনপিকে মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন নাইস কনভেনশান হলে বিভাগীয় সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছেন। উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ হলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় অনুমতি দিতে পারেনি পুলিশ।

এডিসি রুহুল কুদ্দুশ আরও বলেন, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই তাদের বিভাগীয় সমাবেশের নতুন এই ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ সামর্থ্যানুযায়ী বিভাগীয় সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন বলেও জানিয়েছেন আরএমপির মুখপাত্র।

অন্যদিকে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের একদিন আগে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন আন্ত:জেলা রুটে পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন বাস সার্ভিস বন্ধ রাখেন। ফলে দুর গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনাল বা নির্ধারিত স্থানে এসে সাধারণ মানুষ দেখতে পান বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে তাদেরকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অনেক যাত্রীকে কাছের গন্তব্যগুলিতে যেতে অটো রিকসা ভাড়া করে যেতে দেখা গেছে। দুর গন্তব্যের যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত বাস না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে গণপরিবহন বন্ধ নিয়ে বাস মালিক ও মোটর শ্রমিক নেতারা পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেছেন, মঙ্গলবার বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ও জানমালের ক্ষতির সমূহ আশঙ্কা থেকেই তারা একদিন আগে পরিবহন সেবা বন্ধ করে দিয়েছেন। সমাবেশের আগে ও পরে হামলা পাল্টা হামলার মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বাস যানবাহন ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটে আগে। এ কারণে তারা ঝুঁকি নিচ্ছেন না। বাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এতে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাতাব হোসেন বলেছেন, সম্প্রতি বগুড়ায় তাদের শ্রমিকরা হামলার শিকার হয়েছেন। এর প্রতিবাদে তারা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। রাজশাহীর সঙ্গে বিভাগের আট জেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মোটর শ্রমিক নেতারা।

এর আগে শনিবার খুলনা বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। খুলনার সঙ্গে ১৮টি সড়কে হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিক সমিতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জেও বাস চলাচল বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিক সমিতি। তবে কি কারণে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই জানায়নি জেলা বাস মালিক সমিতি এবং স্থানীয় প্রশাসন।

তবে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে মূলত প্রশাসনের অঘোষিত নির্দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রবেশদ্বার বিশ্বরোড মোড়ে পুলিশকে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। এমনকি বিআরটিসি বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এতে গন্তব্যস্থলে যেতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে যাত্রী সাধারণকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আজ ভোর থেকে যথারীতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃজেলা সার্ভিসের বেশ কিছু বাস ছেড়ে গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় সব রুটে বাস চলাচল। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা, মিশুক, সিএনজিতে করে যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে যেতে দেখা গেছে। তবে এসব থ্রি হুইলার গুলোকেও চলাচলে বাধা দিতে দেখা গেছে।

সকাল ৮ টার দিকে শহরের বিশ্বরোড মোড়ে চেক পোস্ট বসায় পুলিশ। এরপরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বাস চলাচল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, পুলিশের বাধায় বাস চলাচল বন্ধ হয়নি। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতই চেকপোস্ট বসিয়েছে। যানবাহন চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয়।

বাস চলাচল বন্ধের কোনো কারণ উল্লেখ না করে জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএফএম লুৎফর রহমান ফিরোজ জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

রাজশাহীতেও বন্ধ পরিবহন, যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করবে বিএনপি (ভিডিও)

 রাজশাহী ব্যুরো 
০১ মার্চ ২০২১, ০৯:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের সময় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন। তেমনি রাজশাহীতে বিভাগীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে সব রুটের পরিবহন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে উন্মুক্ত তিনটি স্থানের যে কোনো একটিতে যে কোনো মূল্যে বিভাগীয় সমাবেশ করার কথা ঘোষণা করেছে বিএনপি।  সোমবার দুপুরে রাজশাহীর একটি কনভেনশান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ নগরীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন নাইস কনভেনশান হল নামের একটি কমিউনিটি হলে বিএনপি রাজশাহী বিভাগীয় বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে।

বিএনপির সমাবেশের আগেরদিন রাজশাহী থেকে বিভিন্ন আন্ত:জেলা রুটে আকস্মিকভাবে গণপরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বিএনপি বলছে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের চলাচল বন্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে পরিবহন বন্ধ করা হয়েছে।

বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রূহুল কুদ্দুশ তালুকদার দুলুসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ বক্তব্য তুলে ধরেন।

বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বিএনপি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাছে বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। পুলিশ নানা টালবাহানা করে একটি কমিউনিটি হলে সোমবার দুপুরে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে যা বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি পূর্ব পরিকল্পনা ও ঘোষণা অনুযায়ী নগরীর মনি চত্বর, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট অথবা গণকপাড়া এলাকায় সমাবেশ করবে। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাবেশ স্থলে বাধা দিলে প্রতিরোধ করা হবে।

মিনু আরও বলেন, বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেওয়া স্বৈরাচারী আচরণ ছাড়া আর কিছু নয়। এখনো রাজশাহী বিএনপির ঘাঁটি। হাজার হাজার নেতাকর্মী সব বাঁধা উপেক্ষা করে সমাবেশে যোগ দেবেন বলে ঘোষণা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রূহুল কুদ্দুশ তালুকদার দুলু বলেন, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ পণ্ড করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন আন্ত:জেলা রুটে গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে যাতে কেউ সমাবেশে অংশ নিতে না পারেন। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদেরকে বাস ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না বলে আমরা জানতে পেরেছি। স্বৈরাচারী কায়দায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার সব চেষ্টা সরকার নিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। একইসঙ্গে দ্রুত গণপরিবহন খুলে দেওয়ার দাবি করছি।

বিএনপি নেতা দুলু আরও বলেন, গণপরিবহণ বন্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি পূর্বঘোষিত তিনটি স্থানের যে কোনো একটি স্থানে যে কোনো মূল্যে বিভাগীয় সমাবেশ করবে। বাধা দেওয়া হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা উপেক্ষা করেই সমাবেশস্থলে হাজির হবেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ছাড়াও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এডিসি গোলাম রূহুল কুদ্দুশ যুগান্তরকে জানিয়েছেন শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই বিএনপিকে মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন নাইস কনভেনশান হলে বিভাগীয় সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছেন। উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ হলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় অনুমতি দিতে পারেনি পুলিশ।

এডিসি রুহুল কুদ্দুশ আরও বলেন, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই তাদের বিভাগীয় সমাবেশের নতুন এই ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ সামর্থ্যানুযায়ী বিভাগীয় সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন বলেও জানিয়েছেন আরএমপির মুখপাত্র।

অন্যদিকে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের একদিন আগে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন আন্ত:জেলা রুটে পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই কোনো  প্রকার ঘোষণা ছাড়াই মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন বাস সার্ভিস বন্ধ রাখেন। ফলে দুর গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনাল বা নির্ধারিত স্থানে এসে সাধারণ মানুষ দেখতে পান বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে তাদেরকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অনেক যাত্রীকে কাছের গন্তব্যগুলিতে যেতে অটো রিকসা ভাড়া করে যেতে দেখা গেছে। দুর গন্তব্যের যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত বাস না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে গণপরিবহন বন্ধ নিয়ে বাস মালিক ও মোটর শ্রমিক নেতারা পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেছেন, মঙ্গলবার বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ও জানমালের ক্ষতির সমূহ আশঙ্কা থেকেই তারা একদিন আগে পরিবহন সেবা বন্ধ করে দিয়েছেন। সমাবেশের আগে ও পরে হামলা পাল্টা হামলার মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বাস যানবাহন ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটে আগে। এ কারণে তারা ঝুঁকি নিচ্ছেন না। বাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এতে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাতাব হোসেন বলেছেন, সম্প্রতি বগুড়ায় তাদের শ্রমিকরা হামলার শিকার হয়েছেন। এর প্রতিবাদে তারা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। রাজশাহীর সঙ্গে বিভাগের আট জেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মোটর শ্রমিক নেতারা।

এর আগে শনিবার খুলনা বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। খুলনার সঙ্গে ১৮টি সড়কে হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিক সমিতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জেও বাস চলাচল বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিক সমিতি। তবে কি কারণে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই জানায়নি জেলা বাস মালিক সমিতি এবং স্থানীয় প্রশাসন।

তবে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে মূলত প্রশাসনের অঘোষিত নির্দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রবেশদ্বার বিশ্বরোড মোড়ে পুলিশকে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। এমনকি বিআরটিসি বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এতে গন্তব্যস্থলে যেতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে যাত্রী সাধারণকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আজ ভোর থেকে যথারীতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃজেলা সার্ভিসের বেশ কিছু বাস ছেড়ে গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় সব রুটে বাস চলাচল। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা, মিশুক, সিএনজিতে করে যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে যেতে দেখা গেছে। তবে এসব থ্রি হুইলার গুলোকেও চলাচলে বাধা দিতে দেখা গেছে।

সকাল ৮ টার দিকে শহরের বিশ্বরোড মোড়ে চেক পোস্ট বসায় পুলিশ। এরপরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বাস চলাচল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, পুলিশের বাধায় বাস চলাচল বন্ধ হয়নি।  নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতই চেকপোস্ট বসিয়েছে। যানবাহন চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয়।

বাস চলাচল বন্ধের কোনো কারণ উল্লেখ না করে জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএফএম লুৎফর রহমান ফিরোজ জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন