সরকারি চাল চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ
jugantor
সরকারি চাল চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

  যুগান্তর প্রতিবেদন, ভোলা  

০১ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৭:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে সরকারি চাল চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের চর জাঙ্গালিয়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মো. সমশের আলীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ভোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন মামলার আসামি মো. মজিবল হক পালোয়ান ও মো. ইউছুফ আলী পালোয়ান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মজিবল হক পালোয়ান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বছরের ২৭ নভেম্বর জুমার নামাজের পর আমাকে ও আমর ছোটভাই মো. ইউছুফ আলী পালোয়ানকে ওই এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে সমশের আলী সরকারি চাল চুরির মিথ্যা অপবাদ সাজিয়ে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দিয়ে আটক করে।

তিনি বলেন, আটকের সময় আমি কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত কেউ আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়নি। পরে আমি লোকের মাধ্যমে জানতে পারি চর জাঙ্গালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন নুরানী মাদ্রাসার নামে এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়। সে চাল আত্মসাতের অভিযোগে ওই মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মো. সমশের আলী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের আটক করায়।

তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলায় আমাদের দুইজনকে দেড় মাস জেল খাটায়। কিন্তু কবে কখন কে বা কাহারা এ চাল বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছে এবং কে এ চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে আমি কিছুই জানি না।

লিখিত বক্তব্যে মো. মজিবল হক পালোয়ান বলেন, জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আমরা বিষয়টি সন্ধানে গিয়ে দেখতে পাই, চর জাঙ্গালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন নুরানী মাদ্রাসার নামে ভোলার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে গত বছরের ১০ অক্টোবর এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়। সেই চাল চর জাঙ্গালিয়া ৮নং ওয়ার্ডের এসহাক দালালের ছেলে মো. ইউছুফ আলী দালাল ১৮ অক্টোবর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের বিলি আদেশে স্বাক্ষর দিয়ে উত্তোলন করেন। পরে চালগুলো ইউছুফ আলী দালাল ও সমশের আলী মিলে আত্মসাৎ করে।

তিনি বলেন, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তারা নিজেদের বাঁচাতে মিথ্যা অভিযোগে আমাদের ফাঁসিয়ে দেয়। এমনকি আটকের দিন আমার ভাই ইউছুফ আলী পালোয়ানের ঘর থেকে এক বস্তা রেশন কার্ডের চাল ও সাত বস্তা বাজার থেকে ক্রয়কৃত প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা চাল জব্দ করে সরকারি চাল বলে প্রচার করা হয়।

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমশের আলী এর আগে জাঙ্গালিয়া বাজারে সরকারি জমি দখল করে দোকান করার সময় মজিবল হক প্রতিবাদ করায় তাকে এ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাই তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আবু তাহের, মো. হানিফ, আবু মাল ও মো. ইউছুফ আলী পালোয়ান।

এ ব্যাপারে সমশের আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মজিবল হক পালোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে লোকজন নিয়ে তার ভাই ইউছুফ আলী পালোয়ানের ঘর থেকে আট বস্তা চাল উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন, আমি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এসিল্যান্ড স্যারের কথায় আমি মামলার বাদী হয়েছি। এছাড়া তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। মামলার বাদী হওয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।

ভোলা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা সরেজমিন গিয়ে মজিবল হকের ভাই ইউছুফের ঘর থেকে আট বস্তা চাল উদ্ধার করি। পরে মজিবল হক ও তার ভাই ইউছুফকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করি।

সরকারি চাল চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

 যুগান্তর প্রতিবেদন, ভোলা 
০১ এপ্রিল ২০২১, ১০:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে সরকারি চাল চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের চর জাঙ্গালিয়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মো. সমশের আলীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ভোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন মামলার আসামি মো. মজিবল হক পালোয়ান ও মো. ইউছুফ আলী পালোয়ান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মজিবল হক পালোয়ান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বছরের ২৭ নভেম্বর জুমার নামাজের পর আমাকে ও আমর ছোটভাই মো. ইউছুফ আলী পালোয়ানকে ওই এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে সমশের আলী সরকারি চাল চুরির মিথ্যা অপবাদ সাজিয়ে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দিয়ে আটক করে।

তিনি বলেন, আটকের সময় আমি কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত কেউ আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়নি। পরে আমি লোকের মাধ্যমে জানতে পারি চর জাঙ্গালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন নুরানী মাদ্রাসার নামে এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়। সে চাল আত্মসাতের অভিযোগে ওই মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মো. সমশের আলী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের আটক করায়।

তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলায় আমাদের দুইজনকে দেড় মাস জেল খাটায়। কিন্তু কবে কখন কে বা কাহারা এ চাল বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছে এবং কে এ চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে আমি কিছুই জানি না।

লিখিত বক্তব্যে মো. মজিবল হক পালোয়ান বলেন, জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আমরা বিষয়টি সন্ধানে গিয়ে দেখতে পাই, চর জাঙ্গালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন নুরানী মাদ্রাসার নামে ভোলার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে গত বছরের ১০ অক্টোবর এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়। সেই চাল চর জাঙ্গালিয়া ৮নং ওয়ার্ডের এসহাক দালালের ছেলে মো. ইউছুফ আলী দালাল ১৮ অক্টোবর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের বিলি আদেশে স্বাক্ষর দিয়ে উত্তোলন করেন। পরে চালগুলো ইউছুফ আলী দালাল ও সমশের আলী মিলে আত্মসাৎ করে।

তিনি বলেন, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তারা নিজেদের বাঁচাতে মিথ্যা অভিযোগে আমাদের ফাঁসিয়ে দেয়। এমনকি আটকের দিন আমার ভাই ইউছুফ আলী পালোয়ানের ঘর থেকে এক বস্তা রেশন কার্ডের চাল ও সাত বস্তা বাজার থেকে ক্রয়কৃত প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা চাল জব্দ করে সরকারি চাল বলে প্রচার করা হয়।

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমশের আলী এর আগে জাঙ্গালিয়া বাজারে সরকারি জমি দখল করে দোকান করার সময় মজিবল হক প্রতিবাদ করায় তাকে এ  মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাই তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আবু তাহের, মো. হানিফ, আবু মাল ও মো. ইউছুফ আলী পালোয়ান।

এ ব্যাপারে সমশের আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মজিবল হক পালোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে লোকজন নিয়ে তার ভাই ইউছুফ আলী পালোয়ানের ঘর থেকে আট বস্তা চাল উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন, আমি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এসিল্যান্ড স্যারের কথায় আমি মামলার বাদী হয়েছি। এছাড়া তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। মামলার বাদী হওয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।

ভোলা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা সরেজমিন গিয়ে মজিবল হকের ভাই ইউছুফের ঘর থেকে আট বস্তা চাল উদ্ধার করি। পরে মজিবল হক ও তার ভাই ইউছুফকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন