গৃহবধূর কাছে লাখ টাকা দাবি, না দিলে মামলায় জড়ানোর হুমকি এএসআইয়ের
jugantor
গৃহবধূর কাছে লাখ টাকা দাবি, না দিলে মামলায় জড়ানোর হুমকি এএসআইয়ের

  নোয়াখালী প্রতিনিধি  

১৯ মার্চ ২০২১, ১৮:৪৫:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জিরাতলীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক ও স্থানীয় গৃহবধূ আরজু বেগমের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেছেন বেগমগঞ্জ থানার এএসআই শাকিদুল ইসলাম। তা না হলে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করে অস্ত্র ও মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছেন।

এছাড়া এএসআই শাকিদুল ইসলাম একই বাড়ির আরেক গৃহবধূকে রাতের মধ্যে থানায় দেখা না করলে ভোরে এসে তাকেও গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর গৃহবধূ আরজু বেগম পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় বেগমগঞ্জ থানার শাকিল দারোগা পরিচয়ে দুইজন পুলিশ সদস্যসহ তার বাড়িতে যান। শাকিল দারোগা তাকে বলেন- পাশের বাড়ির মনা তাকে পাঠিয়েছেন। মনার পাওনা ৪ লাখ টাকা নেয়ার জন্য।

আরজু বেগম তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন কিসের টাকা? মনাকে আসতে বলেন। তখন দারোগা শাকিল হম্বিতম্বি করেন। তাকে থানায় যেতে বলেন।

এরপর ১৫ মার্চ রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে আরজু বেগমের মোবাইলে ফোন করে থানায় না যাওয়ায় খুব গালমন্দ করেন। পরে বলেন- তাকে (এএসআই শাকিদুল) এক লাখ টাকা দিলে আর কিছু হবে না। আর না দিলে আরজু ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে বেঁধে নিয়ে মাদক ও অস্ত্র মামলায় চালান দেবেন। ওই সময় এএসআই শাকিদুল ফোনে আরজুকে আরও বলেন- একই বাড়ির গৃহবধূ জাহানারাকে রাতের মধ্যে থানায় পাঠাতে। না হলে ভোরে এসে তাকেও ধরে নিয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আরজু বেগম মোবাইলে যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরজুর স্বামী আবুল কাশেম জানান, তিনি দীর্ঘ দেড় যুগ প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে তার এক ছেলে প্রবাসে, আরেক ছেলে উচ্চপদে চাকরি করেন। তিনি আদালতে ও থানায় খবর নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা নাই। তারপরও কারও প্ররোচনায় ওই দারোগা আমাদের হয়রানি করছেন। আমরা পুলিশের উচ্চমহলে যোগাযোগ করলে আমাদের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিতে বলায় আমার স্ত্রী অভিযোগ দিয়েছেন। এখানে বিচার না পেলে আদালতে যেতে বাধ্য হবেন বলে তিনি জানান।

এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, এএসআই শাকিদুল নিজেকে এসআই শাকিল পরিচয়ে চন্দ্রগঞ্জ, ফেনাঘাটা, রাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের সহায়তা করে আর্থিক লাভবান হচ্ছেন। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি প্রবাসী পরিবারকে টার্গেট করে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তার ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না।

এ ব্যাপারে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, তিনি আরজু বেগমের অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত শুরু করেছেন। পুলিশ অন্যায় ও দুর্নীতির ব্যাপার জিরো টলারেন্স।

এ ব্যাপারে এএসআই শাকিদুলের মোবাইলে ফোন করলে এই প্রতিনিধির সঙ্গেও তিনি দারোগা শাকিল নামেই পরিচয় দেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম কত অভিযোগ আসে যায়। এসব তো পান্তা-ইলিশ।

গৃহবধূর কাছে লাখ টাকা দাবি, না দিলে মামলায় জড়ানোর হুমকি এএসআইয়ের

 নোয়াখালী প্রতিনিধি 
১৯ মার্চ ২০২১, ০৬:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জিরাতলীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক ও স্থানীয় গৃহবধূ আরজু বেগমের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেছেন বেগমগঞ্জ থানার এএসআই  শাকিদুল ইসলাম। তা না হলে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করে অস্ত্র ও মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছেন।

এছাড়া এএসআই  শাকিদুল ইসলাম একই বাড়ির আরেক গৃহবধূকে রাতের মধ্যে থানায় দেখা না করলে ভোরে এসে তাকেও গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর গৃহবধূ আরজু বেগম পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় বেগমগঞ্জ থানার শাকিল দারোগা পরিচয়ে দুইজন পুলিশ সদস্যসহ তার বাড়িতে যান। শাকিল দারোগা তাকে বলেন- পাশের বাড়ির মনা তাকে পাঠিয়েছেন। মনার পাওনা ৪ লাখ টাকা নেয়ার জন্য।

আরজু বেগম তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন কিসের টাকা? মনাকে আসতে বলেন। তখন দারোগা শাকিল হম্বিতম্বি করেন। তাকে থানায় যেতে বলেন।

এরপর ১৫ মার্চ রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে আরজু বেগমের মোবাইলে ফোন করে থানায় না যাওয়ায় খুব গালমন্দ করেন। পরে বলেন- তাকে (এএসআই  শাকিদুল) এক লাখ টাকা দিলে আর কিছু হবে না। আর না দিলে আরজু ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে বেঁধে নিয়ে মাদক ও অস্ত্র মামলায় চালান দেবেন। ওই সময় এএসআই  শাকিদুল ফোনে আরজুকে আরও বলেন- একই বাড়ির গৃহবধূ জাহানারাকে রাতের মধ্যে থানায় পাঠাতে। না হলে ভোরে এসে তাকেও ধরে নিয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আরজু বেগম মোবাইলে যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরজুর স্বামী আবুল কাশেম জানান, তিনি দীর্ঘ দেড় যুগ প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে তার এক ছেলে প্রবাসে, আরেক ছেলে উচ্চপদে চাকরি করেন। তিনি আদালতে ও থানায় খবর নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা নাই। তারপরও কারও প্ররোচনায় ওই দারোগা আমাদের হয়রানি করছেন। আমরা পুলিশের উচ্চমহলে যোগাযোগ করলে আমাদের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিতে বলায় আমার স্ত্রী অভিযোগ দিয়েছেন। এখানে বিচার না পেলে আদালতে যেতে বাধ্য হবেন বলে তিনি জানান।

এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, এএসআই  শাকিদুল নিজেকে এসআই  শাকিল পরিচয়ে চন্দ্রগঞ্জ, ফেনাঘাটা, রাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের সহায়তা করে আর্থিক লাভবান হচ্ছেন। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি প্রবাসী পরিবারকে টার্গেট করে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তার ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না।

এ ব্যাপারে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, তিনি আরজু বেগমের অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত শুরু করেছেন। পুলিশ অন্যায় ও দুর্নীতির ব্যাপার জিরো টলারেন্স।

এ ব্যাপারে এএসআই  শাকিদুলের মোবাইলে ফোন করলে এই প্রতিনিধির সঙ্গেও তিনি দারোগা শাকিল নামেই পরিচয় দেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম কত অভিযোগ আসে যায়। এসব তো পান্তা-ইলিশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন