আমতলীতে ১৪৪ ধারা জারি
jugantor
আমতলীতে ১৪৪ ধারা জারি

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

১৫ মার্চ ২০২১, ২০:১৫:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই প্রার্থী একই স্থান গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সভা আহ্বান করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান সোমবার দুপুরে এ আদেশ জারি করেন। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ ১৪৪ ধারা বলবত থাকবে।

জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ১১ এপ্রিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ গত ৬ মার্চ তৃণমূল সভা আহ্বান করে। ওই সভায় বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ৪৬ ভোট পেয়ে প্রথম হন। কিন্তু তিনি দলীয় নীতিনির্ধারণী সভায় মনোনয়ন বঞ্চিত হন।

গত ১০ বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নুরুল ইসলাম ইউনিয়নের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে যান। তার এ মনোনয়ন বঞ্চিতের খবর তার সমর্থকরা মেনে নিতে পারেনি। সোমবার বিকালে ইউনিয়নের গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার সমর্থকদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আহ্বান করে। এ নিয়ে রোববার বিকালে মাইকিং করা হয়।

এদিকে সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এইচএম মনিরুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ইউনিয়ন যুবলীগ ও তার সমর্থকরা একই স্থানে সভা আহ্বান করে। ওই সভা সফল করতে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি কামাল হোসেন মৃধার নামে সোমবার দুপুরে মাইকিং করা হয়।

একই স্থানে দুই প্রার্থী সভা আহ্বান করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠসহ তার আশপাশের ২০০ গজের মধ্যে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. কামাল হোসেন মৃধা বলেন, অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় সোমবার বিকাল ৩টায় গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন যুবলীগ সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তবে আমরা অন্যত্র এ সভা করব।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এইচএম মনিরুল ইসলাম মনি বর্তমান চেয়ারম্যানের সভা পণ্ড করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় আমাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ইউনিয়ন যুবলীগ গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে। ওই একই স্থানে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম পাল্টা সভার আয়োজন করেছে। এ বিষয়টি আমি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। প্রশাসন সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমার সভা স্থগিত করেছি।

বর্তমান চেয়ারম্যান ও গুলিশাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকাল ৩টায় গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আমার কর্মী-সমর্থকরা এক মতবিনিময় সভার আহ্বান করে। ওই সভাকে সফল করতে রোববার বিকালে মাইকিং করা হয়। আমার এ মাইকিং শুনে আমার সভা পণ্ড করতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এইচএম মনিরুল ইসলাম মনি ইউনিয়ন যুবলীগের নামে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেছে; যা অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় আমি ওই স্থানের সভা স্থগিত করেছি।

আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী স্কুল মাঠে দুই প্রার্থী সভা আহ্বান করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছি। তিনি ওই স্থানে উভয় পক্ষের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দুই প্রার্থী একই স্থানে সভা আহ্বান করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও তার আশপাশের ২০০ গজের সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আমতলীতে ১৪৪ ধারা জারি

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
১৫ মার্চ ২০২১, ০৮:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই প্রার্থী একই স্থান গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সভা আহ্বান করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান সোমবার দুপুরে এ আদেশ জারি করেন। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ ১৪৪ ধারা বলবত থাকবে।
 
জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ১১ এপ্রিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ গত ৬ মার্চ তৃণমূল সভা আহ্বান করে। ওই সভায় বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ৪৬ ভোট পেয়ে প্রথম হন। কিন্তু তিনি দলীয় নীতিনির্ধারণী সভায় মনোনয়ন বঞ্চিত হন।

গত ১০ বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নুরুল ইসলাম ইউনিয়নের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে যান। তার এ মনোনয়ন বঞ্চিতের খবর তার সমর্থকরা মেনে নিতে পারেনি। সোমবার বিকালে ইউনিয়নের গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার সমর্থকদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আহ্বান করে। এ নিয়ে রোববার বিকালে মাইকিং করা হয়।

এদিকে সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এইচএম মনিরুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ইউনিয়ন যুবলীগ ও তার সমর্থকরা একই স্থানে সভা আহ্বান করে। ওই সভা সফল করতে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি কামাল হোসেন মৃধার নামে সোমবার দুপুরে মাইকিং করা হয়।

একই স্থানে দুই প্রার্থী সভা আহ্বান করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠসহ তার আশপাশের ২০০ গজের মধ্যে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান। 

গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. কামাল হোসেন মৃধা বলেন, অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় সোমবার বিকাল ৩টায় গোজখালী  মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন যুবলীগ সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তবে আমরা অন্যত্র এ সভা করব।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এইচএম মনিরুল ইসলাম মনি বর্তমান চেয়ারম্যানের সভা পণ্ড করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় আমাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ইউনিয়ন যুবলীগ গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে। ওই একই স্থানে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম পাল্টা সভার আয়োজন করেছে। এ বিষয়টি আমি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। প্রশাসন সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমার সভা স্থগিত করেছি।

বর্তমান চেয়ারম্যান ও গুলিশাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকাল ৩টায় গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আমার কর্মী-সমর্থকরা এক মতবিনিময় সভার আহ্বান করে। ওই সভাকে সফল করতে রোববার বিকালে মাইকিং করা হয়। আমার এ মাইকিং শুনে আমার সভা পণ্ড করতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এইচএম মনিরুল ইসলাম মনি ইউনিয়ন যুবলীগের নামে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেছে; যা অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় আমি ওই স্থানের সভা স্থগিত করেছি।

আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী স্কুল মাঠে দুই প্রার্থী সভা আহ্বান করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছি। তিনি ওই স্থানে উভয় পক্ষের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দুই প্রার্থী একই স্থানে সভা আহ্বান করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও তার আশপাশের ২০০ গজের সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন