চিরকুট লিখে পরকীয়ায় অতিষ্ঠ অভিনেতার স্ত্রীর আত্মহত্যা
jugantor
চিরকুট লিখে পরকীয়ায় অতিষ্ঠ অভিনেতার স্ত্রীর আত্মহত্যা

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

২৩ মার্চ ২০২১, ২২:৪৮:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে স্বামীর পরকীয়ায় অতিষ্ঠ এক অভিনেতার স্ত্রী রাগে ক্ষোভে অভিমানে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন। নিজ শয়নকক্ষে গলায় ওড়না বেঁধে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের চাউনা ঘোড়াকান্দা গ্রাম থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজধানীর শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ধামরাই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওই গৃহবধূর নাম রোমানা আক্তার রোমি (২১)। তিনি ঘোড়াকান্দা গ্রামের মো. আব্বাস আলীর মেয়ে ও চাউনা ঘোড়াকান্দা গ্রামের মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী।

প্রতিবেশীরা জানান, অর্থের লোভে শর্টফিল্ম অভিনেতা জাকির হোসেন ৪-৫ বছর আগে পাশের ঘোড়াকান্দা এলাকার মো. আব্বাস আলীর ষোড়শী কন্যা রোমানা আক্তার রোমিকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর কিশোরী ওই গৃহবধূর ওপর নেমে আসে চরম দুর্ভোগ ও দুর্গতি। স্বামীর পরকীয়া প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের প্রতিনিয়ত ঝগড়া বিবাদের কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে।

স্বামীকে কোনোভাবেই বাগে আনতে না পেরে ৪-৫ দিন আগে ওই গৃহবধূ রাগে ক্ষোভে অভিমানে সুয়াপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের তার নানাশ্বশুর মো. আব্দুল জলিল মিয়ার বাড়িতে চলে যান।
নানাশ্বশুর অনেক বুঝিয়ে সোমবার সকালে নাতিবউকে তার শ্বশুরালয়ে পাঠান।

স্ত্রী বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করলেও জাকির তার প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন না করে উল্টো পরকীয়া প্রেমিকাদের সঙ্গে মোবাইল চ্যাটিংয়ে মেতে উঠেন। এতে স্ত্রী বিরক্ত হয়ে স্বামীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলারও চেষ্টা করেন।

মঙ্গলবার সকালে স্ত্রীর বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেই জাকির হোসেন সাভারে তার পরকীয়া প্রেমিকাদের সঙ্গে ডেটিংয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে জাকিরের সঙ্গে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে শেষ কথোপকথন হয়। স্ত্রী তাকে বারবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে ফিরে না আসলে আত্মহত্যা করার কথাও বলেন রোমি।

এতেও জাকির বাড়ি ফিরে না আসলে একটি ডায়েরির ভেতর নিজ হাতে একটি চিরকুট লিখে নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ মরদেহ ও চিরকুট উদ্ধার করেছে।

চিরকুটে লেখা রয়েছে- পরিবারের অত্যাচার আর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আমি আমি মৃত্যুবরণ করলাম। এজন্য কেউ দায়ী নয়। আমার এ মৃত্যুর জন্য আমার ভাগ্য ও আমিই দায়ী।

ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিরকুট লিখে পরকীয়ায় অতিষ্ঠ অভিনেতার স্ত্রীর আত্মহত্যা

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
২৩ মার্চ ২০২১, ১০:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে স্বামীর পরকীয়ায় অতিষ্ঠ এক অভিনেতার স্ত্রী রাগে ক্ষোভে অভিমানে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন। নিজ শয়নকক্ষে গলায় ওড়না বেঁধে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের চাউনা ঘোড়াকান্দা গ্রাম থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজধানীর শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ধামরাই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওই গৃহবধূর নাম রোমানা আক্তার রোমি (২১)। তিনি ঘোড়াকান্দা গ্রামের মো. আব্বাস আলীর মেয়ে ও চাউনা ঘোড়াকান্দা গ্রামের মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী।

প্রতিবেশীরা জানান, অর্থের লোভে শর্টফিল্ম অভিনেতা জাকির হোসেন ৪-৫ বছর আগে পাশের ঘোড়াকান্দা এলাকার মো. আব্বাস আলীর ষোড়শী কন্যা রোমানা আক্তার রোমিকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর কিশোরী ওই গৃহবধূর ওপর নেমে আসে চরম দুর্ভোগ ও দুর্গতি। স্বামীর পরকীয়া প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের প্রতিনিয়ত ঝগড়া বিবাদের কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে।

স্বামীকে কোনোভাবেই বাগে আনতে না পেরে ৪-৫ দিন আগে ওই গৃহবধূ রাগে ক্ষোভে অভিমানে সুয়াপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের তার নানাশ্বশুর মো. আব্দুল জলিল মিয়ার বাড়িতে চলে যান।
নানাশ্বশুর অনেক বুঝিয়ে সোমবার সকালে নাতিবউকে তার শ্বশুরালয়ে পাঠান।

স্ত্রী বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করলেও জাকির তার প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন না করে উল্টো পরকীয়া প্রেমিকাদের সঙ্গে মোবাইল চ্যাটিংয়ে মেতে উঠেন। এতে স্ত্রী বিরক্ত হয়ে স্বামীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলারও চেষ্টা করেন।

মঙ্গলবার সকালে স্ত্রীর বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেই জাকির হোসেন সাভারে তার পরকীয়া প্রেমিকাদের সঙ্গে ডেটিংয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে জাকিরের সঙ্গে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে শেষ কথোপকথন হয়। স্ত্রী তাকে বারবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে ফিরে না আসলে আত্মহত্যা করার কথাও বলেন রোমি।

এতেও জাকির বাড়ি ফিরে না আসলে একটি ডায়েরির ভেতর নিজ হাতে একটি চিরকুট লিখে নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ মরদেহ ও চিরকুট উদ্ধার করেছে।

চিরকুটে লেখা রয়েছে- পরিবারের অত্যাচার আর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আমি আমি মৃত্যুবরণ করলাম। এজন্য কেউ দায়ী নয়। আমার এ মৃত্যুর জন্য আমার ভাগ্য ও আমিই দায়ী।

ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন