সাতছড়িতে মিলল বিপন্ন কালো মথুরা
jugantor
সাতছড়িতে মিলল বিপন্ন কালো মথুরা

  চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১৪ মার্চ ২০২১, ২২:০৮:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পাওয়া গেল বিপন্ন প্রজাতির কালো মথুরা বা Kalij pheasant। সৌখিন ফটোগ্রাফার হারিস দেববর্মার ক্যামেরায় চলতি সপ্তাহে এ মথুরা ধরা পড়ে।

পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের একমাত্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ও লাউয়াছড়া চিরহরিৎ বনে মাঝে মধ্যে মথুরা দেখতে পাওয়া যায়।

কালো মথুরা বৈজ্ঞানিক নাম Lophura leucomelanos, ইংরেজি নাম Black Francolin। কালা মথুরা, কালো ময়ূর বা শুধুই মথুরা Phasianidae (ফ্যাসিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Lophura (লোফুরা) এক প্রজাতির পাখি। কালো মথুরা কালচে ভূচর পাখি। আইইউসিএনের তালিকায় পৃথিবীর বিপন্ন পাখির মধ্যে এটি অন্যতম। মথুরার ৯টি প্রজাতির মধ্যে এটি L. l. lathami (J.E. Graz, 1829) পূর্ব ভুটান, বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারত হয়ে মিয়ানমার এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত প্রজাতি। কালো মথুরার মূল আবাস বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বনভূমি। তবে এখন তারা বিপন্ন।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পাখি বিশেষজ্ঞ ইকবাল হোসেন বলেন, কালো মথুরার দৈর্ঘ্য কমবেশি ৬২ সেন্টিমিটার, ডানা ২২ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ৩.৫ সেন্টিমিটার, পা ৭.৫ সেন্টিমিটার, লেজ ২৩ সেন্টিমিটার ও ওজন ১.৩ কেজি। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। পুরুষ মথুরার পিঠ উজ্জ্বল নীল ও কালোয় মেশানো। কোমর ও পেছনের পালকের প্রান্ত সাদা। মাথার চূড়ার পালক খাড়া ও পেছনমুখী।

মুখ পালকহীন, মুখের চামড়া ও গলায় ঝুলন্ত লতিকা উজ্জ্বল লাল। দেহতলে পুরো কালো রঙের ওপর ইস্পাত-নীল ও বেগুনী চাকচিক্য। স্ত্রী মথুরার দেহে অনুজ্জ্বল বাদামি পালকের ধূসর প্রান্ত আঁশের মতো দেখায়। মাথার চূড়া ও লেজের পালক প্রায় বাদামি। গলা পীতাভ-বাদামি। কোমর ও পায়ের পালকের প্রান্তদেশ ফিকে। চোখের আশপাশের অল্প একটু অংশ পালকহীন ও উজ্জ্বল লাল।

স্ত্রী ও পুরুষ মথুরার উভয়ের চোখ পিঙ্গল থেকে কমলা-বাদামি। উভয়ের লেজ মোরগের লেজের মতো। ঠোঁট সবুজাভ ও শিঙ-বর্ণের ঠোঁটের গোড়া কালচে ও আগা ফিকে। পা ও পায়ের পাতা বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি দেখতে প্রায় স্ত্রী মথুরার মতো, তবে পিঠে কালচে-বাদামি ও পীতাভ ডোরা দেখা যায়।

হারিস দেববর্মা বলেন, গত সপ্তাহে তিনি সাতছড়ি বনে এ মথুরা দেখতে পান এবং ছবি তুলতে সক্ষম হন। কালো মথুরা বনের প্রান্তে ও বনসংলগ্ন খোলা জায়গায় বিচরণ করে। সাতছড়িতে ৭ থেকে ৮ জোড়া মথুরা তারা দেখতে পেয়েছেন।

সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় বা পারিবারিক ছোট দলে থাকে। মাটিতে ঘুরে ঘুরে খাবার খুঁজে বেড়ায়। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে বাঁশবীজ, ডুমুর, বটফল, পিঁপড়া, উইপোকা, ছোট সাপ ও গিরগিটি; যা সাতছড়িতে ব্যাপক হারে পাওয়া যায়। ভোরে ও গোধূলিতে এরা বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলা গাছের নিচু ডালে বিশ্রাম নেয়। সকাল ও সন্ধ্যায় নিচু স্বরে মুরগির মতো ডাকে। এরা খুব লাজুক পাখি, মানুষের আনাগোনা টের পেলে দ্রুত লুকিয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত মার্চ থেকে অক্টোবর এদের প্রধান প্রজনন ঋতু। এ সময় পুরুষ কালো মথুরার ডাকাডাকি বেড়ে যায়। স্ত্রী মথুরা ঘন ঝোপের নিচে নখ দিয়ে মাটি আঁচড় পাথর, লতাপাতা বা ঘাসের গোছা দিয়ে বাসা বানায়। বাসা বানানো শেষে ৬-৯টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো ফিকে-পীতাভ বা পীতাভ-সাদা থেকে লালচে পীত বর্ণের হয়। ডিমের মাপ ৪.৯ ও ৩.৭ সেন্টিমিটার। স্ত্রী মথুরা একাই ডিমে তা দেয়। ২০-২১ দিনে ডিম ফোটে।

সাতছড়িতে মিলল বিপন্ন কালো মথুরা

 চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১৪ মার্চ ২০২১, ১০:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পাওয়া গেল বিপন্ন প্রজাতির কালো মথুরা বা Kalij pheasant। সৌখিন ফটোগ্রাফার হারিস দেববর্মার ক্যামেরায় চলতি সপ্তাহে এ মথুরা ধরা পড়ে।

পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের একমাত্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ও লাউয়াছড়া চিরহরিৎ বনে মাঝে মধ্যে মথুরা দেখতে পাওয়া যায়।

কালো মথুরা বৈজ্ঞানিক নাম Lophura leucomelanos, ইংরেজি নাম Black Francolin। কালা মথুরা, কালো ময়ূর বা শুধুই মথুরা Phasianidae (ফ্যাসিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Lophura (লোফুরা) এক প্রজাতির পাখি। কালো মথুরা কালচে ভূচর পাখি। আইইউসিএনের তালিকায় পৃথিবীর বিপন্ন পাখির মধ্যে এটি অন্যতম। মথুরার ৯টি প্রজাতির মধ্যে এটি L. l. lathami (J.E. Graz, 1829) পূর্ব ভুটান, বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারত হয়ে মিয়ানমার এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত প্রজাতি। কালো মথুরার মূল আবাস বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বনভূমি। তবে এখন তারা বিপন্ন।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পাখি বিশেষজ্ঞ ইকবাল হোসেন বলেন, কালো মথুরার দৈর্ঘ্য কমবেশি ৬২ সেন্টিমিটার, ডানা ২২ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ৩.৫ সেন্টিমিটার, পা ৭.৫ সেন্টিমিটার, লেজ ২৩ সেন্টিমিটার ও ওজন ১.৩ কেজি। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। পুরুষ মথুরার পিঠ উজ্জ্বল নীল ও কালোয় মেশানো। কোমর ও পেছনের পালকের প্রান্ত সাদা। মাথার চূড়ার পালক খাড়া ও পেছনমুখী।

মুখ পালকহীন, মুখের চামড়া ও গলায় ঝুলন্ত লতিকা উজ্জ্বল লাল। দেহতলে পুরো কালো রঙের ওপর ইস্পাত-নীল ও বেগুনী চাকচিক্য। স্ত্রী মথুরার দেহে অনুজ্জ্বল বাদামি পালকের ধূসর প্রান্ত আঁশের মতো দেখায়। মাথার চূড়া ও লেজের পালক প্রায় বাদামি। গলা পীতাভ-বাদামি। কোমর ও পায়ের পালকের প্রান্তদেশ ফিকে। চোখের আশপাশের অল্প একটু অংশ পালকহীন ও উজ্জ্বল লাল।

স্ত্রী ও পুরুষ মথুরার উভয়ের চোখ পিঙ্গল থেকে কমলা-বাদামি। উভয়ের লেজ মোরগের লেজের মতো। ঠোঁট সবুজাভ ও শিঙ-বর্ণের ঠোঁটের গোড়া কালচে ও আগা ফিকে। পা ও পায়ের পাতা বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি দেখতে প্রায় স্ত্রী মথুরার মতো, তবে পিঠে কালচে-বাদামি ও পীতাভ ডোরা দেখা যায়।

হারিস দেববর্মা বলেন, গত সপ্তাহে তিনি সাতছড়ি বনে এ মথুরা দেখতে পান এবং ছবি তুলতে সক্ষম হন। কালো মথুরা বনের প্রান্তে ও বনসংলগ্ন খোলা জায়গায় বিচরণ করে। সাতছড়িতে ৭ থেকে ৮ জোড়া মথুরা তারা দেখতে পেয়েছেন। 

সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় বা পারিবারিক ছোট দলে থাকে। মাটিতে ঘুরে ঘুরে খাবার খুঁজে বেড়ায়। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে বাঁশবীজ, ডুমুর, বটফল, পিঁপড়া, উইপোকা, ছোট সাপ ও গিরগিটি; যা সাতছড়িতে ব্যাপক হারে পাওয়া যায়। ভোরে ও গোধূলিতে এরা বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলা গাছের নিচু ডালে বিশ্রাম নেয়। সকাল ও সন্ধ্যায় নিচু স্বরে মুরগির মতো ডাকে। এরা খুব লাজুক পাখি, মানুষের আনাগোনা টের পেলে দ্রুত লুকিয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত মার্চ থেকে অক্টোবর এদের প্রধান প্রজনন ঋতু। এ সময় পুরুষ কালো মথুরার ডাকাডাকি বেড়ে যায়। স্ত্রী মথুরা ঘন ঝোপের নিচে নখ দিয়ে মাটি আঁচড় পাথর, লতাপাতা বা ঘাসের গোছা দিয়ে বাসা বানায়। বাসা বানানো শেষে ৬-৯টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো ফিকে-পীতাভ বা পীতাভ-সাদা থেকে লালচে পীত বর্ণের হয়। ডিমের মাপ ৪.৯ ও ৩.৭ সেন্টিমিটার। স্ত্রী মথুরা একাই ডিমে তা দেয়। ২০-২১ দিনে ডিম ফোটে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন