৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের মামলা প্রত্যাহার দাবি
jugantor
৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের মামলা প্রত্যাহার দাবি

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  

০২ মার্চ ২০২১, ২২:৪৯:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জে চার সাংবাদিকসহ সারা দেশের সব গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপরে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা এ সভায় অংশ নেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলমের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ। সাংবাদিকদের এ প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতেই প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদল, রাজু আহমেদ, মাহামুদ হাসান কচি ও সিফাত আল রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি আইন) মামলা দেয়া হয়েছে। একই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এসব মামলায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শুধুমাত্র সত্য তুলে ধরার কারণে হয়রানি করতেই এই চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এসব মামলা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর ভাই আলী রেজা রিপন। আমরা চাই এসব মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

সভায় প্রধান অতিথি ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ বলেন, যাদের বিরুদ্ধে এ মামলাগুলো করা হয়েছে তাদের একজন এই জেলার একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ সাংবাদিক নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান বাদল, দৈনিক যুগান্তর ও ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক ও নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ সিফাত আল রহমান লিংকন এবং নারায়ণগঞ্জ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান কচি।

এই গণমাধ্যম কর্মীরা নিজ নিজ কর্ম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নেপথ্য কারণ হতে পারে অন্য গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি একটি মেসেজ, সেটি হলো সত্য লেখা যাবে না। শুধু নারায়ণগঞ্জই নয়, পুরো দেশেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা চাই এ আইনটি ধীরে ধীরে গণমাধ্যমের জন্য কালো আইনে রূপান্তরিত হোক। এ আইন বাতিল করা হোক কিংবা আইনের সংশোধন করা হোক, বিশেষ করে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর যেন এ আইন খড়গে পরিণত না হয়।

প্রতিবাদ সভার সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম বলেন, পূর্বে তথ্য ও প্রযুক্তি আইন নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হলো। আমরা আইনের বিরুদ্ধে নয়, আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। সংবিধানে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেই স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে। সংবিধান ও ৩২ ধারা সাংঘর্ষিক। এ আইন দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকবচ হিসেবে দুর্নীতি করার জন্য উৎসাহ জোগাচ্ছে। এ আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার অথবা অসঙ্গতিগুলো সংশোধনের দাবি জানাই।

প্রতিবাদ সভায় জেলার বন্দর, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা প্রেস ক্লাব, সিটি প্রেস ক্লাব নেতাসহ উপস্থিত ছিলেন- দিলীপ কুমার মণ্ডল, বিল্লাল হোসেন রবিন, রোমান চৌধুরী সুমনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের মামলা প্রত্যাহার দাবি

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
০২ মার্চ ২০২১, ১০:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জে চার সাংবাদিকসহ সারা দেশের সব গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপরে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা এ সভায় অংশ নেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলমের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ। সাংবাদিকদের এ প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতেই প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদল, রাজু আহমেদ, মাহামুদ হাসান কচি ও সিফাত আল রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি আইন) মামলা দেয়া হয়েছে। একই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এসব মামলায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শুধুমাত্র সত্য তুলে ধরার কারণে হয়রানি করতেই এই চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এসব মামলা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর ভাই আলী রেজা রিপন। আমরা চাই এসব মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

সভায় প্রধান অতিথি ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ বলেন, যাদের বিরুদ্ধে এ মামলাগুলো করা হয়েছে তাদের একজন এই জেলার একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ সাংবাদিক নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান বাদল, দৈনিক যুগান্তর ও ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক ও নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ সিফাত আল রহমান লিংকন এবং নারায়ণগঞ্জ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান কচি।

এই গণমাধ্যম কর্মীরা নিজ নিজ কর্ম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নেপথ্য কারণ হতে পারে অন্য গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি একটি মেসেজ, সেটি হলো সত্য লেখা যাবে না। শুধু নারায়ণগঞ্জই নয়, পুরো দেশেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা চাই এ আইনটি ধীরে ধীরে গণমাধ্যমের জন্য কালো আইনে রূপান্তরিত হোক। এ আইন বাতিল করা হোক কিংবা আইনের সংশোধন করা হোক, বিশেষ করে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর যেন এ আইন খড়গে পরিণত না হয়।

প্রতিবাদ সভার সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম বলেন, পূর্বে তথ্য ও প্রযুক্তি আইন নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হলো। আমরা আইনের বিরুদ্ধে নয়, আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। সংবিধানে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেই স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে। সংবিধান ও ৩২ ধারা সাংঘর্ষিক। এ আইন দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকবচ হিসেবে দুর্নীতি করার জন্য উৎসাহ জোগাচ্ছে। এ আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার অথবা অসঙ্গতিগুলো সংশোধনের দাবি জানাই।

প্রতিবাদ সভায় জেলার বন্দর, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা প্রেস ক্লাব, সিটি প্রেস ক্লাব নেতাসহ উপস্থিত ছিলেন- দিলীপ কুমার মণ্ডল, বিল্লাল হোসেন রবিন, রোমান চৌধুরী সুমনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন