জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরিশালে বেড়েছে অভিবাসন
jugantor
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরিশালে বেড়েছে অভিবাসন

  বরিশাল ব্যুরো  

০৩ মার্চ ২০২১, ২২:৪৯:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের উপকূলীয় এলাকা রাঙ্গাবালীর নারী জোহরা রেখা (৪৬) নদীভাঙনে সব হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বরিশালের রসুলপুর বস্তিতে। কিন্তু সেখানেও স্বস্তিতে নেই। প্রায়ই থাকতে হয় উচ্ছেদ আতঙ্কে। এমন অবস্থা কুমিল্লার লাকসাম থেকে ৮৮ সালের বন্যায় বরিশালে আসা মামুন হোসেনেরও (৪০)।

বরিশালের বাসিন্দা শত শত মানুষ বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝডের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার হয়েছেন। তারা সব হারিয়ে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরিশালে ক্রমশই বাড়ছে অভিবাসনের সংখ্যা।

এসব মানুষের অধিকাংশ সরকারের ১৪৬টি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সহায়তা থেকে বঞ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তনে বরাদ্দকৃত লাখ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে পার্ক, রাস্তা-ঘাট কালভার্ট নির্মাণে।

বুধবার সকালে নগরীর আভাস ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন : প্রেক্ষিত বরিশাল।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন আভাসের বরিশাল নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল। বেসরকারি সংস্থা আভাস, কানসাস এবং অ্যাকশন এইড এ সভার আয়োজন করে।

দেশের ৬টি জেলা গবেষণা করে বরিশালে অভিবাসনের সংখ্যা বাড়ছে বলে আয়োজকরা মত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নে অভিবাসনের স্রোত বাড়ছে।

সভায় প্রধান অতিথি বরিশাল জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) শহীদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাতের মতো দুর্যোগের শিকার হয়ে মানুষ অভিবাসনে ধাবিত হচ্ছে। কৃষিতে লবণাক্ততা এবং বজ্রপাত এ অঞ্চলের এখন বড় ধরনের সমস্যা। অভিবাসনের কথা মাথায় রেখে প্রকল্পে পরিবর্তন এনেছে সরকার। অভিবাসনে পড়া গৃহহীনরা ঘর পাচ্ছে। কিন্তু অভিবাসনে পড়া মানুষ মধ্যস্বত্বভোগীদের কবলে পড়ে বিপাকে পড়ছেন।

তিনি বলনে, সরকার ১৪৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা দিচ্ছে। অথচ সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার জলবায়ু ট্রাস্টের অর্থ ব্যয় হচ্ছে পার্ক, রাস্তাঘাট, কালভার্ট করে।


মতবিনিময় সভায় গৌরনদী থেকে আশা এক অংশগ্রহণকারী বলেন, গৌরনদীতে ৭-৮ জন পানচাষী সুদের ফাঁদে পড়ে অভিবাসনের শিকার হয়েছেন।

বানারীপাড়ার অপর এক অংশগ্রহণকারী বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে বালাম চাল উৎপাদনে জড়িত কুটিয়াল সম্প্রদায় বিলুপ্তির পথে।

অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক বলেন, এ অঞ্চলে লবণ পানি ঢুকে পড়ায় ফসলের বিপর্যয় ঘটছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ধ্বংস করছে পরিবেশ। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জলবায়ুর পরিবর্তন এবং অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায়, কৃষি কর্মকর্তা ফাহিমা হক। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকশন এইডের প্রোগ্রাম অফিসার মারিয়া আক্তার।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরিশালে বেড়েছে অভিবাসন

 বরিশাল ব্যুরো 
০৩ মার্চ ২০২১, ১০:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের উপকূলীয় এলাকা রাঙ্গাবালীর নারী জোহরা রেখা (৪৬) নদীভাঙনে সব হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বরিশালের রসুলপুর বস্তিতে। কিন্তু সেখানেও স্বস্তিতে নেই। প্রায়ই থাকতে হয় উচ্ছেদ আতঙ্কে। এমন অবস্থা কুমিল্লার লাকসাম থেকে ৮৮ সালের বন্যায় বরিশালে আসা মামুন হোসেনেরও (৪০)।

বরিশালের বাসিন্দা শত শত মানুষ বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝডের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার হয়েছেন। তারা সব হারিয়ে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরিশালে ক্রমশই বাড়ছে অভিবাসনের সংখ্যা।

এসব মানুষের অধিকাংশ সরকারের ১৪৬টি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সহায়তা থেকে বঞ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তনে বরাদ্দকৃত লাখ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে পার্ক, রাস্তা-ঘাট কালভার্ট নির্মাণে।

বুধবার সকালে নগরীর আভাস ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন : প্রেক্ষিত বরিশাল।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন আভাসের বরিশাল নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল। বেসরকারি সংস্থা আভাস, কানসাস এবং অ্যাকশন এইড এ সভার আয়োজন করে।

দেশের ৬টি জেলা গবেষণা করে বরিশালে অভিবাসনের সংখ্যা বাড়ছে বলে আয়োজকরা মত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নে অভিবাসনের স্রোত বাড়ছে।

সভায় প্রধান অতিথি বরিশাল জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) শহীদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাতের মতো দুর্যোগের শিকার হয়ে মানুষ অভিবাসনে ধাবিত হচ্ছে। কৃষিতে লবণাক্ততা এবং বজ্রপাত এ অঞ্চলের এখন বড় ধরনের সমস্যা। অভিবাসনের কথা মাথায় রেখে প্রকল্পে পরিবর্তন এনেছে সরকার। অভিবাসনে পড়া গৃহহীনরা ঘর পাচ্ছে। কিন্তু অভিবাসনে পড়া মানুষ মধ্যস্বত্বভোগীদের কবলে পড়ে বিপাকে পড়ছেন।

তিনি বলনে, সরকার ১৪৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা দিচ্ছে। অথচ সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার জলবায়ু ট্রাস্টের অর্থ ব্যয় হচ্ছে পার্ক, রাস্তাঘাট, কালভার্ট করে।


মতবিনিময় সভায় গৌরনদী থেকে আশা এক অংশগ্রহণকারী বলেন, গৌরনদীতে ৭-৮ জন পানচাষী সুদের ফাঁদে পড়ে অভিবাসনের শিকার হয়েছেন।

বানারীপাড়ার অপর এক অংশগ্রহণকারী বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে বালাম চাল উৎপাদনে জড়িত কুটিয়াল সম্প্রদায় বিলুপ্তির পথে।

অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক বলেন, এ অঞ্চলে লবণ পানি ঢুকে পড়ায় ফসলের বিপর্যয় ঘটছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ধ্বংস করছে পরিবেশ। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জলবায়ুর পরিবর্তন এবং অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায়, কৃষি কর্মকর্তা ফাহিমা হক। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকশন এইডের প্রোগ্রাম অফিসার মারিয়া আক্তার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন