সাদাকাগজে ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়েছেন এমপির ভাই!
jugantor
সাদাকাগজে ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়েছেন এমপির ভাই!

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৫ মার্চ ২০২১, ১৮:৪৬:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী-৪ আসনের (বাগমারা) এমপি এনামুল হকের ভাই রেজাউল করিম ল্যাদার বিরুদ্ধে উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের তিন সদস্যের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাদের মধ্যে সংরক্ষিত দুইজন নারী সদস্যকে বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং একজন পুরুষ সদস্যকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে সাদাকাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই ইউপি সদস্যরা।

এ সময় তারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের বিরুদ্ধে ওই তিনজনসহ মোট ৯ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়।

তবে নয়জনের মধ্যে সাতজনেরই ওই অভিযোগে স্বাক্ষর জাল করে দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয়। তবে ভাই রেজাউল করিম ল্যাদার এমন অপকর্মের বিরোধিতা করে এমপি এনামুল ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগী সদস্যদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান। এ সময় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমাকে বাজার থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে গত ২১ মার্চ এমপি এনামুলের ভাই রেজাউল করিম ল্যাদা সাদাকাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। পরে তিনি জানতে পারেন ওই স্বাক্ষর দিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন রেজাউল করিম ল্যাদা।

সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য মর্জিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ২১ মার্চ রাতে রেজাউল করিম ল্যাদা ১০-১২ জনের একটি দল নিয়ে আমার বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে। এরপর আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদাকাগজে স্বাক্ষর নেয়। একই অভিযোগ করেন আরেক নারী সদস্য পলি বেগম।

তিনি বলেন, আমরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি। কারণ তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। কিন্তু এমপির ভাই জোর করে আমার কাছ থেকে সাদাকাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমরা এমপির কাছেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছি। তিনি আমাদের পক্ষেই আছেন। তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ, নুর মোহাম্মদ ও হাফিজুর রহমান।

তবে এমপি এনামুল হকের ভাই রেজাউল করিম ল্যাদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান আসকান তার অনিয়ম থেকে বাঁচতে ইউপি সদস্যদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এখন মিথ্যা অভিযোগ করাচ্ছেন। আমি কারও স্বাক্ষর জাল করিনি বা জোর করে নেইনি।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের অপসারণ দাবি করে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। এতে ৯ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর ছিল।

সাদাকাগজে ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়েছেন এমপির ভাই!

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৫ মার্চ ২০২১, ০৬:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী-৪ আসনের (বাগমারা) এমপি এনামুল হকের ভাই রেজাউল করিম ল্যাদার বিরুদ্ধে উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের তিন সদস্যের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

তাদের মধ্যে সংরক্ষিত দুইজন নারী সদস্যকে বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং একজন পুরুষ সদস্যকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে সাদাকাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। 

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই ইউপি সদস্যরা।

এ সময় তারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের বিরুদ্ধে ওই তিনজনসহ মোট ৯ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়। 

তবে নয়জনের মধ্যে সাতজনেরই ওই অভিযোগে স্বাক্ষর জাল করে দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয়। তবে ভাই রেজাউল করিম ল্যাদার এমন অপকর্মের বিরোধিতা করে এমপি এনামুল ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগী সদস্যদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান। এ সময় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমাকে বাজার থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে গত ২১ মার্চ এমপি এনামুলের ভাই রেজাউল করিম ল্যাদা সাদাকাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। পরে তিনি জানতে পারেন ওই স্বাক্ষর দিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন রেজাউল করিম ল্যাদা। 

সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য মর্জিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ২১ মার্চ রাতে রেজাউল করিম ল্যাদা ১০-১২ জনের একটি দল নিয়ে আমার বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে। এরপর আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদাকাগজে স্বাক্ষর নেয়। একই অভিযোগ করেন আরেক নারী সদস্য পলি বেগম। 

তিনি বলেন, আমরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি। কারণ তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। কিন্তু এমপির ভাই জোর করে আমার কাছ থেকে সাদাকাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমরা এমপির কাছেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছি। তিনি আমাদের পক্ষেই আছেন। তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ, নুর মোহাম্মদ ও হাফিজুর রহমান।

তবে এমপি এনামুল হকের ভাই রেজাউল করিম ল্যাদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান আসকান তার অনিয়ম থেকে বাঁচতে ইউপি সদস্যদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এখন মিথ্যা অভিযোগ করাচ্ছেন। আমি কারও স্বাক্ষর জাল করিনি বা জোর করে নেইনি।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের অপসারণ দাবি করে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। এতে ৯ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর ছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন