ধর্ষণ মামলার আসামির আত্মহত্যা
jugantor
ধর্ষণ মামলার আসামির আত্মহত্যা

  যশোর ব্যুরো  

০২ মার্চ ২০২১, ২২:৫৫:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোরের চৌগাছায় গৃহবধূকে (২৫) ধর্ষণ মামলার আসামি মিজানুর রহমান (৫৫) কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের মাঠে গিয়ে তিনি কীটনাশক পান করেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার (ওয়াশ করা) পর তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহে তার মৃত্যু হয়।

মৃত মিজানুর রহমান চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামের বাসিন্দা। আত্মহত্যার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন স্থানীয় নারায়ণপুর ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও ইউসুফ আলী।

এ প্রসঙ্গে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, মিজানুর রহমান ধর্ষণ মামলার আসামি। কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন শুনেছি। ঝিনাইদহ জেলা হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অফিসিয়ালি এখনো সুরতহাল রিপোর্ট হাতে পাইনি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলার এজহারে ওই গৃহবধূ দাবি করেন, একই গ্রামে আমাদের বসত বাড়ির পশ্চিম দিকে বিবাদী মিজানুর রহমানের বাড়ি। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমি মোবাইল ফোনে সমিতির কিস্তি দেয়ার জন্য ১ হাজার টাকা ধার চাইলে কিছুক্ষণ পরে দিবে বলে জানায়। সকাল অনুমান ১০.১৫ মিনিটে মিজানুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে টাকা নেয়ার জন্য তার বাড়িতে ডাকে।

তিনি বলেন, আমি সরল বিশ্বাসে তার বাড়িতে গেলে আমাকে ঘরের মধ্যে ডেকে অনেক টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

তিনি আরও বলেন, এ সময় আমার ডাক-চিৎকারে তার স্ত্রী মনিবালা বেগম (৪৫) ও মিজানুরের ভাইয়ের ছেলে তারিফ (২০) এসে ধাক্কা দিয়া দরজা খুলে ঘটনা দেখে ফেলে। এ সময় তারা আমাকে দোষারোপ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং পরবর্তীতে লোকজন এলে তারা আমাকে চুরির অপবাদ দিতে থাকে। আমি লোকলজ্জা ও ভয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি কাউকে বলতে পারিনি।

ওই নারী বলেন, এ সময় বিবাদী মিজানুর রহমান কৌশলে ওই স্থান হতে পালিয়ে যায়। আমার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এসে বিষয়টি শোনে। বিবাদীরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন। আমার মা ও স্বামী কাজে থেকে বাড়িতে এলে তাদের বিস্তারিত বলি। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সাথে আলোচনা করে থানায় মামলা করলাম।

এ ঘটনার পর ওই নারীর স্বামী তাকে আর বাড়িতে উঠতে দেননি। পরে তিনি বাবার বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নিয়ে মাকে সঙ্গে করে চৌগাছা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রয়োজনে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

ধর্ষণ মামলার আসামির আত্মহত্যা

 যশোর ব্যুরো 
০২ মার্চ ২০২১, ১০:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোরের চৌগাছায় গৃহবধূকে (২৫) ধর্ষণ মামলার আসামি মিজানুর রহমান (৫৫) কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের মাঠে গিয়ে তিনি কীটনাশক পান করেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার (ওয়াশ করা) পর তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহে তার মৃত্যু হয়।

মৃত মিজানুর রহমান চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামের বাসিন্দা। আত্মহত্যার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন স্থানীয় নারায়ণপুর ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও ইউসুফ আলী।

এ প্রসঙ্গে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, মিজানুর রহমান ধর্ষণ মামলার আসামি। কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন শুনেছি। ঝিনাইদহ জেলা হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অফিসিয়ালি এখনো সুরতহাল রিপোর্ট হাতে পাইনি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলার এজহারে ওই গৃহবধূ দাবি করেন, একই গ্রামে আমাদের বসত বাড়ির পশ্চিম দিকে বিবাদী মিজানুর রহমানের বাড়ি। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমি মোবাইল ফোনে সমিতির কিস্তি দেয়ার জন্য ১ হাজার টাকা ধার চাইলে কিছুক্ষণ পরে দিবে বলে জানায়। সকাল অনুমান ১০.১৫ মিনিটে মিজানুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে টাকা নেয়ার জন্য তার বাড়িতে ডাকে।

তিনি বলেন, আমি সরল বিশ্বাসে তার বাড়িতে গেলে আমাকে ঘরের মধ্যে ডেকে অনেক টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

তিনি আরও বলেন, এ সময় আমার ডাক-চিৎকারে তার স্ত্রী মনিবালা বেগম (৪৫) ও মিজানুরের ভাইয়ের ছেলে তারিফ (২০) এসে ধাক্কা দিয়া দরজা খুলে ঘটনা দেখে ফেলে। এ সময় তারা আমাকে দোষারোপ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং পরবর্তীতে লোকজন এলে তারা আমাকে চুরির অপবাদ দিতে থাকে। আমি লোকলজ্জা ও ভয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি কাউকে বলতে পারিনি।

ওই নারী বলেন, এ সময় বিবাদী মিজানুর রহমান কৌশলে ওই স্থান হতে পালিয়ে যায়। আমার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এসে বিষয়টি শোনে। বিবাদীরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন। আমার মা ও স্বামী কাজে থেকে বাড়িতে এলে তাদের বিস্তারিত বলি। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সাথে আলোচনা করে থানায় মামলা করলাম।

এ ঘটনার পর ওই নারীর স্বামী তাকে আর বাড়িতে উঠতে দেননি। পরে তিনি বাবার বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নিয়ে মাকে সঙ্গে করে চৌগাছা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রয়োজনে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন