মাটি-জ্বালানি ছাড়াই ইট তৈরির কারখানা
jugantor
মাটি-জ্বালানি ছাড়াই ইট তৈরির কারখানা

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

০৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৭:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

অসংখ্য বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা যখন পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতির জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এ হুমকির হাত থেকে রক্ষার্থে দিনাজপুরে গড়ে উঠতে শুরু করেছে আগুনে না পুড়িয়েই পাথরের গুঁড়া ও সিমেন্ট দিয়ে ইট তৈরির কারখানা।

আগুনে পোড়ানোর প্রয়োজন না পড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ উপায়ে ইট তৈরি হলে একদিকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে জমির মূল্যবান মাটি আর নষ্ট হবে না।

ইমারত নির্মাণে মান্ধাতা আমল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে আগুনে পোড়ানো ইট। সংগৃহীত কাঁচা মাটি আগুনে পুড়িয়ে তৈরি হয়ে থাকে এসব ইট। এ প্রক্রিয়ায় ইট তৈরি করতে গিয়ে একদিকে পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়ছে, অন্যদিকে উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরি করায় উর্বরশক্তি হারাচ্ছে আবাদি জমি। আর এ প্রক্রিয়ায় ইট তৈরিতে দিনাজপুরে গড়ে উঠেছে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে কয়েকশ' ইটভাটা।

এ অবস্থা রুখতে দিনাজপুরে গড়ে উঠেছে পাথরের গুঁড়া ও সিমেন্ট দিয়ে ইট তৈরির কারখানা। এতে ব্যবহৃত হচ্ছে জার্মান প্রযুক্তি। দিনাজপুর সদরের লালবাগ বাঁধ এলাকায় নদী ও কৃষিজমির পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক একটি ইট তৈরির কারখানা।

শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, জ্বালানি ও মাটির ব্যবহার ছাড়াই ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর, পঞ্চগড়ের নুড়িপাথর, পাথরের গুঁড়া, সিলেকশন সেন্ড (বালু), সিমেন্টসহ বেশকিছু উপকরণ।

শ্রমিকরা কারখানার পাশে স্তূপ করা পাথর, সিমেন্ট, সিলেকশন সেন্ড ট্রলিতে এনে হপারে ঢেলে দেয়। পরে মিক্সার মেশিনে অন্যান্য উপকরণ মিশ্রিত করে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে ভাইব্রো মাল্টি ক্যাভিটি মোল্ডিং মেশিনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় ইট। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সারি সারিভাবে মেশিন থেকে বেরিয়ে আসে পরিবেশবান্ধব ইট। ওই ইট তৈরির কারখানায় দৈনিক ২০ হাজার ইট তৈরি সম্ভব বলে জানান কারখানার মালিক।

গ্রিন বেরি ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে ওই ইট কারখানার পরিচালক গালিব হোসেন জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি, মাটির ব্যবহার ছাড়াই তৈরি করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ইট। কারখানাটিতে এখন অর্ধশত মানুষ কাজ করছেন। সরকারি নির্দেশনা মানা হলেই এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসবেন অনেকে। রক্ষা হবে উর্বর জমি ও বায়ুমণ্ডলের দূষণ। এছাড়াও এই ইট দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নির্মাণ খরচ কমানো সম্ভব।

তিনি জানান, দুই শিফটে ২০ জন করে কাজ করেন শ্রমিকরা। এছাড়া ৪ জন ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। এই অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে উন্নত বিশ্বে যা তৈরি হয়, এখানেই তা তৈরি করা যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, আগুনে না পুড়িয়েই এ প্রক্রিয়ায় ইট তৈরি করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং উর্বর জমি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এজন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রযুক্তিতে ইট তৈরিতে উৎসাহিত করছে সরকার।

মাটি-জ্বালানি ছাড়াই ইট তৈরির কারখানা

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
০৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অসংখ্য বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা যখন পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতির জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এ হুমকির হাত থেকে রক্ষার্থে দিনাজপুরে গড়ে উঠতে শুরু করেছে আগুনে না পুড়িয়েই পাথরের গুঁড়া ও সিমেন্ট দিয়ে ইট তৈরির কারখানা। 

আগুনে পোড়ানোর প্রয়োজন না পড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ উপায়ে ইট তৈরি হলে একদিকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে জমির মূল্যবান মাটি আর নষ্ট হবে না। 

ইমারত নির্মাণে মান্ধাতা আমল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে আগুনে পোড়ানো ইট। সংগৃহীত কাঁচা মাটি আগুনে পুড়িয়ে তৈরি হয়ে থাকে এসব ইট। এ প্রক্রিয়ায় ইট তৈরি করতে গিয়ে একদিকে পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়ছে, অন্যদিকে উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরি করায় উর্বরশক্তি হারাচ্ছে আবাদি জমি। আর এ প্রক্রিয়ায় ইট তৈরিতে দিনাজপুরে গড়ে উঠেছে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে কয়েকশ' ইটভাটা।

এ অবস্থা রুখতে দিনাজপুরে গড়ে উঠেছে পাথরের গুঁড়া ও সিমেন্ট দিয়ে ইট তৈরির কারখানা। এতে ব্যবহৃত হচ্ছে জার্মান প্রযুক্তি। দিনাজপুর সদরের লালবাগ বাঁধ এলাকায় নদী ও কৃষিজমির পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক একটি ইট তৈরির কারখানা। 

শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, জ্বালানি ও মাটির ব্যবহার ছাড়াই ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর, পঞ্চগড়ের নুড়িপাথর, পাথরের গুঁড়া, সিলেকশন সেন্ড (বালু), সিমেন্টসহ বেশকিছু উপকরণ।

শ্রমিকরা কারখানার পাশে স্তূপ করা পাথর, সিমেন্ট, সিলেকশন সেন্ড ট্রলিতে এনে হপারে ঢেলে দেয়। পরে মিক্সার মেশিনে অন্যান্য উপকরণ মিশ্রিত করে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে ভাইব্রো মাল্টি ক্যাভিটি মোল্ডিং মেশিনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় ইট। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সারি সারিভাবে মেশিন থেকে বেরিয়ে আসে পরিবেশবান্ধব ইট। ওই ইট  তৈরির কারখানায় দৈনিক ২০ হাজার ইট তৈরি সম্ভব বলে জানান কারখানার মালিক।

গ্রিন বেরি ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে ওই ইট কারখানার পরিচালক গালিব হোসেন জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি, মাটির ব্যবহার ছাড়াই তৈরি করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ইট। কারখানাটিতে এখন অর্ধশত মানুষ কাজ করছেন। সরকারি নির্দেশনা মানা হলেই এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসবেন অনেকে। রক্ষা হবে উর্বর জমি ও বায়ুমণ্ডলের দূষণ। এছাড়াও এই ইট দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নির্মাণ খরচ কমানো সম্ভব।

তিনি জানান, দুই শিফটে ২০ জন করে কাজ করেন শ্রমিকরা। এছাড়া ৪ জন ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। এই অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে উন্নত বিশ্বে যা তৈরি হয়, এখানেই তা তৈরি করা যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, আগুনে না পুড়িয়েই এ প্রক্রিয়ায় ইট তৈরি করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং উর্বর জমি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এজন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রযুক্তিতে ইট তৈরিতে উৎসাহিত করছে সরকার। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন