তৃতীয় স্ত্রীকে তুলতে বাঁধা, অন্তঃসত্ত্বা ১ম স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক
jugantor
তৃতীয় স্ত্রীকে তুলতে বাঁধা, অন্তঃসত্ত্বা ১ম স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক

  নড়াইল প্রতিনিধি  

০৮ মার্চ ২০২১, ১৯:৩৬:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

সারা দেশে যখন আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হচ্ছে। তখন একাধিক নারী কেলেঙ্কারির হোতা স্কুলশিক্ষক স্বামীর অমানবিক নির্যাতন ও আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় ছটফট করছে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রী ফারজানা বেগম (৩৪)। বর্তমানে নির্যাতিত ওই নারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামে। স্বামী শাহান শাহ সরদার একমাস আগে তার এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। তার পিতার নাম সবদার সরদার।

জানা গেছে, মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামের সবদার সরদারের ছেলে মাইজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক শাহান শাহ সরদারের সঙ্গে ২১ বছর আগে ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার আব্দুল কাদিরের মেয়ে ফারজানার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

বড় মেয়ে শাহজাদী মারিয়া এইচএসসি, মেঝো মেয়ে শাহ আফরিন ৯ম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা ৩য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বর্তমানে নির্যাতিত ওই নারী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারজানা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির তথ্য জানতে পারে। সে কারণে সব মুখ বন্ধ করেই সহ্য করতে হয়। বিয়ের ৪-৫ বছর পর অর্থাৎ ২০০৫ সালে পলি নামে এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। পরবর্তীতে পরিবারের অনুরোধে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সংসারে কিছুটা শান্তি ছিল।

তিনি জানান, কিন্তু মাঝে মধ্যেই নারী ঘটিত বিভিন্ন অভিযোগ শুনলেও সেগুলি সহ্য করতে হয়েছে। সর্বশেষ ১ ফেব্রুয়ারি মাইজপাড়া ইউনিয়নের কল্যানখালী গ্রামে তার এক ছাত্রী মারিয়াকে তৃতীয় বিয়ে করে। ৬ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং ঘরে তুলতে যায়। তখন বাধা দেওয়ায় স্বামী শাহানশাহ সরদার, তার তৃতীয় স্ত্রী মারিয়া ও শ্বশুর সরদার মিলে ফারজানা বেগমকে অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। তাকে কিল ঘুষি, লাথি মারতে থাকে।

তখন তার মেয়েরা ঠেকাতে গেলেও তারাও রক্ষা পায়নি। তার গর্ভে ৮ মাসের সন্তান রয়েছে। পেটে লাথি মারায় ব্লিডিং হয়। অমানবিক নির্যাতনের কারণে তিনি অচেতন হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহান শাহ সরদার মোবাইল ফোনে বলেন, আমি তৃতীয় বিয়ে করায় আমার প্রথম স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে এসব করেছে।

নড়াইল সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তৃতীয় স্ত্রীকে তুলতে বাঁধা, অন্তঃসত্ত্বা ১ম স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক

 নড়াইল প্রতিনিধি 
০৮ মার্চ ২০২১, ০৭:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সারা দেশে যখন আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হচ্ছে। তখন একাধিক নারী কেলেঙ্কারির হোতা স্কুলশিক্ষক স্বামীর অমানবিক নির্যাতন ও আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় ছটফট করছে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রী ফারজানা বেগম (৩৪)। বর্তমানে নির্যাতিত ওই নারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে  নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামে। স্বামী শাহান শাহ সরদার একমাস আগে তার এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। তার পিতার নাম সবদার সরদার।

জানা গেছে, মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামের সবদার সরদারের ছেলে মাইজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক  শাহান শাহ সরদারের সঙ্গে ২১ বছর আগে ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার আব্দুল কাদিরের মেয়ে ফারজানার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

বড় মেয়ে শাহজাদী মারিয়া এইচএসসি, মেঝো মেয়ে শাহ আফরিন ৯ম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা ৩য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বর্তমানে নির্যাতিত ওই নারী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারজানা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির তথ্য জানতে পারে। সে কারণে সব মুখ বন্ধ করেই সহ্য করতে হয়। বিয়ের ৪-৫ বছর পর অর্থাৎ ২০০৫ সালে পলি নামে এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। পরবর্তীতে পরিবারের অনুরোধে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সংসারে কিছুটা শান্তি ছিল।

তিনি জানান, কিন্তু মাঝে মধ্যেই নারী ঘটিত বিভিন্ন অভিযোগ শুনলেও সেগুলি সহ্য করতে হয়েছে। সর্বশেষ ১ ফেব্রুয়ারি মাইজপাড়া ইউনিয়নের কল্যানখালী গ্রামে তার এক ছাত্রী মারিয়াকে তৃতীয় বিয়ে করে। ৬ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং ঘরে তুলতে যায়। তখন বাধা দেওয়ায় স্বামী শাহানশাহ সরদার, তার তৃতীয় স্ত্রী মারিয়া ও শ্বশুর সরদার মিলে ফারজানা বেগমকে অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। তাকে কিল ঘুষি, লাথি মারতে থাকে।

তখন তার মেয়েরা ঠেকাতে গেলেও তারাও রক্ষা পায়নি। তার গর্ভে ৮ মাসের সন্তান রয়েছে। পেটে লাথি মারায় ব্লিডিং হয়। অমানবিক নির্যাতনের কারণে তিনি অচেতন হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহান শাহ সরদার মোবাইল ফোনে বলেন, আমি তৃতীয় বিয়ে করায় আমার প্রথম স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে এসব করেছে।

নড়াইল সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন