পিতা-মাতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত মুফতি ওয়াক্কাস
jugantor
পিতা-মাতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত মুফতি ওয়াক্কাস

  মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি  

৩১ মার্চ ২০২১, ২২:৪৪:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পিতা-মাতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও তিনবারের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। বুধবার মাগরিববাদ নিজ গ্রাম বিজয়রামপুরে তার হাতে গড়া জামেয়া ইমদাদিয়া মাদানীনগর কওমি মাদ্রাসা ময়দানে সর্বস্তরের লাখো জনতার উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি তিন ছেলে ও চার মেয়ে নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন, জেলা বিএনপি নেতা মো. মুছা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বশির আহম্মেদ খান, গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম ওলামারা।

এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো সকাল থেকেই জানাজার আগপর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো জনতা মরহুমের বাড়িতে ছুটে আসেন এবং জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

মরহুমের বড়সন্তান মুফতি আব্দুল রশিদ জানান, তিনি হার্ট, কিডনি এবং ফুসফুসজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২২ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে নেওয়া হয় শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মুফতি ওয়াক্কাস কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের সহ-সভাপতি ও হেফাজত ইসলামের সাবেক নায়েবে আমীর। বর্তমানে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় একাংশের চেয়ারম্যান এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইমদাদীয়া মাদানীনগর কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

জানা যায়, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস ১৯৫২ সালের ১ নভেম্বর যশোরের মনিরামপুর পৌর এলাকার বিজয়রামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত মোহাম্মদ ইসহাক মোড়ল ছিলেন একজন কৃষক। স্থানীয় সুন্দলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে লাউড়ী রামনগর কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তার প্রখর মেধা ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে মাদ্রাসার তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট হযরত মাওলানা তাজাম্মুল হুসাইনের নেক নজরে পড়েন।

একপর্যায় হযরত মাওলানা তাজাম্মুল হুসাইনের বায়াত নিয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি (মাওলানা তাজাম্মুল হুসাইন) ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী। মুফতি ওয়াক্কাসও দেওবন্দ ভাবাপন্ন হয়ে উঠেন। এই মাদ্রাসা হতে মাদ্রাসা বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান করে দাখিল, আলিম ও ফাজিল পাস করেন।

১৯৭১ সালে মাদারীপুর জেলার বাহাদুরপুর শরীয়তীয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রথম শ্রেণিতে কামিল পাস করেন। ১৯৭২ সালে মনিরামপুর ডিগ্রি কলেজ (বর্তমান সরকারি) থেকে এইসএসসি পাস করে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে মওকুপ আলাইহি, দাওরায়ে হাদিস, তাকমিলে দ্বীনিয়াত ও মেধা তালিকায় প্রথমস্থান করে ইফতা পাস করেন।

বাড়িতে ফিরে এলে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনুরোধে ও হযরত মাওলানা তাজাম্মুল হুসাইনের সম্মতি নিয়ে ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি (স্বতন্ত্র) নির্বাচিত হন। তৎকালীন শাসক দল জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে প্রথমে জাতীয় সংসদের হুইপ এবং পরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হন। পরে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি হন।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোট হলে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ফের এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।

পিতা-মাতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত মুফতি ওয়াক্কাস

 মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি 
৩১ মার্চ ২০২১, ১০:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পিতা-মাতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও তিনবারের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। বুধবার মাগরিববাদ নিজ গ্রাম বিজয়রামপুরে তার হাতে গড়া জামেয়া ইমদাদিয়া মাদানীনগর কওমি মাদ্রাসা ময়দানে সর্বস্তরের লাখো জনতার উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি তিন ছেলে ও চার মেয়ে নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন, জেলা বিএনপি নেতা মো. মুছা,  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বশির আহম্মেদ খান, গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম ওলামারা।

এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো সকাল থেকেই জানাজার আগপর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো জনতা মরহুমের বাড়িতে ছুটে আসেন এবং জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

মরহুমের বড়সন্তান মুফতি আব্দুল রশিদ জানান, তিনি হার্ট, কিডনি এবং ফুসফুসজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২২ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে নেওয়া হয় শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মুফতি ওয়াক্কাস কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের সহ-সভাপতি ও হেফাজত ইসলামের সাবেক নায়েবে আমীর। বর্তমানে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় একাংশের চেয়ারম্যান এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইমদাদীয়া মাদানীনগর কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

জানা যায়, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস ১৯৫২ সালের ১ নভেম্বর যশোরের মনিরামপুর পৌর এলাকার বিজয়রামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত মোহাম্মদ ইসহাক মোড়ল ছিলেন একজন কৃষক। স্থানীয় সুন্দলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে লাউড়ী রামনগর কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তার প্রখর মেধা ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে মাদ্রাসার তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট হযরত মাওলানা তাজাম্মুল হুসাইনের নেক নজরে পড়েন।

একপর্যায় হযরত মাওলানা তাজাম্মুল হুসাইনের বায়াত নিয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি (মাওলানা তাজাম্মুল হুসাইন) ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী। মুফতি ওয়াক্কাসও দেওবন্দ ভাবাপন্ন হয়ে উঠেন। এই মাদ্রাসা হতে মাদ্রাসা বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান করে দাখিল, আলিম ও ফাজিল পাস করেন।

১৯৭১ সালে মাদারীপুর জেলার বাহাদুরপুর শরীয়তীয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রথম শ্রেণিতে কামিল পাস করেন। ১৯৭২ সালে মনিরামপুর ডিগ্রি কলেজ (বর্তমান সরকারি) থেকে এইসএসসি পাস করে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে মওকুপ আলাইহি, দাওরায়ে হাদিস, তাকমিলে দ্বীনিয়াত ও মেধা তালিকায় প্রথমস্থান করে ইফতা পাস করেন।

বাড়িতে ফিরে এলে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনুরোধে ও হযরত মাওলানা তাজাম্মুল হুসাইনের সম্মতি নিয়ে ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি (স্বতন্ত্র) নির্বাচিত হন। তৎকালীন শাসক দল জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে প্রথমে জাতীয় সংসদের হুইপ এবং পরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হন। পরে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি হন।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোট হলে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ফের এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন