ধর্ষণের পর নার্গিসকে গলাটিপে হত্যা করে সাবেক স্বামী
jugantor
ধর্ষণের পর নার্গিসকে গলাটিপে হত্যা করে সাবেক স্বামী

  যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল   

১৫ মার্চ ২০২১, ২২:৪১:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে নার্গিসকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করে সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান। পরে তার লাশ ধানক্ষেতে ফেলে রেখে মনিরুজ্জামান পালিয়ে যায়।

ঘটনার দেড় বছর পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে রোববার আদালতে জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান এ কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার নেকিপাড়া গ্রামের মো. নাসির উদ্দিনের মেয়ে নার্গিস ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। দুই দিন পর তাদের বাড়ির উত্তর পাশে একটি ধানক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে। পরে এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।

পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ঘটনার সঙ্গে নার্গিসের সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান জড়িত থাকার বিষয়টি চিহ্নিত করে। গত শনিবার মনিরুজ্জামানকে তার বাড়ি ধনবাড়ী উপজেলার কান্দিপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মনিরুজ্জামান নার্গিসকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতে জবানবন্দি দিতেও রাজি হন।

রোববার টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, তার সঙ্গে নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে, পরে তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। ফলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। মনিরুজ্জামান পরে আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর নার্গিসের সঙ্গে আবার যোগাযোগ হয়। নার্গিস তাকে জানায় আগের স্ত্রীকে তালাক দিলে পুনরায় বিয়ে করবে।

তিনি জানান, নার্গিসের কথামতো মনিরুজ্জামান দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন। ঘটনার দিন মনিরুজ্জামান নার্গিসদের বাড়িতে যান। সেখানে তাকে একা পেয়ে এক দফা ধর্ষণ করেন। পরে দ্বিতীয়বার ধর্ষণের চেষ্টা করলে নার্গিস বাধা দেন। তখন নার্গিসের গলা চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নার্গিস মারা যান। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নার্গিসের গলায় ওড়না শক্ত করে পেঁচিয়ে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান মনিরুজ্জামান।

ঘটনার পর মনিরুজ্জামান এলাকা ছেড়ে পালিয়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপন অবস্থায় আবার বিয়ে করেন।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম মনিরুজ্জামানের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ধর্ষণের পর নার্গিসকে গলাটিপে হত্যা করে সাবেক স্বামী

 যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল  
১৫ মার্চ ২০২১, ১০:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে নার্গিসকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করে সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান। পরে তার লাশ ধানক্ষেতে ফেলে রেখে মনিরুজ্জামান পালিয়ে যায়।

ঘটনার দেড় বছর পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে রোববার আদালতে জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান এ কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার নেকিপাড়া গ্রামের মো. নাসির উদ্দিনের মেয়ে নার্গিস ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। দুই দিন পর তাদের বাড়ির উত্তর পাশে একটি ধানক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে। পরে এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।

পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ঘটনার সঙ্গে নার্গিসের সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান জড়িত থাকার বিষয়টি চিহ্নিত করে। গত শনিবার মনিরুজ্জামানকে তার বাড়ি ধনবাড়ী উপজেলার কান্দিপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মনিরুজ্জামান নার্গিসকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতে জবানবন্দি দিতেও রাজি হন।

রোববার টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, তার সঙ্গে নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে, পরে তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। ফলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। মনিরুজ্জামান পরে আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর নার্গিসের সঙ্গে আবার যোগাযোগ হয়। নার্গিস তাকে জানায় আগের স্ত্রীকে তালাক দিলে পুনরায় বিয়ে করবে।

তিনি জানান, নার্গিসের কথামতো মনিরুজ্জামান দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন। ঘটনার দিন মনিরুজ্জামান নার্গিসদের বাড়িতে যান। সেখানে তাকে একা পেয়ে এক দফা ধর্ষণ করেন। পরে দ্বিতীয়বার ধর্ষণের চেষ্টা করলে নার্গিস বাধা দেন। তখন নার্গিসের গলা চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নার্গিস মারা যান। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নার্গিসের গলায় ওড়না শক্ত করে পেঁচিয়ে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান মনিরুজ্জামান।

ঘটনার পর মনিরুজ্জামান এলাকা ছেড়ে পালিয়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপন অবস্থায় আবার বিয়ে করেন।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম মনিরুজ্জামানের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন