দক্ষিণাঞ্চলের ৮ রুটে বাস ধর্মঘট
jugantor
দক্ষিণাঞ্চলের ৮ রুটে বাস ধর্মঘট

  বরিশাল ব্যুরো ও ঝালকাঠি প্রতিনিধি  

২৩ মার্চ ২০২১, ১৭:২৯:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

মাহিন্দ্রা গাড়ি থেকে যাত্রী নামানোর ঘটনার সূত্র ধরে বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৮টি রুটে বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই বরিশাল-ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার ৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। আকস্মিক বাস ধর্মঘটের কারণে ঝালকাঠি-বরিশাল, ঝালকাঠি-ভাণ্ডারিয়া, বরিশাল-খুলনা, বরিশাল-পিরোজপুর, বরিশাল-মঠবাড়িয়া, বরিশাল-পাথরঘাটা এই ছয় রুটের যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে। দুর্ভোগের শিকার অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে যেতে না পেরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ভাড়ায় মোটরসাইকেলে যাচ্ছেন।

বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি ইমান আলী কালু জানান, সড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বরিশাল থেকে ঝালকাঠি রুটে কিছু দুষ্কৃতকারী থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রা চলাচল অব্যাহত রেখেছে। সোমবার ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি থ্রি-হুইলারে চেক বসালে বরিশাল রূপাতলীর বাসিন্দা সুমন মোল্লা নামে একজনের একটি মাহিন্দ্রা থেকে যাত্রী নামিয়ে রাখে বলে শুনেছি। সেই সূত্র ধরে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে মঙ্গলবার সকালে ঝালকাঠি রুটের সব বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেয়, শ্রমিকদের মারধর করে সুমন মোল্লা। এর প্রতিবাদে ঝালকাঠি মালিক সমিতি বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। আমরা রূপাতলী বাস মালিক সমিতি তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছি।

রূপাতলী বাস-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, সুমন মোল্লার অরাজকতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাকারীকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত ও সড়ক থেকে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

তবে অভিযুক্ত সুমন মোল্লা বলেন, বাস মালিক সমিতির লোকজনদের আমরা কেউ মারধর বা হামলা চালাইনি। বরং তারাই আমাদের মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের মারধর করেছে, গাড়ি আটকে রেখেছে। এই ক্ষোভে মাহিন্দ্রা শ্রমিকরা রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ঝালকাঠির একটি বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেয়।

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির লোকজনের মারধরের শিকার মাহিন্দ্রা চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠি রুটের সর্বশেষ বাস বিকাল সাড়ে ৬টায় রূপাতলী থেকে ছেড়ে যায়। আমি রূপাতলী থেকে সন্ধ্যা ৭টায় একজন রোগী নিয়ে রাজাপুর উপজেলার মিরেরহাট নামক স্থানের দিকে রওনা হই। সাড়ে ৭টার দিকে ষাটপাকিয়া স্থানে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির লোকজন মাহিন্দ্রা থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেয়। এ সময়ে তারা আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন।

নজরুল বলেন, শুধু আমি না এমন আরও অনেকের সঙ্গে অত্যাচার চালায় বাস মালিক সমিতি। আমরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাসস্ট্যান্ডে ঢুকে ঝালকাঠি রুটের একটি বাসের একটি চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। এর বেশি কিছু করিনি।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহাসড়কে বাস চলাচলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা না দেওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। রূপাতলীতে আজ বাস শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে, গাড়ির হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; ব্যাটারি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

নাসির উদ্দিন বলেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় ৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বেআইনি হলেও ঝালকাঠির আঞ্চলিক মহাসড়কে পুরোদমে চলছে অবৈধ মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এর প্রতিবাদ করলে মাহিন্দ্রা গাড়ির মালিক ও চালকরা বিভিন্ন সময় বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও বাসের যন্ত্রাংশ চুরি করে নেয়।

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহমুদ বাচ্চু বলেন, রুপাতলীর সুমন মোল্লা নামে এক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে আমাদের বাস ভাংচুর এবং শ্রমিকদের মারধর করা হয়। আমরা সুমন মোল্লার বিচার এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারসহ সব সরকারি দায়িত্বশীলদের কাছে আবেদন করেছি। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, বিষয়টির সঙ্গে বরিশাল রুপাতলী বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিকরা জড়িত। তাই বিভাগীয় কমিশনার এবং বরিশালের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে একটা মীমাংসার চেষ্টা করছি।

দক্ষিণাঞ্চলের ৮ রুটে বাস ধর্মঘট

 বরিশাল ব্যুরো ও ঝালকাঠি প্রতিনিধি 
২৩ মার্চ ২০২১, ০৫:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মাহিন্দ্রা গাড়ি থেকে যাত্রী নামানোর ঘটনার সূত্র ধরে বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৮টি রুটে বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই বরিশাল-ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার ৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। আকস্মিক বাস ধর্মঘটের কারণে ঝালকাঠি-বরিশাল, ঝালকাঠি-ভাণ্ডারিয়া, বরিশাল-খুলনা, বরিশাল-পিরোজপুর, বরিশাল-মঠবাড়িয়া, বরিশাল-পাথরঘাটা এই ছয় রুটের যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে। দুর্ভোগের শিকার অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে যেতে না পেরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ভাড়ায় মোটরসাইকেলে যাচ্ছেন।

বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি ইমান আলী কালু জানান, সড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বরিশাল থেকে ঝালকাঠি রুটে কিছু দুষ্কৃতকারী থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রা চলাচল অব্যাহত রেখেছে। সোমবার ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি থ্রি-হুইলারে চেক বসালে বরিশাল রূপাতলীর বাসিন্দা সুমন মোল্লা নামে একজনের একটি মাহিন্দ্রা থেকে যাত্রী নামিয়ে রাখে বলে শুনেছি। সেই সূত্র ধরে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে মঙ্গলবার সকালে ঝালকাঠি রুটের সব বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেয়, শ্রমিকদের মারধর করে সুমন মোল্লা। এর প্রতিবাদে ঝালকাঠি মালিক সমিতি বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। আমরা রূপাতলী বাস মালিক সমিতি তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছি।

রূপাতলী বাস-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, সুমন মোল্লার অরাজকতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাকারীকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত ও সড়ক থেকে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

তবে অভিযুক্ত সুমন মোল্লা বলেন, বাস মালিক সমিতির লোকজনদের আমরা কেউ মারধর বা হামলা চালাইনি। বরং তারাই আমাদের মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের মারধর করেছে, গাড়ি আটকে রেখেছে। এই ক্ষোভে মাহিন্দ্রা শ্রমিকরা রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ঝালকাঠির একটি বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেয়।

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির লোকজনের মারধরের শিকার মাহিন্দ্রা চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠি রুটের সর্বশেষ বাস বিকাল সাড়ে ৬টায় রূপাতলী থেকে ছেড়ে যায়। আমি রূপাতলী থেকে সন্ধ্যা ৭টায় একজন রোগী নিয়ে রাজাপুর উপজেলার মিরেরহাট নামক স্থানের দিকে রওনা হই। সাড়ে ৭টার দিকে ষাটপাকিয়া স্থানে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির লোকজন মাহিন্দ্রা থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেয়। এ সময়ে তারা আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন।

নজরুল বলেন, শুধু আমি না এমন আরও অনেকের সঙ্গে অত্যাচার চালায় বাস মালিক সমিতি। আমরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাসস্ট্যান্ডে ঢুকে ঝালকাঠি রুটের একটি বাসের একটি চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। এর বেশি কিছু করিনি।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহাসড়কে বাস চলাচলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা না দেওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। রূপাতলীতে আজ বাস শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে, গাড়ির হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; ব্যাটারি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

নাসির উদ্দিন বলেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় ৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল  বেআইনি হলেও ঝালকাঠির আঞ্চলিক মহাসড়কে পুরোদমে চলছে অবৈধ মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এর প্রতিবাদ করলে মাহিন্দ্রা গাড়ির মালিক ও চালকরা বিভিন্ন সময় বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও বাসের যন্ত্রাংশ চুরি করে নেয়।

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহমুদ বাচ্চু বলেন, রুপাতলীর সুমন মোল্লা নামে এক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে আমাদের বাস ভাংচুর এবং শ্রমিকদের মারধর করা হয়। আমরা সুমন মোল্লার বিচার এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারসহ সব সরকারি দায়িত্বশীলদের কাছে আবেদন করেছি। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, বিষয়টির সঙ্গে বরিশাল রুপাতলী বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিকরা জড়িত। তাই বিভাগীয় কমিশনার এবং বরিশালের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে একটা মীমাংসার চেষ্টা করছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন