‘পীরের’ আস্তানায় যুবকের লাশ
jugantor
‘পীরের’ আস্তানায় যুবকের লাশ

  কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি  

০২ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৩:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কথিত পীরের আস্তানা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার নাম সামছুল হক (৪৫) বলে দাবি করেছেন ওই পীর। তবে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় কিশোরগঞ্জ-তারাগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন মুশা গড়েরপারে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ওই রোগীর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, সদর ইউনিয়নের মুশা গড়েরপার গ্রামের মৃত আহাম্মাদ আলীর ছেলে আশরাফ আলী প্রথমে লেপ তোশকের ব্যবসা করছিলেন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জের ফুটপাতে আংটি, ব্রেসলেট ও তাবিজ বিক্রি করে সংসার চালাতেন। হঠাৎ এসব বাদ দিয়ে দরজায় কাটাপীর দরবার শরীফ... লিখে বাড়ির ভিতরে আস্তানা গেড়ে কবিরাজি চালু করেন। বাড়িতে অনুসারীদের অবস্থান ও গাঁজা সেবনসহ তার ভণ্ডামি কার্যকলাপ দেখে পরিবারের লোকজন অন্যত্র থাকেন।

বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাড়িতে রোগী মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় তার আস্তানায় লাশ, চিকিৎসা সামগ্রীসহ পীর আশরাফ আলী ও তার দুই অনুসারীকে দেখতে পান। পীর ও তার অনুসারীদের হ্যান্ডকাফ পরানোর পর তাদের অসংলগ্ন আচরণ ও কথাবার্তায় এক পর্যায়ে হ্যান্ডকাফ খুলে দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কাটাপীর আশরাফ আলী তার আস্তানায় ওই রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে বলেন, অসুস্থ রোগীকে রোববার রাস্তা থেকে এনেছি। চিকিৎসা দিয়ে সেবা করার চেষ্টাকালে তার মৃত্যু হয়েছে। তার রুহু জান্নাতে গেছে। আমার রুহু তার সঙ্গে আছে। মৃত রোগীর নাম সামছুল। বাড়ির ঠিকানা কচুয়া, আর কিছু জানি না।

এ সময় পুলিশ ও উপস্থিত লোকজন তার দুই অনুসারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কারও কোনো কথায় তারা কর্ণপাত করেন না এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন না। পরে পীর আশরাফের হুকুমে এক অনুসারী ভিন্ন ভাষায় কথা বলায় এলাকাবাসী তাকে রোহিঙ্গা হিসেবে সন্দেহ করেন। অপর একজন অনুসারী কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার খোকনের ছেলে তুফান বলে নিজের পরিচয় দেন।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এটা নরমাল ডেথ মনে হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআই এসেছিল। সম্ভবত তার এনআইডি কার্ড হয়নি। এ কারণে তার ফিঙ্গার ম্যাচ করেনি। তাই এখন পর্যন্ত লাশের পরিচয় মেলেনি।

‘পীরের’ আস্তানায় যুবকের লাশ

 কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
০২ এপ্রিল ২০২১, ১০:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কথিত পীরের আস্তানা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার নাম সামছুল হক (৪৫) বলে দাবি করেছেন ওই পীর। তবে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় কিশোরগঞ্জ-তারাগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন মুশা গড়েরপারে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ওই রোগীর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, সদর ইউনিয়নের মুশা গড়েরপার গ্রামের মৃত আহাম্মাদ আলীর ছেলে আশরাফ আলী প্রথমে লেপ তোশকের ব্যবসা করছিলেন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জের ফুটপাতে আংটি, ব্রেসলেট ও তাবিজ বিক্রি করে সংসার চালাতেন। হঠাৎ এসব বাদ দিয়ে দরজায় কাটাপীর দরবার শরীফ... লিখে বাড়ির ভিতরে আস্তানা গেড়ে কবিরাজি চালু করেন। বাড়িতে অনুসারীদের অবস্থান ও গাঁজা সেবনসহ তার ভণ্ডামি কার্যকলাপ দেখে পরিবারের লোকজন অন্যত্র থাকেন। 

বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাড়িতে রোগী মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় তার আস্তানায় লাশ, চিকিৎসা সামগ্রীসহ পীর আশরাফ আলী ও তার দুই অনুসারীকে দেখতে পান। পীর ও তার অনুসারীদের হ্যান্ডকাফ পরানোর পর তাদের অসংলগ্ন আচরণ ও কথাবার্তায় এক পর্যায়ে হ্যান্ডকাফ খুলে দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কাটাপীর আশরাফ আলী তার আস্তানায় ওই রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে বলেন, অসুস্থ রোগীকে রোববার রাস্তা থেকে এনেছি। চিকিৎসা দিয়ে সেবা করার চেষ্টাকালে তার মৃত্যু হয়েছে। তার রুহু জান্নাতে গেছে। আমার রুহু তার সঙ্গে আছে। মৃত রোগীর নাম সামছুল। বাড়ির ঠিকানা কচুয়া, আর কিছু জানি না।

এ সময় পুলিশ ও উপস্থিত লোকজন তার দুই অনুসারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কারও কোনো কথায় তারা কর্ণপাত করেন না এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন না। পরে পীর আশরাফের হুকুমে এক অনুসারী ভিন্ন ভাষায় কথা বলায় এলাকাবাসী তাকে রোহিঙ্গা হিসেবে সন্দেহ করেন। অপর একজন অনুসারী কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার খোকনের ছেলে তুফান বলে নিজের পরিচয় দেন।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এটা নরমাল ডেথ মনে হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআই এসেছিল। সম্ভবত তার এনআইডি কার্ড হয়নি। এ কারণে তার ফিঙ্গার ম্যাচ করেনি। তাই এখন পর্যন্ত লাশের পরিচয় মেলেনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন