নীলফামারীতে কলেজছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
jugantor
নীলফামারীতে কলেজছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

  রংপুর ব্যুরো ও নীলফামারী প্রতিনিধি  

০২ মার্চ ২০২১, ০২:০৭:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রুবাইয়া ইয়াসমিন

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রংপুর কারমাইকেল কলেজছাত্রী রুবাইয়া ইয়াসমিন রিমুকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে নীলফামারীর জলঢাকা থানায় মামলা করা হয়েছে। নিহত ছাত্রীর বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওই মামলা করেন।

মামলায় ফয়সাল আহমেদ ও রিজভী হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। নিহত রিমু কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ও নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের মানুষমারা গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে।

ওই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে ফয়সালের বন্ধু রিজভী হোসেন জানিয়েছেন, রিমুর সঙ্গে ফয়সালের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার ছিল ফয়সালের জন্মদিন। সেজন্য রিমুকে নিয়ে তাদের দুজনের ডালিয়া ব্যারেজে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল।

সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে জলঢাকার পৌর শহরের রাজারহাটে ইট বোঝাই ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনই আহত হন। সে সময় মোবাইল ফোনে সকাল সাড়ে ৯টায় তাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ফয়সাল অনুরোধ করে। পরে প্রথমে রিমুকে চিকিৎসার জন্য জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। রিমুর বাবার মামলার বর্ণনায় ইট বোঝাই ট্রলির সামনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ট্রলির সঙ্গে দুর্ঘটনা পরিকল্পিত কিছু নয়।

কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রউফ চৌধুরী বলেন, আমি স্থানীয়দের কাছে শুনেছি মেয়েটির সঙ্গে ফয়সালের বন্ধুত্ব ছিল। তারা দুজনেই মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত হলে মেয়েটি মারা যায়। পারিবারিকভাবে তারা সবাই পরিচিত।

ফয়সালের বাবা আবদুল্লাহ মিয়া বলেন, মোটরসাইকেলে রিমুসহ দুর্ঘটনার পর তার ছেলে চিকিৎসাধীন আছে। অপহরণের প্রশ্নই ওঠে না। তারা দুজনই বাল্যকালের বন্ধু। তারা বর্তমান ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়লেও তাদের সম্পর্ক মধুর ছিল। দুজন বেড়াতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনায় পড়ে।
দক্ষিণ কচুকাটা বর্মতল গ্রামের আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে ফয়সাল আহমেদ, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ও জাহিদুল হোসেন মাস্টারের ছেলে রিজভী হোসেনকে দায়ী করেছেন নিহতের পরিবারের লোকজন। অভিযুক্ত দুজনই ওই শিক্ষার্থীর নিকটতম প্রতিবেশী।

নিহতের স্বজনরা জানান, রিমু নিজ বাড়িতে থেকে পাশের টেংগনমারী বাজারে প্রাইভেট পড়তে যেত। সেখানে যাতায়াতের সময় রিমুকে প্রতিদিন উত্ত্যক্ত করতেন স্থানীয় দক্ষিণ কচুকাটা বর্মতল গ্রামের ফয়সাল। ঘটনাটি রিমু তার বাবা ও বড়ভাইকে জানালে বড়ভাই ফয়সালকে মারধর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিমুকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে ফয়সাল।

সোমবার সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ফয়সাল ও রিজভী জোর করে রিমুকে তাদের মোটরসাইকেলে তুলে জলঢাকা উপজেলার রাজারহাটে নিয়ে যায়। পরে হাটের অদূরে একটি ফাঁকা ব্রিজের কাছে চলন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটকে রিমুকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য করেন।

পরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে রিমুর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই দিন দুপুরে রিমুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রিমুর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় ওই দুই যুবক।

রিমুর বাবা আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমার মেয়েকে প্রতিদিনই ফয়সাল ও রিজভী উত্ত্যক্ত করত। তাদের শাসন করায় ক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে রিমুকে হত্যা করেছে তারা।

রিমুর মা লিলি আখতার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফয়সাল ও রিজভী তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি ফয়সালের পরিবারকে জানালে রিমুর ভাইয়ের সঙ্গে ফয়সালের ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে সোমবার ফয়সাল আমার মেয়েকে রাস্তা থেকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা পরিকল্পিতভাবে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিমুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। মেয়ে হত্যার বিচার চাই আমি।

জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশের ময়নাতদন্তসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার তার লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রিমুর লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়া দুই যুবকের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুর্ঘটনায় আহত বলে লেখা ছিল।

নীলফামারীতে কলেজছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

 রংপুর ব্যুরো ও নীলফামারী প্রতিনিধি 
০২ মার্চ ২০২১, ০২:০৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রুবাইয়া ইয়াসমিন
রুবাইয়া ইয়াসমিন। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রংপুর কারমাইকেল কলেজছাত্রী রুবাইয়া ইয়াসমিন রিমুকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে নীলফামারীর জলঢাকা থানায় মামলা করা হয়েছে। নিহত ছাত্রীর বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওই মামলা করেন। 

মামলায় ফয়সাল আহমেদ ও রিজভী হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। নিহত রিমু কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ও নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের মানুষমারা গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে।

ওই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে ফয়সালের বন্ধু রিজভী হোসেন জানিয়েছেন, রিমুর সঙ্গে ফয়সালের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার ছিল ফয়সালের জন্মদিন। সেজন্য রিমুকে নিয়ে তাদের দুজনের ডালিয়া ব্যারেজে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। 

সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে জলঢাকার পৌর শহরের রাজারহাটে ইট বোঝাই ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনই আহত হন। সে সময় মোবাইল ফোনে সকাল সাড়ে ৯টায় তাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ফয়সাল অনুরোধ করে। পরে প্রথমে রিমুকে চিকিৎসার জন্য জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। 

সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। রিমুর বাবার মামলার বর্ণনায় ইট বোঝাই ট্রলির সামনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ট্রলির সঙ্গে দুর্ঘটনা পরিকল্পিত কিছু নয়।

কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রউফ চৌধুরী বলেন, আমি স্থানীয়দের কাছে শুনেছি মেয়েটির সঙ্গে ফয়সালের বন্ধুত্ব ছিল। তারা দুজনেই মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত হলে মেয়েটি মারা যায়। পারিবারিকভাবে তারা সবাই পরিচিত।

ফয়সালের বাবা আবদুল্লাহ মিয়া বলেন, মোটরসাইকেলে রিমুসহ দুর্ঘটনার পর তার ছেলে চিকিৎসাধীন আছে। অপহরণের প্রশ্নই ওঠে না। তারা দুজনই বাল্যকালের বন্ধু। তারা বর্তমান ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়লেও তাদের সম্পর্ক মধুর ছিল। দুজন বেড়াতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনায় পড়ে। 
দক্ষিণ কচুকাটা বর্মতল গ্রামের আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে ফয়সাল আহমেদ, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ও জাহিদুল হোসেন মাস্টারের ছেলে রিজভী হোসেনকে দায়ী করেছেন নিহতের পরিবারের লোকজন। অভিযুক্ত দুজনই ওই শিক্ষার্থীর নিকটতম প্রতিবেশী। 

নিহতের স্বজনরা জানান, রিমু নিজ বাড়িতে থেকে পাশের টেংগনমারী বাজারে প্রাইভেট পড়তে যেত। সেখানে যাতায়াতের সময় রিমুকে প্রতিদিন উত্ত্যক্ত করতেন স্থানীয় দক্ষিণ কচুকাটা বর্মতল গ্রামের ফয়সাল। ঘটনাটি রিমু তার বাবা ও বড়ভাইকে জানালে বড়ভাই ফয়সালকে মারধর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিমুকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে ফয়সাল। 

সোমবার সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ফয়সাল ও রিজভী জোর করে রিমুকে তাদের মোটরসাইকেলে তুলে জলঢাকা উপজেলার রাজারহাটে নিয়ে যায়। পরে হাটের অদূরে একটি ফাঁকা ব্রিজের কাছে চলন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটকে রিমুকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য করেন।

পরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে রিমুর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই দিন দুপুরে রিমুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রিমুর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় ওই দুই যুবক। 

রিমুর বাবা আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমার মেয়েকে প্রতিদিনই ফয়সাল ও রিজভী উত্ত্যক্ত করত। তাদের শাসন করায় ক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে রিমুকে হত্যা করেছে তারা।

রিমুর মা লিলি আখতার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফয়সাল ও রিজভী তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি ফয়সালের পরিবারকে জানালে রিমুর ভাইয়ের সঙ্গে ফয়সালের ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে সোমবার ফয়সাল আমার মেয়েকে রাস্তা থেকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা পরিকল্পিতভাবে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিমুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। মেয়ে হত্যার বিচার চাই আমি।

জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশের ময়নাতদন্তসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার তার লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রিমুর লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়া দুই যুবকের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুর্ঘটনায় আহত বলে লেখা ছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন