বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিল সন্তান
jugantor
বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিল সন্তান

  উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

০৪ মার্চ ২০২১, ১৮:৫০:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিল সন্তান

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্তানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে।

অসহায় ওই বৃদ্ধা এক মাস ধরে নিজ ভিটে-মাটি ছেড়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ঘোলদারপাড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন প্রায় দুই বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার টাকা দিয়ে সংসার চালিয়ে আসছে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রাবেয়া বেওয়া। কয়েকমাস থেকে পুত্র আতাউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতার সমুদয় টাকা মায়ের কাছে দাবি করে আসছেন।

কিন্তু রাবেয়া বেওয়া সম্মানী ভাতার টাকা সংসার চালানোসহ তার চার সন্তানকে বণ্টন করে দিতেন। এতে আপত্তি তুলে পুত্র আতাউর রহমান ও পুত্রবধূ লিপি বেগম তাকে প্রায় সময় মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

এ ঘটনার জের ধরে গত ৩০ জানুয়ারি ওই পুত্র ও পুত্রবধূ মিলে রাবেয়া বেওয়াকে এক কাপড়ে বসত ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বেড় করে ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে বর্তমানে মেয়ে গোলাপী বেগমের বাড়ি গুনাইগাছ ইউনিয়নের কৃষ্ণমোহনে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাবেয়া বেওয়া বলেন, ছেলে আতাউর রহমানকে সম্মানী ভাতার সমুদয় টাকা না দেয়ায় আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমি বাড়িতে ফিরে গেলে আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। এক মাস অপেক্ষা করার পরও এ ব্যাপারে কোথাও প্রতিকার না পেয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীর ভিটায় জীবনের শেষ দিনগুলো পাড় করতে চাই এবং ছেলে ও ছেলে বউয়ের এই নির্মমতার বিচার চাই।

এ বিষয়ে আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে বঞ্চিত করে জমি জমা টাকা পয়সা অন্য তিন সন্তানকে দেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় তিনি বাড়ি থেকে চলে গেছেন।

মায়ের ঘরে তালা ঝুলানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বাড়িতে নেই, ঘরে জিনিসপত্র রয়েছে, তাই তালা লাগিয়ে দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি পারিবারিক ব্যাপার তাই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দ্রুতই সমাধান করে দেয়া হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিল সন্তান

 উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
০৪ মার্চ ২০২১, ০৬:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিল সন্তান
প্রতীকী ছবি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্তানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে।

অসহায় ওই বৃদ্ধা এক মাস ধরে নিজ ভিটে-মাটি ছেড়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ঘোলদারপাড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন প্রায় দুই বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার টাকা দিয়ে সংসার চালিয়ে আসছে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রাবেয়া বেওয়া। কয়েকমাস থেকে পুত্র আতাউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতার সমুদয় টাকা মায়ের কাছে দাবি করে আসছেন।

কিন্তু রাবেয়া বেওয়া সম্মানী ভাতার টাকা সংসার চালানোসহ তার চার সন্তানকে বণ্টন করে দিতেন। এতে আপত্তি তুলে পুত্র আতাউর রহমান ও পুত্রবধূ লিপি বেগম তাকে প্রায় সময় মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

এ ঘটনার জের ধরে গত ৩০ জানুয়ারি ওই পুত্র ও পুত্রবধূ মিলে রাবেয়া বেওয়াকে এক কাপড়ে বসত ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বেড় করে ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে বর্তমানে মেয়ে গোলাপী বেগমের বাড়ি গুনাইগাছ ইউনিয়নের কৃষ্ণমোহনে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাবেয়া বেওয়া বলেন, ছেলে আতাউর রহমানকে সম্মানী ভাতার সমুদয় টাকা না দেয়ায় আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।  আমি বাড়িতে ফিরে গেলে আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। এক মাস অপেক্ষা করার পরও এ ব্যাপারে কোথাও প্রতিকার না পেয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীর ভিটায় জীবনের শেষ দিনগুলো পাড় করতে চাই এবং ছেলে ও ছেলে বউয়ের এই নির্মমতার বিচার চাই।

এ বিষয়ে আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে বঞ্চিত করে জমি জমা টাকা পয়সা অন্য তিন সন্তানকে দেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় তিনি বাড়ি থেকে চলে গেছেন।

মায়ের ঘরে তালা ঝুলানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বাড়িতে নেই, ঘরে জিনিসপত্র রয়েছে, তাই তালা লাগিয়ে দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি পারিবারিক ব্যাপার তাই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দ্রুতই সমাধান করে দেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন