স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অপমানে ফজরের নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধের মৃত্যু
jugantor
স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অপমানে ফজরের নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধের মৃত্যু

  উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

৩১ মার্চ ২০২১, ১৮:২৭:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটনার অপমান সইতে না পেরে সালিশ বৈঠকের আগের দিন ফজরের নামাজরত অবস্থায় ভুক্তভোগীর স্বামীর (৭০) মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার ভোরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান বলে পরিবারের দাবি।

এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন দুর্গমচর গুজিমারী গ্রামে। বৃদ্ধের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সরেজমিন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে ওই ষাটোর্ধ বৃদ্ধা ২২ মার্চ সকালে নদীতে গোসল করতে যান। এ সময় তাকে একা পেয়ে প্রতিবেশী মজা শেখের পুত্র চার সন্তানের জনক মুনসুর আলী (৬২) জোরপূর্বক জাপটে ধরে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। এ সময় তার পরিধেয় কাপড় ছিঁড়ে যায়। এ অবস্থায় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই বৃদ্ধা দৌড়ে বাড়িতে এসে তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি খুলে বলেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মাতবররা আপস মীমাংসার চেষ্টা চালান। বুধবার বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করেন মাতবররা। এ সুযোগে মুনসুর আলী গা-ঢাকা দেন।

এদিকে স্ত্রীর ওপর এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি বৃদ্ধার স্বামী। এ ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। এরই একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজরত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। স্ত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় তার মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীর স্বামী অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। স্ত্রীর এমন ঘটনায় বৈঠক বসার কথায় বিব্রত হন তিনি। মিটিংয়ে এসব কথা শোনার আগে আল্লাহ যেন তার মরণ দেন। স্ত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

সালিশ বৈঠকের আগেই গত মঙ্গলবার সকালে ফজরের নামাজরত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে মসজিদের পার্শ্বে একটি বাড়িতে আনা হয়। পরিবারের লোকজন দাবি করেন সেখানেই মারা যান তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, মুনসুর আলী এর আগেও এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ওই সময় স্থানীয় মাতবরদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যান মুনসুর।

সাহেবের আলগা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্ত্রীর কাছে এ ঘটনা শোনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই বৃদ্ধ। সালিশ বৈঠকে বসতে মত ছিল না তার। বৈঠকে স্ত্রীর ওপর শ্লীলতাহানির কথা শোনার আগে আল্লাহ যেন তার মৃত্যু দেয়- এমন দোয়া চেয়েছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকেই মুনসুর পলাতক রয়েছে।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই মুনসুর আলীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অপমানে ফজরের নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধের মৃত্যু

 উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
৩১ মার্চ ২০২১, ০৬:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটনার অপমান সইতে না পেরে সালিশ বৈঠকের আগের দিন ফজরের নামাজরত অবস্থায় ভুক্তভোগীর স্বামীর (৭০) মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার ভোরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান বলে পরিবারের দাবি।

এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন দুর্গমচর গুজিমারী গ্রামে। বৃদ্ধের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সরেজমিন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে ওই ষাটোর্ধ বৃদ্ধা ২২ মার্চ সকালে নদীতে গোসল করতে যান। এ সময় তাকে একা পেয়ে প্রতিবেশী মজা শেখের পুত্র চার সন্তানের জনক মুনসুর আলী (৬২) জোরপূর্বক জাপটে ধরে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। এ সময় তার পরিধেয় কাপড় ছিঁড়ে যায়। এ অবস্থায় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই বৃদ্ধা দৌড়ে বাড়িতে এসে তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি খুলে বলেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মাতবররা আপস  মীমাংসার চেষ্টা চালান। বুধবার বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করেন মাতবররা। এ সুযোগে মুনসুর আলী গা-ঢাকা দেন।

এদিকে স্ত্রীর ওপর এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি বৃদ্ধার স্বামী। এ ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। এরই একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজরত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। স্ত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় তার মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীর স্বামী অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। স্ত্রীর এমন ঘটনায় বৈঠক বসার কথায় বিব্রত হন তিনি। মিটিংয়ে এসব কথা শোনার আগে আল্লাহ যেন তার মরণ দেন। স্ত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

সালিশ বৈঠকের আগেই গত মঙ্গলবার সকালে ফজরের নামাজরত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে মসজিদের পার্শ্বে একটি বাড়িতে আনা হয়। পরিবারের লোকজন দাবি করেন সেখানেই মারা যান তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, মুনসুর আলী এর আগেও এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ওই সময় স্থানীয় মাতবরদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যান মুনসুর।

সাহেবের আলগা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্ত্রীর কাছে এ ঘটনা শোনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই বৃদ্ধ। সালিশ বৈঠকে বসতে মত ছিল না তার। বৈঠকে স্ত্রীর ওপর শ্লীলতাহানির কথা শোনার আগে আল্লাহ যেন তার মৃত্যু দেয়- এমন দোয়া চেয়েছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকেই মুনসুর পলাতক রয়েছে।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই মুনসুর আলীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন