সাতছড়ির গহিন বনে তৃতীয় দিনেও বিজিবির অভিযান চলছে
jugantor
সাতছড়ির গহিন বনে তৃতীয় দিনেও বিজিবির অভিযান চলছে

  চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

০৪ মার্চ ২০২১, ১৫:০৯:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

সাতছড়ির গহিন বনে তৃতীয় দিনেও বিজিবির অভিযান চলছে

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহিন বনে তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবারও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার সকালে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে আর কোনো অস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে গভীর বন থেকে উদ্ধারকৃত ১৮টি ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট লঞ্চার ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হবিগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। তবে এসব গোলাবারুদ ধ্বংস করা হবে নাকি ঢাকায় পাঠানো হবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫৫ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সামীউন্নবী চৌধুরীর নেতৃত্বে এক প্লাটুন সদস্য মঙ্গলবার বিকালে থেকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অভ্যন্তরে ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার অভিযান শুরু করে।

এটি সাতছড়িতে সপ্তম দফার অভিযান। এ অভিযানে তারা ১৮টি ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট লঞ্চার গোলা উদ্ধার করে এবং বুধবার সকালে বনের অভ্যন্তরেই প্রেস ব্রিফিং করে এসব গোলা উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়।

এ সময় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল সামীউন্নবী চৌধুরী। এর ধারাবাহিকতায় তারা বুধবার দিনভর সাতছড়ি বনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় বিজিবি সদস্যরা অভিযান শুরু করেছে। তবে আর কোনো অস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ পাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে উদ্ধারকৃত ১৮টি ট্যাংক বিধ্বংসী গোলা উদ্ধার করে তাদের ব্যাটালিয়ন হবিগঞ্জে নেওয়া হয়েছে। এসব গোলা আদালতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে আদালতের মাধ্যমে তা ধ্বংস করা হবে কিংবা ঢাকায় সমরাস্ত্র কারখানায় পাঠানো হতে পাবে বলে জানিয়েছে লে. কর্নেল সামীউন্নবী চৌধুরী। তারা দুটো অপশনেই আগাচ্ছেন।

তিনি জানান, এগুলো আদালতের মাধ্যমে ধ্বংস করতে হলে বোম ডিসপোজাল টিম আনাতে হবে। এদিকে বিজিবির তৃতীয় দিনের অভিযান চলছে। তাদের সন্দেহজনক এলাকাগুলো সার্চ করার পরই তাদের অভিযান সমাপ্ত হতে পারে।

সাতছড়ি বনে এর আগে ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটাগান, ছয়টি এসএলআর, একটি অটোরাইফেল, পাঁচটি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে র্যা ব।

এর পর আবারও ওই বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে চতুর্থ দফার প্রথম পর্যায়ে উদ্যানের গহিন অরণ্যে মাটি খুঁড়ে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০ গুলির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আটটি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়।

পরে একই বছরের ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজির আট হাজার ৩৬০ রাউন্ড, থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়।

পঞ্চম দফায় ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ১০টি হাই এক্সক্লুসিভ ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়।

সবশেষ ষষ্ঠ দফায় ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৩ রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশ কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

পরে সিলেট ক্যান্টনমেন্ট এর বোম ডিসপোজল টিম এগুলো বনের ভেতরেই ধ্বংস করে ফেলে।

সাতছড়ির গহিন বনে তৃতীয় দিনেও বিজিবির অভিযান চলছে

 চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
০৪ মার্চ ২০২১, ০৩:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সাতছড়ির গহিন বনে তৃতীয় দিনেও বিজিবির অভিযান চলছে
ফাইল ছবি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহিন বনে তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবারও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার সকালে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে আর কোনো অস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে গভীর বন থেকে উদ্ধারকৃত ১৮টি ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট লঞ্চার  ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হবিগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। তবে এসব গোলাবারুদ ধ্বংস করা হবে নাকি ঢাকায় পাঠানো হবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫৫ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সামীউন্নবী চৌধুরীর নেতৃত্বে এক প্লাটুন সদস্য মঙ্গলবার বিকালে থেকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অভ্যন্তরে ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার অভিযান শুরু করে।

এটি সাতছড়িতে সপ্তম দফার অভিযান। এ অভিযানে তারা ১৮টি ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট লঞ্চার গোলা উদ্ধার করে এবং বুধবার সকালে বনের অভ্যন্তরেই প্রেস ব্রিফিং করে এসব গোলা উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়।

এ সময় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল সামীউন্নবী চৌধুরী। এর ধারাবাহিকতায় তারা বুধবার দিনভর সাতছড়ি বনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় বিজিবি সদস্যরা অভিযান শুরু করেছে। তবে আর কোনো অস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ পাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে উদ্ধারকৃত ১৮টি ট্যাংক বিধ্বংসী গোলা উদ্ধার করে তাদের ব্যাটালিয়ন হবিগঞ্জে নেওয়া হয়েছে। এসব গোলা আদালতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে আদালতের মাধ্যমে তা ধ্বংস করা হবে কিংবা ঢাকায় সমরাস্ত্র কারখানায় পাঠানো হতে পাবে বলে জানিয়েছে লে. কর্নেল সামীউন্নবী চৌধুরী। তারা দুটো অপশনেই আগাচ্ছেন।

তিনি জানান, এগুলো আদালতের মাধ্যমে ধ্বংস করতে হলে বোম ডিসপোজাল টিম আনাতে হবে। এদিকে বিজিবির তৃতীয় দিনের অভিযান চলছে। তাদের সন্দেহজনক এলাকাগুলো সার্চ করার পরই তাদের অভিযান সমাপ্ত হতে পারে।

সাতছড়ি বনে এর আগে ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটাগান, ছয়টি এসএলআর, একটি অটোরাইফেল, পাঁচটি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে র্যা ব।

এর পর আবারও ওই বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে চতুর্থ দফার প্রথম পর্যায়ে উদ্যানের গহিন অরণ্যে মাটি খুঁড়ে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০ গুলির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আটটি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়।

পরে একই বছরের ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজির আট হাজার ৩৬০ রাউন্ড, থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়।

পঞ্চম দফায় ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ১০টি হাই এক্সক্লুসিভ ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়।

সবশেষ ষষ্ঠ দফায় ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৩ রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশ কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

পরে সিলেট ক্যান্টনমেন্ট এর বোম ডিসপোজল টিম এগুলো বনের ভেতরেই ধ্বংস করে ফেলে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন