সূর্যমুখীর হাসির ঝিলিকে দর্শনার্থীর ভিড় (ভিডিও)
jugantor
সূর্যমুখীর হাসির ঝিলিকে দর্শনার্থীর ভিড় (ভিডিও)

  মো. মহসিন হাবিব, তিতাস (কুমিল্লা)  

০৪ মার্চ ২০২১, ২০:৪৫:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মাছিমপুর গ্রামে সড়কের উত্তরপাশে ৯০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন ওয়ালিদ মিয়া নামে এক কৃষক। আর এই বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।

আর ছুটে আসা সেলফিবাজ দর্শনার্থীদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ফসলের ক্ষতি হলেও মোটেও মনক্ষুন্ন নন মালিক ওয়ালিদ মিয়া। উল্টো দর্শনার্থীদের পানি আপ্যায়ন করিয়ে মনে স্বস্তি পাচ্ছেন তিনি।

শুধু স্থানীয় নয়, বাগানটিকে একনজর দেখার জন্য বা একটি সেলফি তোলার জন্য প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা। এমনকি ভিন্ন উপজেলা থেকে রীতিমতো অনেকেই ঘুরতে আসছেন এখানে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে এই বাগানটি।

কৃষি অধিদফতর তিতাস কার্যালয়ের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর কৃষি পুনর্বাসন প্রণোদনার আওতায় তিতাস উপজেলার মোট ১০০ জন কৃষককে এক কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সকল কৃষককে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা এবং সহযোগিতা করা হচ্ছে।

মনোমুগ্ধকর এ পরিবেশে একটু সময় কাটানোর জন্য আর হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুলের হাসির ঝিলিক দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক জনতা এসে ভিড় করছেন।

সূর্যমুখী ফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা এতই বেশি যে, তাদের অবাধ বিচরণে হুমকিতে পড়েছে জমিটি। এতে মোটেও মনক্ষুন্ন নন মালিক ওয়ালিদ মিয়া। অনেকেই ছবি তোলার জন্য ঢুকে পড়ছেন জমির ভেতর। ফুলের চেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা। দর্শনার্থীদের অবাধ চলাফেরায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাছ ও ফুল। কেউ কেউ জোর করে ছিঁড়ে নিচ্ছেন ফুল, আবার কেউ নিতে চান আস্ত গাছ।

ফসলের মাঠের মাঝখানে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। ফুটে আছে হাজার হাজার হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। যে দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় না করার কোনো উপায় নেই। সম্প্রতি এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বাগানটি এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

সূর্যমুখী ফুল বাগানের দেখতে আসা দর্শনার্থী মো. শাহ আলম বলেন, আসলে একসঙ্গে এতগুলো সূর্যমুখী ফুল আগে কখনো দেখা হয়নি। তাছাড়া কুমিল্লায় সূর্যমুখীর বাগান আগে কখনও আমি দেখিনি তাই এখানে ছুটে আসা।

ইসরাত জাহান (ইমা) নামের আরেকজন দর্শনার্থী জানান, তিতাসে আমার নানির বাড়ি, আমি ঢাকায় থাকি। কিছুদিন ধরে আমার বন্ধুবান্ধব এখানে এসে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে। সেটা আমি দেখতে পাই। আর সেখান থেকেই বাগানটি নিজের চোখে দেখার আগ্রহ জন্মে। তাইতো সূর্যমুখীর সূর্য হাসি দেখতে ছুটে এসেছি।

সূর্যমুখী ক্ষেতের মালিক জানান, তেল ও বীজের জন্য খামারে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। এবার ৯০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। মাঠজুড়ে ফুলে ফুলে ভরে যাওয়াতে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফুল ফোটার পর ফেসবুকে ভাইরাল হলে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউকে আটকানো যাচ্ছে না। এখন সব শ্রেণির মানুষ ফটো তোলার জন্য ভিড় করছেন। তবে মানুষের উপস্থিতি আমার কাছে ভালো লাগছে।

সূর্যমুখীর হাসির ঝিলিকে দর্শনার্থীর ভিড় (ভিডিও)

 মো. মহসিন হাবিব, তিতাস (কুমিল্লা) 
০৪ মার্চ ২০২১, ০৮:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মাছিমপুর গ্রামে সড়কের উত্তরপাশে ৯০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন ওয়ালিদ মিয়া নামে এক কৃষক। আর এই বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।

আর ছুটে আসা সেলফিবাজ দর্শনার্থীদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ফসলের ক্ষতি হলেও মোটেও মনক্ষুন্ন নন মালিক ওয়ালিদ মিয়া। উল্টো দর্শনার্থীদের পানি আপ্যায়ন করিয়ে মনে স্বস্তি পাচ্ছেন তিনি।

শুধু স্থানীয় নয়, বাগানটিকে একনজর দেখার জন্য বা একটি সেলফি তোলার জন্য প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা। এমনকি ভিন্ন উপজেলা থেকে রীতিমতো অনেকেই ঘুরতে আসছেন এখানে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে এই বাগানটি।

কৃষি অধিদফতর তিতাস কার্যালয়ের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর কৃষি পুনর্বাসন প্রণোদনার আওতায় তিতাস উপজেলার মোট ১০০ জন কৃষককে এক কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সকল কৃষককে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা এবং সহযোগিতা করা হচ্ছে।

মনোমুগ্ধকর এ পরিবেশে একটু সময় কাটানোর জন্য আর হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুলের হাসির ঝিলিক দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক জনতা এসে ভিড় করছেন।

সূর্যমুখী ফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা এতই বেশি যে, তাদের অবাধ বিচরণে হুমকিতে পড়েছে জমিটি। এতে মোটেও মনক্ষুন্ন নন মালিক ওয়ালিদ মিয়া। অনেকেই ছবি তোলার জন্য ঢুকে পড়ছেন জমির ভেতর। ফুলের চেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা। দর্শনার্থীদের অবাধ চলাফেরায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাছ ও ফুল। কেউ কেউ জোর করে ছিঁড়ে নিচ্ছেন ফুল, আবার কেউ নিতে চান আস্ত গাছ।

ফসলের মাঠের মাঝখানে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। ফুটে আছে হাজার হাজার হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। যে দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় না করার কোনো উপায় নেই। সম্প্রতি এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বাগানটি এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

সূর্যমুখী ফুল বাগানের দেখতে আসা দর্শনার্থী মো. শাহ আলম বলেন, আসলে একসঙ্গে এতগুলো সূর্যমুখী ফুল আগে কখনো দেখা হয়নি। তাছাড়া কুমিল্লায় সূর্যমুখীর বাগান আগে কখনও আমি দেখিনি তাই এখানে ছুটে আসা।

ইসরাত জাহান (ইমা) নামের আরেকজন দর্শনার্থী জানান, তিতাসে আমার নানির বাড়ি, আমি ঢাকায় থাকি। কিছুদিন ধরে আমার বন্ধুবান্ধব এখানে এসে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে। সেটা আমি দেখতে পাই। আর সেখান থেকেই বাগানটি নিজের চোখে দেখার আগ্রহ জন্মে। তাইতো সূর্যমুখীর সূর্য হাসি দেখতে ছুটে এসেছি।

সূর্যমুখী ক্ষেতের মালিক জানান, তেল ও বীজের জন্য খামারে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। এবার ৯০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। মাঠজুড়ে ফুলে ফুলে ভরে যাওয়াতে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফুল ফোটার পর ফেসবুকে ভাইরাল হলে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউকে আটকানো যাচ্ছে না। এখন সব শ্রেণির মানুষ ফটো তোলার জন্য ভিড় করছেন। তবে মানুষের উপস্থিতি আমার কাছে ভালো লাগছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন