স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বেঁধে গণধোলাই
jugantor
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বেঁধে গণধোলাই

  বগুড়া ব্যুরো  

১১ মার্চ ২০২১, ২২:৪৯:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সেলিম রেজা (৩০)। এই টাকা ফেরত না দিয়ে হুমকি দেওয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা সেলিম রেজাকে বেঁধে গণধোলাই দিয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের কোনাগাঁতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানিয়েছেন, টাকা পেলেই কাউকে বেঁধে রেখে মারপিট করার অধিকার নেই। বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন সেলিম রেজা।

অভিযোগে জানা গেছে, সেলিম রেজা ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের মহিশুরা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত সানোয়ার হোসেন টুনুর ছেলে। তিনি গোপালনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার। তিনি গত ২০১৭ সালে কোনাগাঁতি গ্রামের দরিদ্র কৃষক জসিম উদ্দিনের ছেলে শামীম রেজাকে কোনাগাঁতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরির প্রলোভন দেন।

চাকরির বিনিময়ে তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সেলিম রেজা ওই পদে চাকরি দেওয়ার নামে আরও চারজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেন। পরে পাঁচজনের মধ্যে একজনকে বেশি অংকের টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়।

সেলিম রেজা টাকাগুলো উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকনের পক্ষে নেন। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই খোকনের বিরুদ্ধে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি নিয়োগের নামে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

গত ৪ মার্চ শামীম রেজার বড়ভাই আবদুল হাই ধুনট থানায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই খোকন ও সেলিম রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। প্রতারণার শিকারদের পক্ষে থানায় পাঁচটি অভিযোগ দেওয়া হয়; পুলিশ সেসব রেকর্ড করেনি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে সেলিম রেজা বাদীর পরিবারকে হুমকি ও ভয় দেখিয়ে আসছেন।

এদিকে ১০ মার্চ বুধবার সন্ধ্যার দিকে সেলিম রেজা ও তার লোকজন কোনাগাঁতি গ্রামে প্রতারণার শিকার শামীম রেজার ভাই আবদুল হাইকে একা পেয়ে মারধর করেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে চাপ দেন। রাজি না হলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সেলিম রেজা ও তার লোকজন চাকরি প্রার্থী শামীম রেজা ও তার ভাই আবদুল হাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

টের পেয়ে গ্রামবাসী ধাওয়া করে সেলিম রেজাকে আটক করেন। এরপর তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে চেয়ারের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারপিট করেন। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ জনরোষ থেকে বাঁচাতে সেলিম রেজাকে থানায় নিয়ে আসেন। রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার সেলিম রেজা বলেন, তিনি চাকরি দেওয়ার নামে কিছু টাকা নিয়েছিলেন। কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে; অবশিষ্ট টাকার ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শামীম রেজা ও তার ভাই আবদুল হাই তাকে তুলে নিয়ে বেঁধে রেখে মারপিট করেছেন।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, চাকরি প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকনকে টাকা দেওয়ার সময় সেখানে সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। এ কারণে জনগণ সন্দেহমূলকভাবে তাকে আটক করে বেঁধে রেখে মারপিট করেছেন। সেলিম রেজাকে উদ্ধারের পর তিনি মারপিটকারী ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বেঁধে গণধোলাই

 বগুড়া ব্যুরো 
১১ মার্চ ২০২১, ১০:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সেলিম রেজা (৩০)। এই টাকা ফেরত না দিয়ে হুমকি দেওয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা সেলিম রেজাকে বেঁধে গণধোলাই দিয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের কোনাগাঁতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানিয়েছেন, টাকা পেলেই কাউকে বেঁধে রেখে মারপিট করার অধিকার নেই। বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন সেলিম রেজা।

অভিযোগে জানা গেছে, সেলিম রেজা ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের মহিশুরা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত সানোয়ার হোসেন টুনুর ছেলে। তিনি গোপালনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার। তিনি গত ২০১৭ সালে কোনাগাঁতি গ্রামের দরিদ্র কৃষক জসিম উদ্দিনের ছেলে শামীম রেজাকে কোনাগাঁতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরির প্রলোভন দেন।

চাকরির বিনিময়ে তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সেলিম রেজা ওই পদে চাকরি দেওয়ার নামে আরও চারজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেন। পরে পাঁচজনের মধ্যে একজনকে বেশি অংকের টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়।

সেলিম রেজা টাকাগুলো উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকনের পক্ষে নেন। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই খোকনের বিরুদ্ধে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি নিয়োগের নামে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

গত ৪ মার্চ শামীম রেজার বড়ভাই আবদুল হাই ধুনট থানায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই খোকন ও সেলিম রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। প্রতারণার শিকারদের পক্ষে থানায় পাঁচটি অভিযোগ দেওয়া হয়; পুলিশ সেসব রেকর্ড করেনি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে সেলিম রেজা বাদীর পরিবারকে হুমকি ও ভয় দেখিয়ে আসছেন।

এদিকে ১০ মার্চ বুধবার সন্ধ্যার দিকে সেলিম রেজা ও তার লোকজন কোনাগাঁতি গ্রামে প্রতারণার শিকার শামীম রেজার ভাই আবদুল হাইকে একা পেয়ে মারধর করেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে চাপ দেন। রাজি না হলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সেলিম রেজা ও তার লোকজন চাকরি প্রার্থী শামীম রেজা ও তার ভাই আবদুল হাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

টের পেয়ে গ্রামবাসী ধাওয়া করে সেলিম রেজাকে আটক করেন। এরপর তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে চেয়ারের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারপিট করেন। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ জনরোষ থেকে বাঁচাতে সেলিম রেজাকে থানায় নিয়ে আসেন। রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার সেলিম রেজা বলেন, তিনি চাকরি দেওয়ার নামে কিছু টাকা নিয়েছিলেন। কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে; অবশিষ্ট টাকার ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শামীম রেজা ও তার ভাই আবদুল হাই তাকে তুলে নিয়ে বেঁধে রেখে মারপিট করেছেন।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, চাকরি প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকনকে টাকা দেওয়ার সময় সেখানে সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। এ কারণে জনগণ সন্দেহমূলকভাবে তাকে আটক করে বেঁধে রেখে মারপিট করেছেন। সেলিম রেজাকে উদ্ধারের পর তিনি মারপিটকারী ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন