মুদি দোকানির এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা!
jugantor
মুদি দোকানির এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা!

  মো. রইছ উদ্দিন, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

১২ মার্চ ২০২১, ১৬:৩১:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

হেলাল উদ্দিন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে হেলাল উদ্দিন নামের এক মুদি দোকানির এক মাসে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩২৭ টাকার বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

হেলালের মতো আর অনেকেরই ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল করেছে গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে শুক্রবার সকালে এ প্রতিবেদক উপজলোর কোনাপাড়া গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে যান।

এ সময় হেলাল যুগান্তরকে জানান, পেশায় তিনি একজন মুদি দোকানি। তার ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩২৭ টাকা।

তিনি আরও জানান, অক্টোবর মাসেও বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৮ হাজার ১১৪টাকা, ইউনিট ছিল ১২ হাজার ৯৬০। এক মাস পর নভেম্বর মাসে হঠাৎ করে মিটারে রিডিং ৯৩ হাজার ৮১৪ ইউনিট উঠে যায়।

ভুক্তভোগী হেলাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করেও আমি প্রতিকার পাচ্ছি না। মিটারের এ রিডিংয়ের বিপরীতে বিদ্যুৎ বিভাগ ৯ হাজার ২৪ হাজার ৩২৭ টাকার বিদ্যুৎ বিল করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী যুগান্তরকে জানান, হেলালের সাড়ে ৭ শতাংশের বাড়িভিটে আর কদমতলী বাজারের তিনটি দোকান বিক্রি করে দিলেও এ বিল দেওয়ার সামর্থ্য নেই। অভাবের কারণে হেলালের এক ছেলের লেখাপড়া বন্ধ, সে এখন রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসাবে কাজ করছে। এক মেয়ে স্থানীয় ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদরাসায় পড়ে আর ছোট ছেলে রিফাত মিয়া কোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের জন্য অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে তিন বেলার খাবারও জুটছে না হেলালের।

হেলালের স্ত্রী নারগিস আক্তার জানান, বিদ্যুৎ বিলের চিন্তায় তার স্বামী রাতে ঘুমাতেও পারছেন না। দুশ্চিন্তায় শারীরিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে।

একই রকম অভিযোগ পাওয়া যায় পৌর শহরের গোলকপুর গ্রামে। এ গ্রামের মুদি দোকানি শিরিনা আক্তারেরও এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৭৫ হাজার টাকা এসেছে।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের এ অত্যাচার থেকে বাঁচতে বিভিন্ন স্থানে বিচার প্রার্থী হয়েছি, ঘুরেছি, কেউ সহযোগিতা করেনি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি।

‘ভুতুড়ে’ বিল প্রসঙ্গে আবাসিক প্রকৌশলী বিদ্যুৎ নিরঞ্জন কুন্ড বলেন, গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মিটার পরীক্ষা করা হয়েছে। মিটার সঠিক থাকায় বিল করে দেওয়া হয়েছে।

মুদি দোকানির এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা!

 মো. রইছ উদ্দিন, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
১২ মার্চ ২০২১, ০৪:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হেলাল উদ্দিন
হেলাল উদ্দিন। ছবি-যুগান্তর

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে হেলাল উদ্দিন নামের এক মুদি দোকানির এক মাসে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩২৭ টাকার বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

হেলালের মতো আর অনেকেরই ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল করেছে গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। 

সরেজমিনে শুক্রবার সকালে এ প্রতিবেদক উপজলোর কোনাপাড়া গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে যান। 

এ সময় হেলাল যুগান্তরকে জানান, পেশায় তিনি একজন মুদি দোকানি। তার ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩২৭ টাকা। 

তিনি আরও জানান, অক্টোবর মাসেও বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৮ হাজার ১১৪টাকা, ইউনিট ছিল ১২ হাজার ৯৬০। এক মাস পর নভেম্বর মাসে হঠাৎ করে মিটারে রিডিং ৯৩ হাজার ৮১৪ ইউনিট উঠে যায়। 

ভুক্তভোগী হেলাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করেও আমি প্রতিকার পাচ্ছি না। মিটারের এ রিডিংয়ের বিপরীতে বিদ্যুৎ বিভাগ ৯ হাজার ২৪ হাজার ৩২৭ টাকার বিদ্যুৎ বিল করে দিয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী যুগান্তরকে জানান, হেলালের সাড়ে ৭ শতাংশের বাড়িভিটে আর কদমতলী বাজারের তিনটি দোকান বিক্রি করে দিলেও এ বিল দেওয়ার সামর্থ্য নেই। অভাবের কারণে হেলালের এক ছেলের লেখাপড়া বন্ধ, সে এখন রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসাবে কাজ করছে। এক মেয়ে স্থানীয় ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদরাসায় পড়ে আর ছোট ছেলে রিফাত মিয়া কোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। 

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের জন্য অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে তিন বেলার খাবারও জুটছে না হেলালের। 

হেলালের স্ত্রী নারগিস আক্তার জানান, বিদ্যুৎ বিলের চিন্তায় তার স্বামী রাতে ঘুমাতেও পারছেন না। দুশ্চিন্তায় শারীরিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। 

একই রকম অভিযোগ পাওয়া যায় পৌর শহরের গোলকপুর গ্রামে। এ গ্রামের মুদি দোকানি শিরিনা আক্তারেরও এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৭৫ হাজার টাকা এসেছে। 

তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের এ অত্যাচার থেকে বাঁচতে বিভিন্ন স্থানে বিচার প্রার্থী হয়েছি, ঘুরেছি, কেউ সহযোগিতা করেনি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি।

‘ভুতুড়ে’ বিল প্রসঙ্গে আবাসিক প্রকৌশলী বিদ্যুৎ নিরঞ্জন কুন্ড বলেন, গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মিটার পরীক্ষা করা হয়েছে। মিটার সঠিক থাকায় বিল করে দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন