সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা সেই মমতাজের পাশে প্রশাসন
jugantor
সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা সেই মমতাজের পাশে প্রশাসন

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি  

০৭ মার্চ ২০২১, ১৪:৩০:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা সেই মমতাজের পাশে প্রশাসন

আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে সন্তানসহ ২২ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে থাকা মমতাজ বেগমের (৩৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনসহ অনেকেই।

মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে টানা ২২ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিল পরিবারটি। মমতাজ বেগম উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জামতলার হাটসংলগ্ন ছাহের মণ্ডলপাড়ার দরিদ্র রিকশাচালক আলমাস শেখের স্ত্রী।

এ নিয়ে গত ৪ মার্চ রাতে '২২ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মমতাজ’ শিরোনামে যুগান্তর অনলাইনে সচিত্র সংবাদ আপলোড হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ৬ মার্চ দুপুরে ঘটনাস্থলে যান গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সি। এ সময় তিনি অসহায় মমতাজের হাতে দুই বান্ডিল টিন তুলে দেন। সেই সঙ্গে তিনি পরিবারটির জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করার আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি বলেন, এতদিন ধরে একটি পরিবার আগুনে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

এদিকে একই দিন বিকালে মমতাজ বেগমের খোঁজ নিতে তার পোড়াবাড়িতে যান গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকির এবং গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের গোয়ালন্দ উপজেলা প্রতিনিধি শামীম শেখ।

ইউএনও এ সময় মমতাজ বেগমের খোঁজখবর নেন এবং তার হাতে তিন হাজার টাকা তুলে দেন। এ সময় তিনি অসহায় পরিবারটিকে সাময়িক বসবাসের জন্য দ্রুত একটি টিনের ঘর নির্মাণ এবং আগামীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সরকারি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।

এ ছাড়া উজানচর ইউনিয়ন প্রবাসী ফোরাম, এনজিও আশা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি পরিবারটির জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অসহায় পরিবারটি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আগুনে মমতাজ বেগমের বসবাসের দুটি ছাপড়াঘর, একটি রান্নাঘর, চারটি ছাগল, এনজিও আশা থেকে নেওয়া ঋণের ৫০ হাজার টাকা, ধান, চাল, স্বামী-স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র, বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ, কাপড়-চোপড় পুড়ে যায়। এ চরমভাবে অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুঃখজনক এ ঘটনাটির বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। যুগান্তরের সংবাদ দেখে বিষয়টি জানতে পারি। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির সাময়িক বসবাসের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

এ ছাড়া আগামীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়াসহ পরিবারটির জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করার চেষ্টা করব।

সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা সেই মমতাজের পাশে প্রশাসন

 গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 
০৭ মার্চ ২০২১, ০২:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা সেই মমতাজের পাশে প্রশাসন
ছবি: যুগান্তর

আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে সন্তানসহ ২২ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে থাকা মমতাজ বেগমের (৩৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনসহ অনেকেই।

মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে টানা ২২ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিল পরিবারটি। মমতাজ বেগম উপজেলার উজানচর  ইউনিয়নের জামতলার হাটসংলগ্ন ছাহের মণ্ডলপাড়ার দরিদ্র রিকশাচালক আলমাস শেখের স্ত্রী।

এ নিয়ে গত ৪ মার্চ রাতে '২২ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মমতাজ’ শিরোনামে যুগান্তর অনলাইনে সচিত্র সংবাদ আপলোড হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ৬ মার্চ দুপুরে ঘটনাস্থলে যান গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সি। এ সময় তিনি অসহায় মমতাজের হাতে দুই বান্ডিল টিন তুলে দেন। সেই সঙ্গে তিনি পরিবারটির জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করার আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি বলেন, এতদিন ধরে একটি পরিবার আগুনে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

এদিকে একই দিন বিকালে মমতাজ বেগমের খোঁজ নিতে তার পোড়াবাড়িতে যান গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকির এবং গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের গোয়ালন্দ উপজেলা প্রতিনিধি শামীম শেখ।

ইউএনও এ সময় মমতাজ বেগমের খোঁজখবর নেন এবং তার হাতে তিন হাজার টাকা তুলে দেন। এ সময় তিনি অসহায় পরিবারটিকে সাময়িক বসবাসের জন্য দ্রুত একটি টিনের ঘর নির্মাণ এবং আগামীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সরকারি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।

এ ছাড়া উজানচর ইউনিয়ন প্রবাসী ফোরাম, এনজিও আশা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি পরিবারটির জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অসহায় পরিবারটি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আগুনে মমতাজ বেগমের বসবাসের দুটি ছাপড়াঘর, একটি রান্নাঘর, চারটি ছাগল, এনজিও আশা থেকে নেওয়া ঋণের ৫০ হাজার টাকা, ধান, চাল, স্বামী-স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র, বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ, কাপড়-চোপড় পুড়ে যায়। এ চরমভাবে অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুঃখজনক এ ঘটনাটির বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। যুগান্তরের সংবাদ দেখে বিষয়টি জানতে পারি। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির সাময়িক বসবাসের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

এ ছাড়া আগামীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়াসহ পরিবারটির জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করার চেষ্টা করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন