ব্যাংক কর্মকর্তার চোখের সামনেই পুড়ে মারা গেলেন বাবা! (ভিডিও)
jugantor
ব্যাংক কর্মকর্তার চোখের সামনেই পুড়ে মারা গেলেন বাবা! (ভিডিও)

  অনলাইন ডেস্ক  

১৩ মার্চ ২০২১, ০০:৩৮:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

দেখতে দেখতে ছেলের চোখের সামনে আগুনে পুড়ে মারা যান। অনেক আকুতি ও চেষ্টা করে মা, স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জনকে বাঁচাতে পারলেও বাবাকে বাঁচাতে পারেননি ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা উজ্জ্বল মিয়া। তার চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে মারা যান বাবা রফিকুল ইসলাম।

কুমিল্লার গৌরীপুরে বাসে অগ্নিকাণ্ডে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে মারা যান দাউদকান্দি উপজেলার তিনপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৬৫) ও বন্যাকান্দি গ্রামের সাইফুলের পুত্র শাফিন (৫) নিহত হয়। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মো. উজ্জ্বল মিয়াযমুনা টিভিকে জানান, পুড়ে যাওয়া বাসটিতে ছিলেন তিনিসহ পরিবারের আট সদস্য। কিন্তু বাবা রফিকুল ইসলাম ছাড়া অন্য সবাইকে তিনি নিজেই উদ্ধার করেছেন। বাঁচানো যায়নি বাবাকে।

যমুনা টিভিকে তিনি বলেন, এক এক করে সবাইকে নামানোর পর মাকে বাস থেকে নামায়। এর পর পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। বাবাকে দেখলাম সিটের ওপর পড়ে যেতে। সেখানেই তিনি পুড়ে মারা যান। আমার আর কিছু করার ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বাকি দুই মেয়ে ও স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

উজ্জ্বল বলেন, একদিকে আমার বড় মেয়েটা বলছিল, ‘বাবা, আমাকে বাঁচাও’। অন্যদিকে আমার বাবা পুড়ে যাচ্ছিল। আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি। আমার কিছুই করার ছিল না। মেয়েকে জানালা নিয়ে নামাতে পেরেছি। তবে বাবাকে আর বাঁচাতে পারলাম না।

এদিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, সোমবার রাতে ৮টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত দগ্ধ ১৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে দুই পরিবারের ১১ জন রয়েছেন। এক পরিবারের তিনজন ও অন্য পরিবারের ৮ জন রয়েছেন।

ভর্তি হওয়া দগ্ধরা হলেন গোলাম হোসেন (৭৫), তার নাতনি সানজানা (১৩) মেয়ে শাহিনুর (৩২)। এছাড়া অন্য দগ্ধরা হলেন মিজান তালুকদার (৪৫) ওমর ফারুক (৫১)।শামছুন নাহার (৬৫ ) নুরুল ইসলাম(৭৫), মুগদা জেনারেল হাসপাতালের নার্স মহাসিনা (৩৮), তাহিয়া (১০), তাসফিয়া (৬), আবদুর রহিম (৬০), হালিমা খাতুন (৬১), উজ্জ্বল মিয়াসহ (৪০), মুনসুর আহমেদ (২৩)।

বাস থেকে জানালা দিয়ে বেঁচে আসা শাহিনুর জানিয়েছেন, ঢাকার আরামবাগ থেকে মতলব যাওয়ার পথে গৌরীপুরে এলাকায় ঘটনা। তার দাবি পুরো ঘটনাটির জন্য চালকই দায়ী। তিনি সিটিংয়ের চেয়ে বেশি লোক উঠিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মামুন খান জানিয়েছেন, ১৩ জন রোগীর মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক। তার শরীরের ৩১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে গোলাম হোসেন (৭৫) ।

বাকিদের শরীরের ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। তাদের কাউকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হবে, কাউকে অবজারভেশনে রাখা হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তার চোখের সামনেই পুড়ে মারা গেলেন বাবা! (ভিডিও)

 অনলাইন ডেস্ক 
১৩ মার্চ ২০২১, ১২:৩৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেখতে দেখতে ছেলের চোখের সামনে আগুনে পুড়ে মারা যান। অনেক আকুতি ও চেষ্টা করে মা, স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জনকে বাঁচাতে পারলেও বাবাকে বাঁচাতে পারেননি ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা উজ্জ্বল মিয়া। তার চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে মারা যান বাবা রফিকুল ইসলাম।

কুমিল্লার গৌরীপুরে বাসে অগ্নিকাণ্ডে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে মারা যান দাউদকান্দি উপজেলার তিনপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৬৫) ও বন্যাকান্দি গ্রামের সাইফুলের পুত্র শাফিন (৫) নিহত হয়। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মো. উজ্জ্বল মিয়া যমুনা টিভিকে জানান, পুড়ে যাওয়া বাসটিতে ছিলেন তিনিসহ পরিবারের আট সদস্য। কিন্তু বাবা রফিকুল ইসলাম ছাড়া অন্য সবাইকে তিনি নিজেই উদ্ধার করেছেন। বাঁচানো যায়নি বাবাকে।

যমুনা টিভিকে তিনি বলেন, এক এক করে সবাইকে নামানোর পর মাকে বাস থেকে নামায়। এর পর পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। বাবাকে দেখলাম সিটের ওপর পড়ে যেতে। সেখানেই তিনি পুড়ে মারা যান। আমার আর কিছু করার ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বাকি দুই মেয়ে ও স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

উজ্জ্বল বলেন, একদিকে আমার বড় মেয়েটা বলছিল, ‘বাবা, আমাকে বাঁচাও’। অন্যদিকে আমার বাবা পুড়ে যাচ্ছিল। আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি। আমার কিছুই করার ছিল না। মেয়েকে জানালা নিয়ে নামাতে পেরেছি। তবে বাবাকে আর বাঁচাতে পারলাম না।

এদিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, সোমবার রাতে ৮টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত দগ্ধ ১৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে দুই পরিবারের ১১ জন রয়েছেন। এক পরিবারের তিনজন ও অন্য পরিবারের ৮ জন রয়েছেন।

ভর্তি হওয়া দগ্ধরা হলেন গোলাম হোসেন (৭৫), তার নাতনি সানজানা (১৩) মেয়ে শাহিনুর (৩২)। এছাড়া অন্য দগ্ধরা হলেন মিজান তালুকদার  (৪৫) ওমর ফারুক (৫১)।শামছুন নাহার (৬৫ ) নুরুল ইসলাম(৭৫), মুগদা জেনারেল হাসপাতালের নার্স মহাসিনা (৩৮), তাহিয়া (১০), তাসফিয়া (৬), আবদুর রহিম (৬০), হালিমা খাতুন (৬১), উজ্জ্বল মিয়াসহ (৪০),  মুনসুর আহমেদ (২৩)।

বাস থেকে জানালা দিয়ে বেঁচে আসা শাহিনুর জানিয়েছেন, ঢাকার আরামবাগ থেকে মতলব যাওয়ার পথে গৌরীপুরে এলাকায় ঘটনা। তার দাবি পুরো ঘটনাটির জন্য চালকই দায়ী। তিনি সিটিংয়ের চেয়ে বেশি লোক উঠিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মামুন খান জানিয়েছেন, ১৩ জন রোগীর মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক।  তার শরীরের ৩১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে গোলাম হোসেন (৭৫) । 

বাকিদের শরীরের ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। তাদের কাউকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হবে, কাউকে অবজারভেশনে রাখা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন