বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০ টাকায় প্রাইভেট পড়ান ৮০ বছরের ফখরুল
jugantor
বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০ টাকায় প্রাইভেট পড়ান ৮০ বছরের ফখরুল

  মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি  

০২ মার্চ ২০২১, ২২:০৭:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে ফখরুল আলম নামের এক বৃদ্ধ প্রতিদিন মাত্র ২০ টাকায় পড়ান। তার বয়স ৮০ বছর। তিনি এ বয়সে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে বাইসাইকেল চালিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রইভেট পড়ান।

কারণ এখনও সংসারের ভার তার কাঁধে। তাই জীবিকার জন্য এ বয়সে প্রইভেট পড়ান। স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই হার্টের রোগী। মাঝে-মধ্যেই নিজেকে এবং সহধর্মিণীকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।

সংসারের খরচ এবং ওষুধ কিনতে গিয়ে এমনিতেই তার হিমশিম খেতে হয়। এরপর আবার ছোট তিন ছেলে এবং এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ তাকেই দিতে দিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাকে ছুটতে হয় উপজেলার এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতে।

ফখরুলের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে।

জানা যায়, ফখরুল আলম দীর্ঘদিন ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। চাকরি ছেড়ে বাড়িতে আসার পর সমাজের ঝরেপড়া শিশুদের প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন তিনি। প্রাইভেট পড়ানোর সময় মিশে যান ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে। প্রতিটি শিশুকে তিনি মন থেকে ভালোবাসেন। তাদের মন জয় করে পড়ার মনোযোগ আকর্ষণ করেন। এজন্য তিনি এলাকায় অনেক সুনাম অর্জন করেছেন।

বৃদ্ধ ফখরুল বলেন, কোম্পানির লোকজন গিভ অ্যান্ড টেক ছাড়া কিছুই বোঝে না। তারা আমাদের কষ্ট বোঝে না। বাচ্চাদের মধ্যে এত পাপ স্পর্শ করে নাই। তারা কোনো রাজনীতি বোঝে না। তাদের মধ্যে গিভ অ্যান্ড টেক নেই। তাই বাচ্চাদের পড়াই এবং তাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করি। যারা টাকা দিতে পারে না তাদের ফ্রি পড়াই। আবার অনেকের কাছ থেকে ২০ টাকার কমও নিই।

তিনি আরও বলেন, তবে এখন আমার বয়স হয়েছে। তিন ছেলে ও এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। তারা যার যার সংসার করছে। মেজো ছেলে কিছু টাকা দেয় তা দিয়ে আমার ওষুধই হতে চায় না। বাধ্য হয়ে জীবিকার জন্য এখনও বিভিন্ন গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়াই।

সেলিনা বেগম নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলেমেয়েকে তার কাছে পড়াই। তার পড়ানো ভালো। আগে ছেলেমেয়েরা রিডিং পড়তে পারত না। এখন রিডিং পড়তে পারে। অংকও শিখেছে। তাই তার কাছে পড়াই।

আরেক অভিভাবক শাহাজান মিয়া বলেন, বাইসাইকেলের সামনে লেখা ২০ টাকাই পড়াতে চাই দেখে আমার মেয়েকে পড়াতে বলেছিলাম। যেদিন তিনি পড়াবেন সেদিন ২০ টাকা দিতে হবে। যেদিন পড়াবেন না সেদিন আর টাকা দেওয়া লাগবে না। তবে তিনি যাকে পড়ান নিয়মিত পড়ান। যেদিন যেতে পারবেন না তার আগের দিন অভিভাবককে বলে আসেন।

বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পান্নু মোল্যা জানান, ফখরুল স্যার আমাদের খুবই শ্রদ্ধার একজন মানুষ; এলাকাবাসী তাকে অনেক সম্মান করেন। তিনি অনেক ছাত্রছাত্রীকে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। তার অনেক ছাত্রছাত্রী এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মরত আছেন। তার যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করব এবং সব সময় তার পাশে থাকব।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০ টাকায় প্রাইভেট পড়ান ৮০ বছরের ফখরুল

 মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
০২ মার্চ ২০২১, ১০:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে ফখরুল আলম নামের এক বৃদ্ধ প্রতিদিন মাত্র ২০ টাকায় পড়ান। তার বয়স ৮০ বছর। তিনি এ বয়সে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে বাইসাইকেল চালিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রইভেট পড়ান।

কারণ এখনও সংসারের ভার তার কাঁধে। তাই জীবিকার জন্য এ বয়সে প্রইভেট পড়ান। স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই হার্টের রোগী। মাঝে-মধ্যেই নিজেকে এবং সহধর্মিণীকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।

সংসারের খরচ এবং ওষুধ কিনতে গিয়ে এমনিতেই তার হিমশিম খেতে হয়। এরপর আবার ছোট তিন ছেলে এবং এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ তাকেই দিতে দিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাকে ছুটতে হয় উপজেলার এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতে।

ফখরুলের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে।

জানা যায়, ফখরুল আলম দীর্ঘদিন ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। চাকরি ছেড়ে বাড়িতে আসার পর সমাজের ঝরেপড়া শিশুদের প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন তিনি। প্রাইভেট পড়ানোর সময় মিশে যান ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে। প্রতিটি শিশুকে তিনি মন থেকে ভালোবাসেন। তাদের মন জয় করে পড়ার মনোযোগ আকর্ষণ করেন। এজন্য তিনি এলাকায় অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। 

বৃদ্ধ ফখরুল বলেন, কোম্পানির লোকজন গিভ অ্যান্ড টেক ছাড়া কিছুই বোঝে না। তারা আমাদের কষ্ট বোঝে না। বাচ্চাদের মধ্যে এত পাপ স্পর্শ করে নাই। তারা কোনো রাজনীতি বোঝে না। তাদের মধ্যে গিভ অ্যান্ড টেক নেই। তাই বাচ্চাদের পড়াই এবং তাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করি। যারা টাকা দিতে পারে না তাদের ফ্রি পড়াই। আবার অনেকের কাছ থেকে ২০ টাকার কমও নিই। 

তিনি আরও বলেন, তবে এখন আমার বয়স হয়েছে। তিন ছেলে ও এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। তারা যার যার সংসার করছে। মেজো ছেলে কিছু টাকা দেয় তা দিয়ে আমার ওষুধই হতে চায় না। বাধ্য হয়ে জীবিকার জন্য এখনও বিভিন্ন গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়াই।

সেলিনা বেগম নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলেমেয়েকে তার কাছে পড়াই। তার পড়ানো ভালো। আগে ছেলেমেয়েরা রিডিং পড়তে পারত না। এখন রিডিং পড়তে পারে। অংকও শিখেছে। তাই তার কাছে পড়াই।

আরেক অভিভাবক শাহাজান মিয়া বলেন, বাইসাইকেলের সামনে লেখা ২০ টাকাই পড়াতে চাই দেখে আমার মেয়েকে পড়াতে বলেছিলাম। যেদিন তিনি পড়াবেন সেদিন ২০ টাকা দিতে হবে। যেদিন পড়াবেন না সেদিন আর টাকা দেওয়া লাগবে না। তবে তিনি যাকে পড়ান নিয়মিত পড়ান। যেদিন যেতে পারবেন না তার আগের দিন অভিভাবককে বলে আসেন।

বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পান্নু মোল্যা জানান, ফখরুল স্যার আমাদের খুবই শ্রদ্ধার একজন মানুষ; এলাকাবাসী তাকে অনেক সম্মান করেন। তিনি অনেক ছাত্রছাত্রীকে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। তার অনেক ছাত্রছাত্রী এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মরত আছেন। তার যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করব এবং সব সময় তার পাশে থাকব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন