সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, দর্শনার্থীর ভিড়ে হতাশ চাষীরা (ভিডিও)
jugantor
সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, দর্শনার্থীর ভিড়ে হতাশ চাষীরা (ভিডিও)

  খালেকুজ্জামান শামীম, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)  

০৩ মার্চ ২০২১, ২২:৪৪:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৮নং হাটিলা গ্রামে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন বেশ কয়েকজন চাষী। তার মধ্যে দেলোয়ার ভূঁইয়া একজন সফল কৃষক।

তার এই বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। একই এলাকায় আলমগীর ও কামাল হোসেনসহ তারা চারজনে এ সূর্যমুখীর বাগান করেছেন।

এছাড়া হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের উত্তর পাশেও ব্যক্তি উদ্যোগে একটি সূর্যমুখীর বাগান করেছেন একজন। এখানে মসজিদের মুসল্লিরা নামাজ পড়েই একবারের জন্য হলেও বাগান পরিদর্শন করেন। এখানেও প্রতিদিন সূর্যমুখী ফুল দেখার জন্য শত শত মানুষের ভিড় জমে।

চাষী আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা সূর্যমুখী সম্পর্কে তেমন ধারণা পাইনি। তবে উপজেলা থেকে কৃষি কর্মকর্তারা এসে আমাদের সূর্যমুখী সম্পর্কে ধারণা দিলে এ চাষ শুরু করি। কিন্তু দর্শনার্থীদের ভিড়ে আমরা অতিষ্ঠ। ফুলগাছ দেখতে এসে ছবি তোলা, হুড়োহুড়ি করা, ফুল ছেড়া ও গাছ নষ্ট করার কারণে আমরা অতিষ্ঠ হয়েছে পড়েছি।

তিনি আরও জানান, বাগানগুলো দেখার জন্য বা একটি সেলফি তোলার জন্য প্রতিদিনই চাঁদপুর ছাড়া বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা। ইতোমধ্যে চাঁদপুরের ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে সূর্যমুখী।

ফসলের মাঠের মাঝখানে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। ফুটে আছে হাজার হাজার হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। যে দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় না করার কোনো উপায় নেই। সম্প্রতি এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বাগানটি এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

সূর্যমুখী ফুল বাগানের দেখতে আসা দর্শনার্থী নাজমুল হাছান বলেন, আসলে একসঙ্গে এতগুলো সূর্যমুখী ফুল আগে কখনো দেখা হয়নি। তাছাড়া চাঁদপুরে সূর্যমুখীর বাগান আগেও আমি দেখিনি তাই এখানে ছুটে আসা।

মজিব পাটওয়ারী নামে নামের আরেকজন দর্শনার্থী জানান, কিছুদিন ধরে আমার বন্ধুবান্ধব এখানে এসে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে। সেটা আমি দেখতে পাই। আর সেখান থেকেই বাগানটি নিজের চোখে দেখার আগ্রহ জন্মে। তাই বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গে এখানে চলে আসি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি উপ-পরিচালক আবু সুফিয়ান যুগান্তরকে বলেন, ২০২০-২১ সালে প্রণোদনার মাধ্যমে উপজেলা ৫টি ইউনিয়নে ১০ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ শুরু করি। তার মধ্যে তিন একরেরও বেশি জায়গায় আমরা চাষাদের এ সুবিধা দিয়ে চাষ শুরু করি। আশা রাখি ফলন ভালো হবে।

চাঁদপুর জেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নরেশ চন্দ্র দাস যুগান্তরকে জানান, প্রক্রিয়াজাতকরণে জটিলতা থাকায় চাঁদপুরে সূর্যমুখীর চাষ করতে আগ্রহী না কৃষকরা। তাই সূর্যমুখী আবাদ চাঁদপুরে না হওয়ায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা একটু বেশি। কৃষকের ক্ষতি না করে এবং বাগান নষ্ট না করে সেলফি তোলা এবং আনন্দঘন সময় কাটানোর জন্য দর্শনার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

কৃষি অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এ বছর কৃষি পুনর্বাসন প্রণোদনার আওতায় জেলার মোট ১০০ জন কৃষককে ১ কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ দেয়া হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৪০০ টাকা। এছাড়াও সব কৃষককে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, দর্শনার্থীর ভিড়ে হতাশ চাষীরা (ভিডিও)

 খালেকুজ্জামান শামীম, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) 
০৩ মার্চ ২০২১, ১০:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৮নং হাটিলা গ্রামে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন বেশ কয়েকজন চাষী। তার মধ্যে দেলোয়ার ভূঁইয়া একজন সফল কৃষক।

তার এই বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। একই এলাকায় আলমগীর ও কামাল হোসেনসহ তারা চারজনে এ সূর্যমুখীর বাগান করেছেন।

এছাড়া হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের উত্তর পাশেও ব্যক্তি উদ্যোগে একটি সূর্যমুখীর বাগান করেছেন একজন। এখানে মসজিদের মুসল্লিরা নামাজ পড়েই একবারের জন্য হলেও বাগান পরিদর্শন করেন। এখানেও প্রতিদিন সূর্যমুখী ফুল দেখার জন্য শত শত মানুষের ভিড় জমে।

চাষী আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা সূর্যমুখী সম্পর্কে তেমন ধারণা পাইনি। তবে উপজেলা থেকে কৃষি কর্মকর্তারা এসে আমাদের সূর্যমুখী সম্পর্কে ধারণা দিলে এ চাষ শুরু করি। কিন্তু দর্শনার্থীদের ভিড়ে আমরা অতিষ্ঠ। ফুলগাছ দেখতে এসে ছবি তোলা, হুড়োহুড়ি করা, ফুল ছেড়া ও গাছ নষ্ট করার কারণে আমরা অতিষ্ঠ হয়েছে পড়েছি।

তিনি আরও জানান, বাগানগুলো দেখার জন্য বা একটি সেলফি তোলার জন্য প্রতিদিনই চাঁদপুর ছাড়া বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা। ইতোমধ্যে চাঁদপুরের ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে সূর্যমুখী।

ফসলের মাঠের মাঝখানে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। ফুটে আছে হাজার হাজার হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। যে দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় না করার কোনো উপায় নেই। সম্প্রতি এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বাগানটি এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

সূর্যমুখী ফুল বাগানের দেখতে আসা দর্শনার্থী নাজমুল হাছান বলেন, আসলে একসঙ্গে এতগুলো সূর্যমুখী ফুল আগে কখনো দেখা হয়নি। তাছাড়া চাঁদপুরে সূর্যমুখীর বাগান আগেও আমি দেখিনি তাই এখানে ছুটে আসা।

মজিব পাটওয়ারী নামে নামের আরেকজন দর্শনার্থী জানান, কিছুদিন ধরে আমার বন্ধুবান্ধব এখানে এসে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে। সেটা আমি দেখতে পাই। আর সেখান থেকেই বাগানটি নিজের চোখে দেখার আগ্রহ জন্মে। তাই বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গে এখানে চলে আসি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি উপ-পরিচালক আবু সুফিয়ান যুগান্তরকে বলেন, ২০২০-২১ সালে প্রণোদনার মাধ্যমে উপজেলা ৫টি ইউনিয়নে ১০ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ শুরু করি। তার মধ্যে তিন একরেরও বেশি জায়গায় আমরা চাষাদের এ সুবিধা দিয়ে চাষ শুরু করি। আশা রাখি ফলন ভালো হবে।

চাঁদপুর জেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নরেশ চন্দ্র দাস যুগান্তরকে জানান, প্রক্রিয়াজাতকরণে জটিলতা থাকায় চাঁদপুরে সূর্যমুখীর চাষ করতে আগ্রহী না কৃষকরা। তাই সূর্যমুখী আবাদ চাঁদপুরে না হওয়ায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা একটু বেশি। কৃষকের ক্ষতি না করে এবং বাগান নষ্ট না করে সেলফি তোলা এবং আনন্দঘন সময় কাটানোর জন্য দর্শনার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

কৃষি অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এ বছর কৃষি পুনর্বাসন প্রণোদনার আওতায় জেলার মোট ১০০ জন কৃষককে ১ কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ দেয়া হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৪০০ টাকা। এছাড়াও সব কৃষককে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন