কোটি টাকার পরী পালঙ্ক!
jugantor
কোটি টাকার পরী পালঙ্ক!

  সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি থেকে  

২৫ মার্চ ২০২১, ১৩:০৮:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

কোটি টাকার পরী পালঙ্ক!

সেগুন কাঠ দিয়ে পরী পালঙ্ক বানিয়েছেন খাগড়াছড়ির গুঁইমারা উপজেলা শহরের মো. নুরুন্নবী। ওই পালঙ্কে রয়েছে কাঠের কারুকাজ করা ১৬ পরী। পালঙ্ক বানাতে সময় লেগেছে তিন বছর দুই মাস। ওই দৃষ্টিনন্দন পালঙ্কটির দাম প্রায় কোটি টাকা। তবে সেটি এখনও বিক্রি হয়নি বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দৃষ্টিনন্দন পালঙ্কটির চার কোনায় বড় চারটি পরী ও মাঝারি চারটি পরী এবং দুই প্রান্তে রয়েছে আটটি ছোট পরী। ওই খাটে বড় চার পরীর হাতে দেওয়া হয়েছে চারটি প্রজাপতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খাটের ছবি ছড়িয়ে পড়লে এটি দেখতে অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

জানা যায়, গুঁইমারার নুরুন্নবীর বাড়িতে ২০১৭ সালে শুরু হয় ওই পরী পালঙ্ক তৈরির কাজ। চলতি বছরের ১৬ মার্চ কাজ শেষ হয়েছে।

খাটটি তৈরি করতে মো. আবু বক্কর দীর্ঘ সময়ের এই কাজের পারিশ্রমিক নিয়েছেন ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটি তৈরি করতে কাঠ লেগেছে প্রায় ১০০ ঘনফুট। আবু বক্কর কোনো নকশার অনুকরণ ছাড়া পালঙ্ক তৈরি করেছেন।

আবু বক্কর জানান, ১৪ বছর বয়সে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি ফার্নিচার দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর চার বছরের মধ্যে পরিপূর্ণ কারিগর হয়ে ওঠেন। এর পর তিন বছর আগে তিনি এই কাজের চুক্তি নিয়ে নেন। তিন বছর দুই মাসে তিনি কাজ শেষ করেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ তিন বছর আগে এই পালঙ্ক তৈরির চুক্তি নিয়েছি। সম্পূর্ণ নিজের ডিজাইনে এই পালঙ্ক আমি বানিয়েছি। এই খাটের পারিশ্রমিক চুক্তি অনুসারে নিয়েছি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নুরন্নবী জানান, ভিন্ন কিছু করার ভাবনা থেকেই ব্যতিক্রমী একটি খাট তৈরির চিন্তা করেন তিনি। তিন বছর আগে কাঠ সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হয়। তিন বছর দুই মাস পর স্বপ্নের পূর্ণতা লাভ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় নেওয়ার জন্যই এই খাটটি তিনি তৈরি করেছেন। এটি তৈরি করতে আবু বক্করের ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকসহ মোট ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। পরী পালঙ্কটি মসৃণ করতে চারজন শ্রমিকের সময় লেগেছে এক মাস ১৯ দিন। এই খাটটির দাম ধরা হবে এক কোটি টাকা। ইতিমধ্যে ঢাকার এক বড় কর্মকর্তা খাটটি ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন।

ওই খাটটি দেখতে স্থানীয়রা ছাড়াও ঢাকা থেকে কিছু শৌখিন ব্যক্তি তার বাড়িতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কোটি টাকার পরী পালঙ্ক!

 সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি থেকে 
২৫ মার্চ ২০২১, ০১:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কোটি টাকার পরী পালঙ্ক!
ছবি: যুগান্তর

সেগুন কাঠ দিয়ে পরী পালঙ্ক বানিয়েছেন খাগড়াছড়ির গুঁইমারা উপজেলা শহরের মো. নুরুন্নবী। ওই পালঙ্কে রয়েছে কাঠের কারুকাজ করা ১৬ পরী। পালঙ্ক বানাতে সময় লেগেছে তিন বছর দুই মাস। ওই দৃষ্টিনন্দন পালঙ্কটির দাম প্রায় কোটি টাকা। তবে সেটি এখনও বিক্রি হয়নি বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দৃষ্টিনন্দন পালঙ্কটির চার কোনায় বড় চারটি পরী ও মাঝারি চারটি পরী এবং দুই প্রান্তে রয়েছে আটটি ছোট পরী। ওই খাটে বড় চার পরীর হাতে দেওয়া হয়েছে চারটি প্রজাপতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খাটের ছবি ছড়িয়ে পড়লে এটি দেখতে অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

জানা যায়, গুঁইমারার নুরুন্নবীর বাড়িতে ২০১৭ সালে শুরু হয় ওই পরী পালঙ্ক তৈরির কাজ। চলতি বছরের ১৬ মার্চ কাজ শেষ হয়েছে।

খাটটি তৈরি করতে মো. আবু বক্কর দীর্ঘ সময়ের এই কাজের পারিশ্রমিক নিয়েছেন ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটি তৈরি করতে কাঠ লেগেছে প্রায় ১০০ ঘনফুট। আবু বক্কর কোনো নকশার অনুকরণ ছাড়া পালঙ্ক তৈরি করেছেন।

আবু বক্কর জানান, ১৪ বছর বয়সে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি ফার্নিচার দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর চার বছরের মধ্যে পরিপূর্ণ কারিগর হয়ে ওঠেন। এর পর তিন বছর আগে তিনি এই কাজের চুক্তি নিয়ে নেন। তিন বছর দুই মাসে তিনি কাজ শেষ করেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ তিন বছর আগে এই পালঙ্ক তৈরির চুক্তি নিয়েছি। সম্পূর্ণ নিজের ডিজাইনে এই পালঙ্ক আমি বানিয়েছি। এই খাটের পারিশ্রমিক চুক্তি অনুসারে নিয়েছি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নুরন্নবী জানান, ভিন্ন কিছু করার ভাবনা থেকেই ব্যতিক্রমী একটি খাট তৈরির চিন্তা করেন তিনি। তিন বছর আগে কাঠ সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হয়। তিন বছর দুই মাস পর স্বপ্নের পূর্ণতা লাভ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় নেওয়ার জন্যই এই খাটটি তিনি তৈরি করেছেন। এটি তৈরি করতে আবু বক্করের ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকসহ মোট ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। পরী পালঙ্কটি মসৃণ করতে চারজন শ্রমিকের সময় লেগেছে এক মাস ১৯ দিন। এই খাটটির দাম ধরা হবে এক কোটি টাকা। ইতিমধ্যে ঢাকার এক বড় কর্মকর্তা খাটটি ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন।

ওই খাটটি দেখতে স্থানীয়রা ছাড়াও ঢাকা থেকে কিছু শৌখিন ব্যক্তি তার বাড়িতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর