মায়ের আবেদনে ইয়াসিন হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত শুরু
jugantor
মায়ের আবেদনে ইয়াসিন হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত শুরু

  ফেনী প্রতিনিধি  

০৪ মার্চ ২০২১, ১৫:০৬:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

আদালত

ফেনী সদর উপজেলার আলোকদিয়ায় আলোচিত ইয়াসিন হত্যার খারিজ হওয়া মামলা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে।

বুধবার রাত পর্যন্ত মামলার দুই তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ফেনী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আতোয়ার রহমানকে তদন্তকাজ শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলোকদিয়ার ইয়াসিন হত্যা মামলার বাদী ও তার মা বিবি হাজেরা বেগম চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি খুনিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ফেনী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আতোয়ার রহমানকে নির্দেশ দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আতোয়ার রহমান ২৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার বাদীসহ মামলার অন্যান্য সাক্ষীদের মঙ্গলবার তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

বুধবার মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন চন্দ্র নাথ ও ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান, গ্রামপুলিশ গিয়াস উদ্দিন ও পুলিশ সদস্য আবদুল মতিন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতোয়ার রহমান যুগান্তরকে বলেন, সাক্ষীদের বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে আমি তদন্ত করছি। আমাদের তদন্তে বাদী কোনো উপকার পাবেন কিনা এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশক্রমে অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনাটি প্রকাশ পাবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি আলোকদিয়া হতে ইয়াসিনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। তার মাথা ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। পর দিন তার মা হাজেরা বেগম ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করে। ইয়াসিন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থানার মধ্যম লামকুপাড়ার মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে।

ঘটনাস্থল থেকে কালো রঙের ছুরির কাভার, দুটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন, ১৫টি চাবি, একটি মানিব্যাগ, মানিব্যাগের ভেতর দুটি সিম ও ছয়টি মোবাইল নাম্বার লেখা টুকরো কাগজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ।

এসআই সুমন চন্দ্র নাথ এ মামলায় সাক্ষী গিয়াস উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, মো. রফিক, মো. আবুল হোসেন, ফাতেমা আক্তার বানু, হাসান ইকবাল প্রকাশ শাহিন, আবু বকর সিদ্দীককে মামলার বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের প্রদত্ত জবানবন্দী ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন।

মো. রফিক, আবুল হোসেন, ফাতেমা আক্তার বানু, ইউপি সদস্য হাসান ইকবাল প্রকাশ শাহিন, আবু বকর সিদ্দীক ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দী প্রদান করেন।

সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রকাশিত আসামি সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন পুলিশ। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আসামি সরোয়ার হোসেন সোহেল যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, ইমিগ্রেশন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকা, বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম ও ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিলেট, বিশেষ পুলিশ সুপার ইমিগ্রেশন (ল্যান্ড অ্যান্ড সি-পোর্ট) আবেদন করেন। পরে সোহেলকে ফেনী মডেল থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়।

এতে সরোয়ার হোসেন সোহেল বিদেশে পালিয়ে যায়। এসআই সুমন চন্দ্র নাথ নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে আইন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে। তিনি নিহত ইয়াসিনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখেন আঘাতজনিত কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ মামলা নিয়ে কিছু অগ্রসর হলে পরবর্তীতে পরশুরাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে বদলি করা হয়।

পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীকে। কোনো কারণ ছাড়াই পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে মামলাটি নিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও বর্তমানে সোনাগাজী থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলামকে।

পুলিশ পরিদর্শক মো. সাজেদুল ইসলাম শনাক্ত ও খুনি না ধরে এবং খুনের বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে এক মাসের মধ্যে একই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট (রিপোর্ট নং-১০) প্রদান করেন।
একই বছর ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত চূড়ান্ত রিপোর্টটি গ্রহণ করেন। ফেনীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুর রহিম মামলাটি খারিজ করে দেন। জব্দকৃত আলামত বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তির জন্য ফেনী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার বাদী হাজেরা বেগম জানান, এসআই সুমন নাথ খুনের ঘটনায় সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে সন্দেহ করেছিলেন।

পুলিশ পরিদর্শক মো. সাজেদুল ইসলাম সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আসামি না করে দ্রুত চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করেন।

করোনাকালীন আদালতে জালিয়াতির মধ্য দিয়ে তথ্য গোপন করে প্রকৃত খুনিদের রক্ষা করা হয়েছে।

ফেনীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যডভোকেট গিয়ান উদ্দিন নান্নু ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠনের (বামাস) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নান্টু যুগান্তরকে জানান, সিআরপিসিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ না থাকলেও এ মামলায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হাজেরা বেগম আরও জানান, আমার ছেলে মরেছে বিভিন্ন মানুষ কোটিপতি হচ্ছে। আমি ভিক্ষা করে খাচ্ছি। মামলা তুলে নিতে তুহিন, আলাল ও মোতাহের আমার বাড়ি গিয়ে আমাকে হুমকি দেয় ও টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি গরিব হলেও ছেলের বিচারের দাবিতে তাদের কাছ থেকে টাকা নিইনি। আমি আমার ছেলের খুনের বিচার চাই। আমি আমার ছেলের খুনিকে এক নজর দেখতে চাই।

তিনি বলেন, মামলার নিষ্পত্তি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। পরিদর্শক সাজেদুল ইসলাম আমাকে থানায় আসার জন্য বলে। আমার কাছে ভাড়া নেই ফেনীতে আসার মতো। আমি টাকা ধার করে তার কাছে আসি। উনি দুটি সাদা কাগজে আমার দুটি স্বাক্ষর নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে চলে যায়।

হাজেরা বেগম বলেন, ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে আমি আদালতের বারান্দায় অনেক ঘুরেছি। আমি কোনো বিচার পাইনি। এখন খুনিরা আমাকে ও আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

মায়ের আবেদনে ইয়াসিন হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত শুরু

 ফেনী প্রতিনিধি 
০৪ মার্চ ২০২১, ০৩:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আদালত
ফাইল ছবি

ফেনী সদর উপজেলার আলোকদিয়ায় আলোচিত ইয়াসিন হত্যার খারিজ হওয়া মামলা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে।

বুধবার রাত পর্যন্ত মামলার দুই তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ফেনী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আতোয়ার রহমানকে তদন্তকাজ শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলোকদিয়ার ইয়াসিন হত্যা মামলার বাদী ও তার মা বিবি হাজেরা বেগম চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি খুনিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ফেনী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আতোয়ার রহমানকে নির্দেশ দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আতোয়ার রহমান ২৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার বাদীসহ মামলার অন্যান্য সাক্ষীদের মঙ্গলবার তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

বুধবার মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন চন্দ্র নাথ ও ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান, গ্রামপুলিশ গিয়াস উদ্দিন ও পুলিশ সদস্য আবদুল মতিন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতোয়ার রহমান যুগান্তরকে বলেন, সাক্ষীদের বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে আমি তদন্ত করছি। আমাদের তদন্তে বাদী কোনো উপকার পাবেন কিনা এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশক্রমে অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনাটি প্রকাশ পাবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি আলোকদিয়া হতে ইয়াসিনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। তার মাথা ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। পর দিন তার মা হাজেরা বেগম ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করে। ইয়াসিন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থানার মধ্যম লামকুপাড়ার মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে।

ঘটনাস্থল থেকে কালো রঙের ছুরির কাভার, দুটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন, ১৫টি চাবি, একটি মানিব্যাগ, মানিব্যাগের ভেতর দুটি সিম ও ছয়টি মোবাইল নাম্বার লেখা টুকরো কাগজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ।

এসআই সুমন চন্দ্র নাথ এ মামলায় সাক্ষী গিয়াস উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, মো. রফিক, মো. আবুল হোসেন, ফাতেমা আক্তার বানু, হাসান ইকবাল প্রকাশ শাহিন, আবু বকর সিদ্দীককে মামলার বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের প্রদত্ত জবানবন্দী ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন।

মো. রফিক, আবুল হোসেন, ফাতেমা আক্তার বানু, ইউপি সদস্য হাসান ইকবাল প্রকাশ শাহিন, আবু বকর সিদ্দীক ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দী প্রদান করেন।

সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রকাশিত আসামি সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন পুলিশ। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আসামি সরোয়ার হোসেন সোহেল যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, ইমিগ্রেশন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকা, বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম ও ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিলেট, বিশেষ পুলিশ সুপার ইমিগ্রেশন (ল্যান্ড অ্যান্ড সি-পোর্ট) আবেদন করেন। পরে সোহেলকে ফেনী মডেল থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়।

এতে সরোয়ার হোসেন সোহেল বিদেশে পালিয়ে যায়। এসআই সুমন চন্দ্র নাথ নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে আইন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে। তিনি নিহত ইয়াসিনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখেন আঘাতজনিত কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ মামলা নিয়ে কিছু অগ্রসর হলে পরবর্তীতে পরশুরাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে বদলি করা হয়।

পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীকে। কোনো কারণ ছাড়াই পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে মামলাটি নিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও বর্তমানে সোনাগাজী থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলামকে।

পুলিশ পরিদর্শক মো. সাজেদুল ইসলাম শনাক্ত ও খুনি না ধরে এবং খুনের বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে এক মাসের মধ্যে একই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট (রিপোর্ট নং-১০) প্রদান করেন।
একই বছর ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত চূড়ান্ত রিপোর্টটি গ্রহণ করেন। ফেনীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুর রহিম মামলাটি খারিজ করে দেন। জব্দকৃত আলামত বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তির জন্য ফেনী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার বাদী হাজেরা বেগম জানান, এসআই সুমন নাথ খুনের ঘটনায় সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে সন্দেহ করেছিলেন।

পুলিশ পরিদর্শক মো. সাজেদুল ইসলাম সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আসামি না করে দ্রুত চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করেন।

করোনাকালীন আদালতে জালিয়াতির মধ্য দিয়ে তথ্য গোপন করে প্রকৃত খুনিদের রক্ষা করা হয়েছে।

ফেনীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যডভোকেট গিয়ান উদ্দিন নান্নু ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠনের (বামাস) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নান্টু যুগান্তরকে জানান, সিআরপিসিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ না থাকলেও এ মামলায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হাজেরা বেগম আরও জানান, আমার ছেলে মরেছে বিভিন্ন মানুষ কোটিপতি হচ্ছে। আমি ভিক্ষা করে খাচ্ছি। মামলা তুলে নিতে তুহিন, আলাল ও মোতাহের আমার বাড়ি গিয়ে আমাকে হুমকি দেয় ও টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি গরিব হলেও ছেলের বিচারের দাবিতে তাদের কাছ থেকে টাকা নিইনি। আমি আমার ছেলের খুনের বিচার চাই। আমি আমার ছেলের খুনিকে এক নজর দেখতে চাই।

তিনি বলেন, মামলার নিষ্পত্তি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। পরিদর্শক সাজেদুল ইসলাম আমাকে থানায় আসার জন্য বলে। আমার কাছে ভাড়া নেই ফেনীতে আসার মতো। আমি টাকা ধার করে তার কাছে আসি। উনি দুটি সাদা কাগজে আমার দুটি স্বাক্ষর নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে চলে যায়।

হাজেরা বেগম বলেন, ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে আমি আদালতের বারান্দায় অনেক ঘুরেছি। আমি কোনো বিচার পাইনি। এখন খুনিরা আমাকে ও আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন